চট্রগ্রাম অফিস

চকবাজার মোড়ে ‘বিশৃঙ্খল’ যান চলাচল: বাড়ছে যানজট

এস.ডি.জীবন : চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার মোড়। এ মোড় ঘিরে চারপাশের সড়কগুলোতে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংসহ যানবাহনগুলোর ‘বিশৃঙ্খল’ চলাচলের কারণে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজটের। ঘটে দুর্ঘটনাও।বিশেষ করে চকবাজার মোড়ে রাজীব হার্ডওয়্যারের সামনে পার্কিং নিষেধ থাকলেও নিজেদের খেয়াল খুশি মতো গাড়ি রাখে চকবাজার-আন্দরকিল্লা রোডের চলাচলরত মটরসাইকেল ইঞ্জিন সংযুক্ত করে অবৈধভাবে রাস্তায় নামানো গ্যাস চালিত টমটমগুলো।এ বিষয়ে রাজীব হার্ডওয়্যারের ম্যানেজার সুভাষ বাবু বলেন, এমনিতেই সড়কে চলাচলরত হিউম্যানহুলার ও ০১ নাম্বার বাসগুলো এসে যাত্রী নামায় দোকানের সামনে । তার উপর আবার এই টমটমগুলো এখানে পার্কিং করার কারণে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট তেমনি দূর্ভোগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের সহ আমাদের । এদিকে ধুনিরপুলের চলমান উন্নয়নের কাজের জন্য লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসার।তার উপর আছে এদের যন্ত্রনা । এদের জন্য আমাদের ক্রেতারা নিজেদের গাড়ি রাখার জায়গাটুকুও অনেক সময় পান না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সুভাষ বাবু বলেন, অনেক বার বলা হয়েছে। যেই লাউ সেই কদু। পুলিশ অভিযান চালালে দুই -তিন দিন  ঠিক থাকে তারপার আবার আগের রুপে ফিরে আসে। আমরা সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এখন একটি দাবী তা হলো এর যথাযথ নিয়ন্ত্রন। 

আধুনিক চকসুপার মার্কেটের মূল ফটকের সামনে লাইন ধরে বসে কিছু জুতা মেরামতকারী ও চাবী মেরামতকারী হকার। বিশেষ করে সন্ধ্যায় যখন বিভিন্ন অফিস ছুটি হয় তখন সড়কে গাড়ির চাপও বাড়ে। ঐ সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় । রিকশার যত্রোতত্র পার্কিং তো আছেই । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধুনিক চক সুপারের এক ব্যবসায়ীনেতা  বলেন,আমরা অনেকবার বলেছি হকারগুলোকে এবং জুতা ও চাবী মেরামতকারীদেরকে এখান থেকে উঠে যেতে,কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তারা উঠে না। মাঝে মধ্যে রাতে পুলিশের গাড়ি এসে টাকা নিতেও দেখা যায়। ঠিক এই মোড়েই যানবাহন নিয়ন্ত্রনে সবসময় দ্বায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে। এ প্রতিবেদন তৈরী করার সময় দ্বায়িত্বরত পুলিশ অফিসার দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।  কথা হয় দ্বায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল সামাদ এর সাথে। আপনি ও আপনারা দ্বায়িত্ব পালন কালীন সময়ে এই টমটমগুলো কিভাবে এখানে পার্কিং করলো,এর ফলে কি যানজট সৃষ্টি হচ্ছে না ? এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন,আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করি রাস্তা যানজট মুক্ত রাখার। টমটম পার্কিং করার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা আছে এবং চালকদেরকে ও বলা আছে। আর আমাদের জনবল ও কম, দুদিকের রাস্তার চাপ ই সামলাত হয় বলে জানান পুলিশ কনস্টেবল সামাদ। 

হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া টমটম চালকদের অনেকে আবার অল্পবয়স্ক। নেই কোন প্রশিক্ষণ,নেই কোন লাইসেন্স। জানেনা রাস্তা গাড়ি চালানোর নিয়মকানুনও। সম্প্রতি চলা “নিরাপদ সড়ক চাই” ছাত্র অন্দোলনের সময় এই টমটমগুলো রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যায়। কিন্তু এরপর পরই  ট্রাফিক সপ্তাহ চলার সময়েই আবার পূর্বরুপে ফিরে আসে।অভিযোগ আছে, থানা ও ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দিচ্ছেন ‘টোকেন’ অনুমোদন!

