মাহামুদুন নবী - জেলা প্রতিনিধি মাগুরা

পিডিবিএফ এর যুগ্ম পরিচালক মনারুলের দূর্নীতির শেষ কোথায় ?

মাহামুদুন- নবী :---

পিডিবিএফ এর যুগ্ম পরিচালক মনারুল ইসলামের  বিরুদ্ধে অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বানিজ্যের তথ্য প্রমান ও মিলছে। জনসাধারনের চোখ ফাঁকি দিতে  তিনি ঘুষের অর্থ লেনদেন করেন এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে। প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে মিলছে নানা তথ্য।

দেশের গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) দেড় যুগেও কাঙ্খিত সফলতা অর্জন করতে না পারার কারন হিসেবে বড় রকমের দায়ি হলেন  অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা । আর এ কারনেই  অনেক আগ থেকেই পিডিবিএফ’এ লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সর্ষের মধ্যে ভূত থাকার মত সংস্থার কর্মকর্তা দুর্নীতি-অনিয়মে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছেন। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বরাদ্দের টাকা লুটপাট করে ভাগ্য বদল করা মনারুল ইসলামের নেশা। এবং তিনি এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে বেশির ভাগ লুপাটের ভাগের টাকা গ্রহণ করতেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লুটপাট হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প ও ঋণ বিতরণের নামে । নিয়োগ-পদোন্নতি নিয়েও ফ্রি স্টাইল বাণিজ্য করেছেন মনারুল ইসলাম, আর দূর্নীতির টাকা মুনতাসির মামুনের (মনারুলের ভাতিজা) ব্যাংক এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এবং কিছু টাকা এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। প্রধান কার্যালয় থেকে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে তার দূর্নীতি। ফলে বিভিন্ন জেলায় বিতরণকৃত ঋণ বেহাত হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধেই রয়েছে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। পাশাপাশি দুর্নীতি-অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত, এমনকি দুদকের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি, কিন্তু পরিতাপের বিষয় কোন এক আর্শিবাদপুষ্ট কর্মকর্তার কারনে দুদকের হাত থেকে মাফ পেয়ে তিনটি প্রকল্পের দায়িত্বে পদোন্নতি হন। জাতীয় সংসদে সরকারী হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি-অনিয়মের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রহস্যজনক কারণে সেসব আমলে নেওয়া হচ্ছে না। এবং দুর্নীতিবাজ যুগ্ম পরিচালক মনারুলের অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। উদ্যেগজনক বিষয় হচ্ছে,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হলেও স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠানে সরকারের কার্যকর নজরদারি। তবুও থেমে নেই মনারুল ইসলামের লুটপাট!

পিডিবিএফ আইসিটি ও ই-সেবা প্রকল্প থেকে লুটপাট:
মনারুল ইসলাম বিগত ২০১৪ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ১৯ কোটি টাকা। ব্যাপক দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি উক্ত প্রকল্প হতে ২১৭ লক্ষ টাকা লুটপাট করেন যা নিম্নরূপ দেওয়া হলো-

এসি ক্রয়ে লুটপাট ও অর্থ আত্মসাত:
আইসটি প্রকল্পের ডিপিপি মোতাবেক প্রতিটি এসি ১ লক্ষ টাকা করে ২৫টি এসি বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ২৫টি এসি প্রধান কার্যালয় হতে উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয় করার কথা কিন্তু জনাব মনারুল ইসলাম তা না করে ১১টি ল্যাব হতে আরএফকিউ (রিকুয়েস্ট ফর কোটেশন) এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান হতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম দেখিয়ে ২৫টি এসি ক্রয় করেন। উল্লেখিত এসি সমূহের খুচরা বাজার দর ৬০ হাজার টাকা হলেও তিনি আরএফকিউ করে এর মাধ্যমে এসি ১ লক্ষ টাকা করে ক্রয় করেন। এখানে প্রতি এসি থেকে ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা করে সর্বমোট ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন।

