বন্যার আরও অবনতি, খাবার সংকটে কয়েক লাখ মানুষ

প্রকাশিত: ১২:৪৭ অপরাহ্ণ , জুলাই ২৯, ২০২০

কিছু নদীর পানি কমলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপরে। উত্তরে বন্যার পরিস্থিতির অপরিবর্তিত থাকলেও মধ্যাঞ্চলে আরও অবনতি হয়েছে। এতে করে অনেক স্থানে ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমতাবস্থায় দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। পানিবন্দী অবস্থায় এখনও কয়েক লাখ মানুষ। ঘরবাড়ি ফসলি জমি তলিয়ে নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার ফসলের খেত। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উত্তরের জেলা গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি কিছুটা কমছে। তবে চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি থেকে এখনও পানি নেমে যায়নি। বাঁধের আশ্রিত মানুষ গবাদী পশু নিয়ে ঘরে ফিরতে পারছে না। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগবালাই। তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটসহ সবগুলো নদীর পানি এখন বিপদসীমার ওপরে।

যমুনার পানি সামান্য কমলেও পার্শ্ববর্তী জেলা সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার চরাঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়িতেই বিরাজ করছে পানি।

ঢাকার অদূরে টাঙ্গাইলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ১১টি উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়নের ৬৫২টি গ্রাম প্লাবিত ও ছয়টি পৌর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যায় তলিয়ে গেছে সাড়ে দশ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। ভেঙ্গে গেছে রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট। দুর্গত এলাকায় শিশু খাদ্য, গবাদি পশুর খাদ্যসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পদ্মা ও যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদী কালিগঙ্গ ও ধলেশ্বরী নদীর পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। জেলা শহরে পানি ঢুকে পড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্রাবিত হচ্ছে।

পদ্মার তীরবর্তী মুন্সিগঞ্জে লৌজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটের তিন নম্বর ফেরিঘাট পদ্মার তীব্র স্রোত ও ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, রাজবাড়ীতে প্রতিদিনই পদ্মার পানি বাড়ছে। সেই সাথে নিম্নাঞ্চলে বসবারত মানুষের দুর্ভোগের মাত্রাও বেড়েছে কয়েকগুণে। বাড়িঘর, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে, দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। পানিবন্দী অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

তবে, উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সিলেটে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চল থেকেও পানি নামছে। গোয়াইনঘাটের সঙ্গে সংযোগকৃত দুটি রাস্তা বন্যার পানিতে ভেঙ্গে গেছে। পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ বিভাগের জেলা সুনামগঞ্জে তৃতীয় দফার বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। ৯০০ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। ২২টি স্থানে স্রোতের তোড়ে সড়ক ভেঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ৪০টি ব্রিজ ও কালভার্টের সংযোগস্থলের ক্ষতি হয়েছে এবং হাওরপাড়ে ঢেউয়ে অন্তত ৩০টির বেশি ভিলেজ প্রটেকশন লাইনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোনটি আবার পুরো ভেঙ্গে গেছে।

এদিকে, রাজধানীর পাশে গাজীপুর জেলায় তুরাগ ও বংশী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কালিয়াকৈর উপজেলার ১০২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নিম্মাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যার্তদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।