রোগীর সুস্থতাই চিকিৎসকদের ঈদের আনন্দ

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১, ২০২০

রোগীদের সুস্থতার মাঝেই চিকিৎসকরা খুঁজে পান ঈদের আনন্দ। তবে কোভিড মহামারীতে এবারের ঈদ আনন্দে সঙ্গে মিশে আছে চ্যালেঞ্জ। রোগীকে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারার আনন্দটুকুই স্বস্তি ও সাহসী করে তুলছে ফ্রণ্টলাইনারদের। সংক্রমণ রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই বলছেন চিকিৎসকরা।

একজন চিকিৎসকের শপথ আর্তেও সেবা। ঈদের দিনেও দায়িত্বে কর্তব্যে নেই কোন ব্যতিক্রম।

অন্য সময়ের তুলনায় এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কোভিড মোকাবেলায় শুরু থেকেই সামনের সারির যোদ্ধা চিকিৎসক-নার্সরা। সবাই যখন পরিজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করছে; চিকিৎসক তখন হাসপাতালে, রোগীর শয্যার পাশে।

কোভিড চিকিৎসক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, তারা যখন ডাক্তার হিসেবে কোন কাজে নিয়োজিত থাকেন তখন কোন উৎসবই তাকে ছুয়ে যায় না, রোগীর সুস্থতাই তাদের কাছে উৎসবের আনন্দ।

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটা মানুষই হচ্ছে এই সংক্রমণের নিয়ন্ত্রক, স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংক্রমণ রোধে নিজেকে মাস্ক পরতে হবে এবং তার পাশের জন পড়েছে কিনা সেটাও  নিশ্চিত করতে হবে।

কোভিড চিকিৎসক শারমিন আক্তার বলেন, রোগী যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় এটাই তাদের ঈদ।

ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ত্যাগের মহিমায় ঈদের আনন্দটুকু সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক; পৃথিবী থেকে দূর হোক মহামারীর কালো ছায়া। এমন প্রত্যাশায় সেবা-ধর্ম পালনের প্রতিজ্ঞায় সংকল্পবদ্ধ সম্মুখযোদ্ধারা।

কোভিড চিকিৎসক ডা. মুনমুন ইসলাম সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ যেন কুরবানি রুপে গ্রহন হয়, এবং পৃথিবীটা যেন সুস্থ, সুন্দর হয়ে যায়।

কোভিড চিকিৎসক ডা. ইফতেখার সুমন বলেন, চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য তারা পরিবার পরিজন থেকে দূরে আছেন, সেই রোগী যখন সুস্থ হয়ে উঠে তখন তারা ঈদের আনন্দের চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।

রোগীর সুস্থতা ও মনোবল ধরে রাখতে বিরামহীন চেষ্টা তাদের। ঈদের পরে সংক্রমণ রোধে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

পৃথিবীর দুর্দিন কেটে যাবে দ্রুত, মানুষ ফিরে যাবে তার স্বাভাবিক জীবন যাপনে, এমন প্রত্যাশা নিয়েই দায়িত্বে অবিচল চিকিৎসকরা।