ঈদ যাত্রায় মন্দা,

পরিবহণ ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ , জুলাই ২৯, ২০২০

পোশাক কর্মীদের এবার কোরবানির ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে না করা হয়েছে৷ সরকারি কর্মচারীদেরও তাই৷ ব্যাংক কর্মচারীদের একাংশও যেতে পারবেন না৷স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোরবানির ঈদে ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়৷ ৭০-৮০ লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমান৷ গত রোজার ঈদে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও অনেক মানুষ নানা বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা ছেড়েছেন৷ কিন্তু এবার গণপরিহন চললেও সেই পরিস্থিতি হবে না বলেই মনে করছেন অনেকে৷মানুষের আগ্রহ কম
মন্ত্রিপরিষদের সবশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি কর্মচারিরা ঈদের ছুটি পাবেন কিন্তু তারা কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না৷ গত ঈদেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত ছিলো৷ পোশাক কর্মীরাও ছুটি পাচ্ছেন৷ কিন্তু কেউই তাদের গ্রামের বাড়ি যেতে পারবেন না বা ঢাকা ছাড়তে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোনো শিল্প কারখানার শ্রমিকরাই কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না৷ সেই সঙ্গে ঈদের ছুটি তিন দিনের বেশি বাড়ানো হচ্ছে না৷

ব্যাংকে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে ব্রাঞ্চ ম্যনেজার এবং তার উপরের কর্মকর্তারাও কর্মস্থল ছাড়তে পারবেন না ঈদের ছুটিতে৷ তবে অন্য কর্মচারীরা নিষেধ নেই৷

মহামারির এই সময়ে কাজ হারিয়ে এবং বাসা ভাড়া দিতে না পেরে অনেকেই এরিমধ্যে গ্রামে চলে গেছেন৷ গত রোজার ঈদে যারা গ্রামে গেছেন পোশাক কর্মী ছাড়া তাদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিক কারণে আর ফিরে আসেননি৷ ফলে ঢাকায় এমনিতেই লোকজন কম৷ এবার কোরবানির ঈদে গ্রামের বাইরে যেতে সাধারণ মানুষের আগ্রহও কম৷

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সাথে কথা বলে এমনটাই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে৷ কলাবাগান এলাকার রিকশাচালক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘‘আমি একাই ঢাকায় আছি৷ স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে দুই মাস আগেই গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়েছি৷ আয় অনেক কমে গেছে৷ তাই আর কোরবানির ঈদে বাড়ি যাব না৷’’

দোকানদার মিন্টু মিয়া প্রতিবছর তার গ্রামের বড়ি বিক্রমপুরে সপরিবারে ঈদ উদযাপনে যান৷ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘করোনা তো আছেই, তার ওপর এবার কোরবানি দেয়া হবে না৷ ব্যবসায় মন্দা৷ তাই আর গ্রামে যাচ্ছি না৷’’

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ‘‘পোশাক শ্রমিকদের একটি অংশ কাজ হারিয়ে আগেই গ্রামে চলে গেছে৷ করোনা আর বন্যায় অনেকের পরিবারই বিপর্যস্ত৷ ফলে তারা আর্থিক সংকটে আছেন৷ তবুও কেউ কেউ গ্রামের বাড়ি যেত৷ কিন্তু এখনতো সরকারই মানা করেছে৷’’

এই শ্রমিক নেতা বলেন, ‘‘কারো যাওয়ার আগ্রহ থাকলেও তিন দিনে ফিরে আসতে না পারলে যদি চাকরি যায় এই ভয়ও আছে৷ আমরাও করোনার কারণে তাদের যেতে নিরুৎসাহিত করছি৷’’যাত্রী মন্দা
রোজার ঈদের পর স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে সব ধরনের গণপরিবহণ চালু হলেও ঈদে যাত্রী তেমন না হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা৷ তাদের মতে স্বাভাবিক সময়ে তারা ঈদে যে যাত্রী পেতেন তার ৩০ ভাগও পাবেন কিনা সন্দেহ৷ তাই বাস ও লঞ্চে এবার বাড়তি যানবাহন বা অতিরিক্ত ট্রিপের কোনো পরিকল্পনা নাই তাদের৷

বাংলাদেশে দূর পাল্লায় এক লাখ বাস চলাচল করে স্বাভাবিক সময়ে৷ এখন শতকরা ৩০ ভাগ বাস চলাচল করছে৷ বাকি বাসগুলো যাত্রীর অভাবে চলাচল করছে না বলে জানান পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ৷ তিনি বলেন, ‘‘ঈদের আগে ও পরে সাত দিনে স্বাভাবিক সময়ে আমরা ৭০-৮০ লাখ যাত্রী পেতাম৷ কিন্তু এবার ২০ লাখ পাব কিনা সন্দেহ৷’’

সাধারণ ঈদের আগে এই সময়ে অগ্রিম টিকিটাও সবই বিক্রি হয়ে যেত৷ শুধু নিয়মের কারণে কিছু টিকিট পরে বিক্রি করা হতো বলে জানান তিনি৷

এই সময়ে লঞ্চের কেবিনও সব আগাম বুকিং হয়ে যেত৷ কিন্তু এবার কোনো আগাম বুকিং নেই বলে জানান লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ৷ তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা থেকে সারাদেশে ছয়শ’ লঞ্চ চলাচল করে ৷ এখন চলছে দুইশ’৷ ঈদের আগে হয়তো আরো একশ’ লঞ্চ চলবে৷’’

ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিনে স্বাভাবিক সময় কমপক্ষে পাঁচ লাখ যাত্রী পেত লঞ্চগুলো৷ এবার তার তিন ভাগের একভাগও পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছেন লঞ্চ মালিকেরা৷

এদিকে ট্রেনের অবস্থা একটু ভালো৷ তবে যাত্রী অর্ধেকে নেমে এসেছে৷ আগামীকাল (২৯ জুলাই) থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে৷ যদি প্রয়োজন হয় তাহলে চারটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ DW