কম্পিউটার ক্রয়ে দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাত:
প্রকল্পের ৩০টি কম্পিউটর ক্রয়ের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করা হয়। উক্ত টেন্ডারে ১ম ও ২য় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ৩য় সর্ব নিম্ন দরদাতা ফ্লোরা লিঃ কে কাজ দেয়া হয়। এখানে ১ম সর্বনিম্ন দরদাতার সাথে ৩য় দর দাতার (ফ্লোরা) সাথে প্রতিটি কম্পিউটারের দরের পার্থক্য ছিল প্রায় নয় হাজার টাকা। এক্ষেত্রেও ফ্লোরা লিঃ এর সাথে অনৈতিক যোগসাজসে প্রায় তিন লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। পরবর্তীতে দুই বার ইজিপির মাধ্যমে ৬০০ কম্পিউটার ক্রয় করা হয়। ১ম ইজিপিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করে এবং সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ননরেসপনসিপ দেখিয়ে আবার ফ্লোরা লিঃ কে কার্যাদেশ প্রদান করেন। ২য় ইজিপিতে ফ্লোরা লিঃ ছাড়া আর কোন প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন না করলেও টেন্ডার বাতিল না করে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ফ্লোরা লিঃ কেই কাজ দেয়া হয়। পরবর্তীতে একই দরে ফ্লোরা লিঃ এর নিকট থেকে টেন্ডার ছাড়া ৮০টি কম্পিউটার ক্রয় করা হয়। এখানে ৬০০টি কম্পিউটর ক্রয় করে মনারুল ইসলাম প্রায় সর্বমোট ৫৪ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। প্রতিটি ইজিপিতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। ফ্লোরা লিঃ এর নিকট থেকে ৩ মাস আগে কম্পিউটারের স্পেসিফিকেশন নিয়ে এসে তাদের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ইজিপিতে টেন্ডার করেছে এবং সময় দিয়েছে মাত্র ২০/২৫ দিন যাতে করে উক্ত স্পেসিপিফকেশন অনুযায়ী অন্য কোন কোম্পানী এত অল্প সময়ে এতগুলো কম্পিউটার সরবরাহ দিতে না পারে। সরকারী অর্থে ক্রয়কৃত অধিকাংশ কম্পিউটার গুলো বর্তমানে অকেজো অবস্থায় আছে।

প্রিন্টার ক্রয়ে দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাত:
উন্মক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ৪০০টি প্রিন্টার ক্রয় না করে তার হীনস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য ১১টি ল্যাব হতে আরএফকিউ এর মাধ্য ৪০০টি নিম্নমানের স্যামসাং প্রিন্টার ক্রয় করেন। তখনকার বাজারে প্রতিটি প্রিন্টারের মূল্য ৮ হাজার টাকা হলেও তিনি প্রতি প্রিন্টার ১৫ হাজার টাকা করে ক্রয় করেন। এখান থেকে দূর্নীতিবাজ মনারুল ইসলাম প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। আঞ্চলিক কমিটির মাধ্যমে আরএফকিউ করা হলেও তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করার লক্ষ্যে সুকৌশলে প্রতিটি আরএফকিউ ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর নামে করে থাকেন এবং সকল অঞ্চলের আরএফকিউ ঢাকাস্থা একই ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর নামে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যা প্রকল্প পরিচালক জনাব মনারুর ইসলাম ঢাকা বসে বসে নিজেই তার কম্পিউটার থেকে কালার প্রিন্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাড তৈরি করে জালিয়াতি করেছেন।

ইউপিএস ক্রয়ে দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাধ:
প্রিন্টার ক্রয়ের অনুরূপ কৌশলে উন্মুক্ত দরপত্র উপক্ষো করে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এরএফকিউ করে ১১টি ল্যাবের মাধ্যমে ৬৭৫টি নিম্নমানের ইউপিএস ক্রয় করেন। প্রতিটি ইউপিএস এর বাজার দর ৩৫০০ টাকা করে হলেও তিনি প্রতিটি ইউপিএস ৭০০০ টাকা করে ক্রয় দেখিয়ে এখান থেকে তিনি প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। যা বর্তমানে সবগুলো ইউপিএসই অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

সার্ভার ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারী অর্থ লুটপাট:
পিপিআর-২০০৮ তোয়াক্কা না করে ও টেন্ডার পদ্ধতি উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আরএফকিউএর মাধ্যমে ২৫টি সার্ভার (নিম্নমানের) সার্ভার ক্রয় করে (বাজার মূল্য) ১ লক্ষ ৫০ হাজার হলেও ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাম দেখিয়ে মনারুল ইসলাম ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। বর্তমানে সার্ভারগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

জেনারেটর ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট:
ডিপিপিতে প্রতিটি ৮ কেবি জেনারেটর মূল্য ধরা ছিল ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ১৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে জেনারেটর ক্রয়ের বিধান থাকা সত্ত্বেও পিপিআর-২০০৮ লংঘন করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিটি ল্যাব হতে আরএডকিউ এর মাধ্যমে ১১টি ল্যাবের জন্য ১১টি জেনারেটর ক্রয় করা হয়েছে। ক্রয়কৃত জেনারেটরের বাজার মুল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হলেও তিনি প্রতিটি ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা করে ক্রয় করে এখান থেকে ৭ লক্ষ টাকা আত্মাসাৎ করেন।

