আজহার মাহমুদ

আগের আনন্দ আর নেই

ঈদ মানে আনন্দ আর হাসি খুশির মহা মিলনমেলা। ঈদের সময় সকলেই একটু কর্ম ব্যস্থাতা শেষ করে পরিবার-পরিজন, আত্বীয়-স্বজনসহ সকলের সাথে সময় কাটায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন আর আগের সেই ঈদ নেই। এখন আর আত্বীয়-স্বজনদের কাছে পাওয়া যাই না। আগে ঈদের সময় সকলেই গরু কিনতে একসাথে হাটে যেতাম, সকলেই একটা গরু নিয়ে কুরবানি দিতো, কিন্তু সময় যেতে যেতে সকলের মানসিকতাও পরিবর্তন হয়ে গেছে আজ। সকলেই যার যার মতো আলাদা আলাদা গরু নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে ঈদ করে। নেই কোনো আনন্দ আর ভালোবাসা। এখন ঈদ মানে যেনো মাংস খাওয়া। এছাড়া কোনো সুখ ঈদে দেখিনা। সকলেই যেনো এখন লোক দেখানোর জন্য গরু কিনে। কোরবানির উদ্দ্যেশে কয়জন গরু কিনে তা নিয়েও আমার প্রশ্ন। আগে দেখতাম কোরবানি দেওয়ার পর সকলেই সেটা বসে ভাগ করে যার যার ভাগ মতো মাংস দিয়ে গরিব, মিসকিন, এতিম শিশুদের মাংস বিলিয়ে দেয়। আর এখন কার চিত্র পুরাই ভিন্ন। এখন যার যার গরু জবাই করে মাংস গুলো নিয়ে ঘরে তালা দিয়ে মাংস সব ফ্রিজে রেখে দেয়। হ্যাঁ। এটাই এখনকার চিত্র। কিন্তু ইসলাম ধর্মে এমনটা নেই। তবুও আজকাল এমনটাই বেশীরভাগ দেখা যায়। দেখা যায় একটা গরুর ভাগ সম্পর্কেও অনেকে অবগত নেই। ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী ভাগ করে কোরবানীও দেয় না অনেক মানুষ। অথচ সকলেই হাটে গিয়ে প্রচুর টাকা খরচ করে পশু ক্রয় করে কোরবান দিচ্ছে। আদৌ কি তাদের কোরবান শরীয়ত মোতাবেক হচ্ছে? যাইহোক যেখানে ধর্মীয় বিধি নিষেধ মেনে চলা না হয় এবং লোক দেখানো কোরবান করা হয় সেখানে সুখ কিভাবে আসবে। আনন্দ কতটুকুই আর হবে। তাছাড়া গ্রামের আর শহরের ঈদেও বিস্তর তফাৎ। গ্রামে সকলে একসাথে কোরবান না করলেও সবাই সবার বাসায় যাওয়া যায় এবং একজনের সাথে অন্যজনের আন্তরিকতাও বেশী। শহরে এটা খুব কম দেখা যায়। যার যার দালানে মাংস নিয়ে ঘরে উঠে যাওয়া ছাড়া আর কাজ নেই। আর গ্রামে সকলেই একটা মাটে গরু জবাই করে এবং সবাই দেখে এবং একটা অন্যরকম পরিবেশ তৈরী হয়। যা শহরে কখনো দেখা যায় না। গ্রমে ঈদের আমেজ যতদিন থাকে শহরে ততদিন থাকে না। শহরে কারো খবর কেউ নেই না। গ্রামে পাড়া প্রতিবেশী সবাইকে মাংস দিতে হয় এবং সকলেই দেয়। যা শহরে দেখা যায় না। এসব কিছু বিবেচনা করলে গ্রামে যা আন্নদ আছে শহরে তেমন নেই। আর সামগ্রিক ভাবে বিবেচনা করলে আগের চাইতে যোজন যোজন কমছে ঈদের আনন্দ। এখন আর সেই আনন্দ নেই। আগের সেই আনন্দ আজও স্মৃতি হয়ে নাড়া দেয় হৃদয়ে। কিন্তু সময় এবং পরিস্থিতি সেই আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে এখন।

লেখক:

আজহার মাহমুদ

প্রাবন্ধিক, কলামিষ্ট শিক্ষার্থী, বি.বি.(অনার্স), হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ(প্রথম বর্ষ), 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ওমরগনি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম

ইমেইল: azharmahmud705@gmail.com

20.08.2018 | 10:05 PM | সর্বমোট ৯৯ বার পঠিত

আগের আনন্দ আর নেই" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

তাজিয়া মিছিলে কারাবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণ

ইসলামের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন আশুরায় কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনার স্মরণে শিয়া মুসলমানরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের করেছেন। মুসলিম বিশ্বের...... বিস্তারিত

21.09.2018 | 04:29 PM


রাজধানী

চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

শরীর রক্তাক্ত করে শোক পালন হারাম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ফতোয়া অনুযায়ী মহররম ও আশুরার শোক পালনের ক্ষেত্রে শরীর রক্তাক্ত করা হারাম। এমনকি...... বিস্তারিত

18.09.2018 | 01:47 PM

বিনোদন

ওবায়দুল কাদেরের গল্পের নায়িকা কে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের লেখা উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। উপন্যাসটির নাম ‘গাঙচিল’।উপন্যাসের...... বিস্তারিত

19.09.2018 | 04:36 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