অনুসন্ধানে জানা যায়, এখানে গাড়ী চলাচল করতে শুরুতেই লাইনের নিয়ন্ত্রকদের প্রতি টমটম বাবদ দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিভিন্ন খরচ বাবদ দিতে হয় প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। এছাড়া প্রতিমাসে প্রতিটি গাড়ি ১০০০ টাকা পরিশোধ করে পুলিশের ‘টোকেন’ বাবদ এবং এই সড়ক গুলোতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকেও প্রতিদিন গাড়ী প্রতি ১০ টাকা দিতে হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু চকবাজার নয়, নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, নতুনব্রীজ মোড়,কাপ্তাই রাস্তার মাথা মোড় এলাকাতেও চালকরা যেমন খুশি তেমনভাবে গাড়ি চালান। বিশেষ করে সড়কে চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে বিভিন্ন  সড়কসহ নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। ট্রাফিক আইন থাকলেও নেই যথাযথ প্রয়োগ। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে মানুষের কর্মঘণ্টা, তেমনি বাড়ছে ভোগান্তি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিঠুন দাশ বলেন, গণপরিবহনের অভিভাবক নেই। লক্কড়-ঝক্কর বাস-টেম্পুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে যানজটের কারণে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, প্রতিটি মোড়ে যাত্রী তোলার জন্য একই রুটের গাড়ির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা। এ সময় আড়াআড়ি ভাবে গাড়িগুলো রাখা হয়। কখনো কখনো বেপরোয়া গাড়ি চলাচলের মধ্যেই পথচারীদের পার হতে হয় সড়ক। এতে সড়কে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। কেউ হারাচ্ছেন ভাই, আবার কেউবা বোন। আর কেউ হারাচ্ছেন মা-বাবা। এখানেই শেষ নয়। অনেককে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো দৃঢ় ভুমিকা পালন করতে হবে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তিনি। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে নানা সংবাদ প্রকাশের পর বা কোন চাপে পড়ে পুলিশ এসব লাইন বন্ধ করলেও, পুনরায় চালু করা হয়। অভিযান গুলোকে বলা যেতে পারে একপ্রকার লোকদেখানো। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনের লোক যদি দুর্নীতিতে জড়িয়ে আইন ভাঙে তাহলে পুলিশ প্রশাসনের কাছে কিছুই আশা করা যায় না। আর এসব অনিয়ম ও অপকর্ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা অসম্ভব। এখানে জনসাধারণ অসহায়।

17.08.2018 | 03:15 PM | সর্বমোট ১৪৭ বার পঠিত

চকবাজার মোড়ে ‘বিশৃঙ্খল’ যান চলাচল: বাড়ছে যানজট" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

দু’দেশের সম্পর্ক এখন উচ্চতর পর্যায়ে

'স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দু'দেশের সম্পর্ক একটি শক্ত ভিতের ওপর স্থান করেছিলেন। আর...... বিস্তারিত

21.09.2018 | 09:51 PM


রাজধানী

চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

শরীর রক্তাক্ত করে শোক পালন হারাম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ফতোয়া অনুযায়ী মহররম ও আশুরার শোক পালনের ক্ষেত্রে শরীর রক্তাক্ত করা হারাম। এমনকি...... বিস্তারিত

18.09.2018 | 01:47 PM

বিনোদন

ওবায়দুল কাদেরের গল্পের নায়িকা কে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের লেখা উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। উপন্যাসটির নাম ‘গাঙচিল’।উপন্যাসের...... বিস্তারিত

19.09.2018 | 04:36 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