জেনারেটরের তেল ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারী অর্থ লুটপাট:
দূর্নীতিবাজ মনারুল ইসলাম সরকারী অর্থায়নের বাস্পবায়িত পিডিবিএফ আইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১১টি ল্যাব স্থাপন করেন। ১১টি ল্যাবে বিদ্যুতের ব্যাকআপ সাপোর্ট দেয়ার জন্য ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় বিদ্যুতের লোড শেডিং হলেও কোন ল্যাবেই কোনদিন জেনারেটর চালানো হয় নাই। এমন কি কোন কোন ল্যাবে এখনো জেনারেটর স্থাপন করাও হয় নাই। অথব প্রত্যেক ল্যাব থেকে মনারুল ইসলাম ভুয়া বিল ভাউচার করে প্রতিমাসে প্রতি ল্যাব থেকে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা মাসে মোট ১ লক্ষ ৯৮ হাজার থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অভিনব পদ্ধতিতে সংগ্রহ করেন। তিনি ১১ ল্যাব ইনচার্জের মাধমে বেয়ারার চেক লিখে ব্যাংকে ভাংগানো ১১টি ল্যাবের টাকা তার ভাগ্নের আসাদুজ্জামান (ল্যাব ইনচার্জ নাটোর) নগদ ও তার ব্যাংক একাউন্টে সংগ্রহ করেন। অত:পর উক্ত টাকা এক সাথে করে মনারুল ইসলামের ভাইপো প্রধান কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মুনতারিস মানুন এর ডাচ বাংলা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হতো। মানতাসির মামুন ঐ টাকা তুলে জনাব মনারুলের হাতে বুঝিয়ে দিতেন। আরো পরিতাপের বিষয় হলো ডিপিপিতে ডিজেলে জেনারেটর পরিচালনার কথা থাকলেও বিল করা হয়েছে অকটেনর। এভাবে তিনি বছরে ২৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।

বিদেশ ভ্রমনের নামে সরকারী অর্থ অপব্যয় ও লুটপাট:
আইসিটি ও ই-সেবা প্রকল্পের ডিপিপিতে ১৪ জনের (পিডিবিএফ-৬, মন্ত্রণালয়ের-৫ ও পরিকল্পনা কমিশনের-৩) বিদেশ ভ্রমন খাতে ৭৯ লক্ষ টাকা বাজে বরাদ্দ ছিল মনারুল ইসলাম অত্যন্ত চাতুরতার সাথে আশ্রয় নিয়ে অনৈতিক উপায়ে তিনি সহ চার জনের একটি টিম দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ দিনের সফরে গিয়ে ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন। এখানেও তিনি মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।
আইসিটি ও ই-সেবা প্রকল্পের প্রশিক্ষণ খাতের অর্থ লুটপাট:
আইসিটি প্রকল্পের প্রশিক্ষণ খাতের অর্থ নিজেই ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করেন। আইসিটি প্রকল্পের প্রতিটি ল্যাব থেকে তিনি মাঠ ভ্রমন বা মাসিক সম্মেলন অংশগ্রহনের কথা বলে জনাব মনারুল ইসলাম নিজে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে ল্যাব ইনচার্জদের কাছ থেকে নগদে প্রশিক্ষণ খাতের টাকা সংগ্রহ করে আনেন। এ পর্যন্ত মনারুল ইসলাম আইসিটির প্রশিক্ষন খাত থেকে মোট ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ডাটবেডড সফ্টওয়ার ক্রয়ে লুটপাট:
প্রকল্পের অর্থায়নে বরাদ্দ ছিল এক কোটি টাকা। তিনি সফ্টওয়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের সময় নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে (গরপৎড়ভরহ ৩৬০) আাঁতত করে আর্থিক দূর্নীতি ও অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ২০% কমিশন হিসাবে ২০ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। প্রকৃত পক্ষে ডাটা সফ্ট লিঃ কর্তৃক অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্ততকৃত সফটওয়ার (গরপৎড়ভরহ ৩৬০) গোজামিল দিয়ে পিডিবিএফ এর জন্য প্রস্তুত করেন। পিডিবিএফ এর কাজের সাথে উক্ত সফটওয়ারের সামঞ্জস্যতা না থাকায় উক্ত সফটওয়ারটি শুরুতেই মুখথুবড়ে পড়ে। প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদন মোহন সাহার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়েও উক্ত সফটওয়ারটি আলোর মুখ দেখাতে সক্ষম হননি এবং তার ছত্রছায়ায় উক্ত কোটি টাকা মূল্যের সফটওয়ারটি তিনি ধামাচাপা দিয়ে সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিহীন প্রত্যন্ত এবং চর এলাকায় সৌর শক্তির উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প এর সোলার মালামাল ক্রয়ে অনিয়ম ও লুটপাট:
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ প্রত্যন্ত এবং চর এলাকায় সৌর শক্তির উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প এর সোলার সিস্টেম ক্রয়ে ইজিপি/ওপেন টেন্ডার না করে প্রকল্প পরিচালক মনারুল ইসলাম নিজস্ব লোক দ্বারা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় দ্বিগুন দামে মালামাল ক্রয় করে ১৭% হারে কমিশন গ্রহন করে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করেন। শুরু থেকে প্রকল্পটিতে অত্যন্ত নিন্মমানের, ইডকল অনুমোদন বিহীন সোলার প্যানেল ক্রয় করেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রায় ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার সোলার সিস্টেম “সোলারিক ইন্টারন্যাশনাল লিঃ” এর নিকট থেকে ক্রয় করে নগদে ১ কোটি টাকা ঘুম গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে আরও ১৩ কোটি টাকার কাজ “ডিকে কর্পোরেশন” নামক কোম্পানিকে কাজ দেয়ার কথা বলে ২ কোটি টাকা ৫০ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। প্রকল্পের সরবরাহকৃত সোলার সিস্টেম সমূহ পরিদর্শন করলে দেখা যাবে যে, বেশিরভাগ সোলার সিস্টেম অকেজো অস্থায় পড়ে আছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রাক্কালেই তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কমিশন গ্রহনের বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সর্বোচ্চ কমিশন (১৭%) প্রদানে রাজী হওয়া প্রতিষ্ঠানকে কাজ প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও বেশী কমিশন (২০%) প্রাপ্তির লক্ষ্যে তিনি প্রথম সরবরাহকারীকে বাদ দিয়ে “ডিকো কপোরেশন”কে সরবরাহকারী নিয়োগ দেন। এভাবে তিনি বিগত ১ বছরে উক্ত সোলার প্রকল্প হতে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা অনৈতিকভাবে ঘুষ গ্রহণ করে সরকারী টাকা লুটপাট করেছেন।

এছাড়া মনারুল ইসলাম দূর্নীতির মাধ্যমে ৪৫০টি এন্টি ভাইরাস ক্রয়, ৪৩২ টি এস মডেম ক্রয় ও ৪৩২টি ইন্টারনেট কানেকশনের ২.৫ জিবি ডাটা ক্রয় করে ৪.৫ জিবি ডাটার বিল গ্রহনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে মুদ্রণ খাতের সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত করলেই এসকল বিষয়ের প্রমান পাওয়া যাবে বলে জানা যায়।

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও যুগ্ম পরিচালক মনারুল ইসলামের তেমন কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে তিনি রাজি হয়নি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) কে রক্ষা করার স্বার্থে মনারুল ইসলাম কর্তৃক শত টাকা দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারী অর্থ লুটপাট ও আত্মসাতের সুষ্ঠু তদন্ত পুর্বক জনাব মনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন পিডিবিএফ এর কর্মকর্তা বৃন্দগণ।

অনুসন্ধান চলছে এবং মানারুল ইসলাম পিডিবিএফ থেকে দূর্নীতির মাধ্যে অর্থ লুটপাট করে কোথায় কি কি করছেন তার বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায় (পর্ব-২) আসিতেছে……………..।

 

09.10.2019 | 12:18 PM | সর্বমোট ১৩৩ বার পঠিত

পিডিবিএফ এর যুগ্ম পরিচালক মনারুলের দূর্নীতির শেষ কোথায় ?" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

২০২০ সালে OIC Youth Capital হবার অন্যতম দাবিদার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা- ICYF এর প্রেসিডেন্ট Mr.Taha Ayhan

নিউজ৭১অনলাইন,সাভার,  ১৬/১০/২০১৯: বাংলাদেশে সফররত Islamic Co-operation Youth Forum ( ICYF) এর প্রেসিডেন্ট ও প্রতিনিধিদলের প্রধান Mr.Taha Ayhan বলেছেন, আমি বাংলাদেশের মানুষেরআতিথেয়তা...... বিস্তারিত

16.10.2019 | 06:48 PM



রাজধানী

চট্টগ্রাম

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবলীগের প্রতিটি কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব ছাবের আহমেদ সওদাগর বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে কোন বিভেদ নেই। আগামীর ভিশন-২১ বাস্তবায়নে যুবলীগের প্রতিটি...... বিস্তারিত

06.10.2019 | 09:15 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় আল কোরআনের অনুপ্রেরণা

তারা কি ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করে না, যাতে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারে! বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ...... বিস্তারিত

03.09.2019 | 12:10 PM

বিনোদন

শুভজনের ৭ম বর্ষপূর্তিতে শিল্পকলায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মানবিক মানুষ চাই এই শুভ প্রত্যয়ে দীপ্ত শুদ্ধধারার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সংগঠণ শুভজনের ৭ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে “সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে,...... বিস্তারিত

08.10.2019 | 01:17 PM


সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