নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

নারী পুরুষে ভেদাভেদ

মাহমুদুল হক আনসারী ।।
পুরুষের মতো নারীরাও মানুষ। পুরুষ যেভাবে সমস্ত কাজ করতে পারে নারীরাও সেভাবে কর্ম কাজ করতে সক্ষম। বর্তমান দুনিয়ায় নারীর প্রতি বিমাতাসূলভ আচারণ ও বিদ্বেষ দেখানোর মতো কোনো সুযোগ নেই। পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে নারী দুনিয়াব্যাপী অনেক এগিয়ে। নারী সংসার পরিবার রাষ্ট্র পর্যন্ত পরিচালনা করছে। একজন নারী যখন স্ত্রী তখন তিনি স্বামী , যদি শ্বশুড় শ্বাশুড়ী দেবর ননদ থাকে তাদের দেখবাল করে সংসার চালায় , সে নারী যখন ঘরের বাইরে কর্মক্ষেত্রে থাকেন তখন তিনি হন শিক্ষক, কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, রাষ্ট্র পরিচালক,রাজনীতিতে দলের প্রধান। বিরোধী দলে দলীয় নেত্রী।এতোসব গুণ থাকার পরও নারীকে মানুষ হিসেবে দেখতে সমাজ কখনো কখনো দ্বিধা দ্বন্দে পড়তে দেখা যায়। নারী পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে নানাভাবে এতো সব অবদান ত্যাগ থাকার পরও সমাজে যথাযত মূল্যায়ন হয়না। নারীকে সমাজের উন্নয়ন অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখা হয়না। মিল কারখানা ফ্যাক্টরীতে নারীদের অবদান পুরূষের চেয়ে অধিক। নারী শ্রমিক নানা ধরনের শ্রমকাজে তাদের কর্মক্ষমতা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করছে। ছেলে সন্তানের লালন পালন থেকে আরম্ভ করে পরিবারের সমস্ত  কাজ দৈনন্দিন রূটিন মাফিক করে শ্রম ও কর্মকাজে তাদের অবদান পুরূষের চেয়ে এগিয়ে। তাহলে পুরূষ কেনো নারীদের প্রতি বিমাতসূলভ আচরণ করবে! রাষ্ট্র কেনো বেতন ভাতা কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ করবে। আজকের সমাজে সমাজ পরিচালক, পরিবারের কর্তাগণ যারা নিজদের পুরূষ হিসেবে পরিবার ও রাষ্ট্রের নানা পদে প্রধান হিসেবে আছেন তাঁরা কেন তাদের ভিন্ন চোঁখে দেখবেন সেটায় সমাজের প্রতি প্রশ্ন? নারী তাঁর মেধা যোগ্যতা নীতি নৈতিকতা আদর্শ দিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখলেও পুরূষ প্রধান কোনো কোনো সময় তাদের ত্যাগ নিষ্ঠা ও কর্মকে স্বীকৃতি দিতে সম্মত নয়। আজকাল নানাভাবে কথায় কথায় নারী তাঁর পারিবারিক সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে সমাজ ও পরিবার থেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শিকার হচ্ছে স্বামী কর্তৃক, কোনো কোনো ক্ষেত্রে  শ্বাশুর শ্বাশুরী, দেবর ননদ, ভাশুর কর্তৃক। অফিস আদালতে কর্তা কর্তৃক। এখনো নারী তার চলতে ফিরতে তাঁর মর্যাদা সম্মান অধিকার সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্রতরণায় পড়ে কখনো কখনো নারী অন্য পুরূষের পরকীয়া প্রেমে পড়ে স্বামী স্ত্রীর গড়ে উঠা সংসার ভাঙছে। নারী তার গুছালো জীবন সম্পর্কে বুঝতে না পেরে প্রতারক ভূয়া প্রেমের ফাঁদে পড়ে গড়ে উঠা সংসার ভাঙছে। বর্তমানে কথায় কথায় স্বামী স্ত্রীর ভূল বুঝাবুঝিতে  একদুই সন্তানের পরিবার পর্যন্ত ভাঙতে দেখা যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির আবেদন আর নিবেদনে সম্পর্ক গড়ে তুলে সামাজিকভাবে তৈরী হওয়া সংসার অহরহ ভাঙছে। ইউপি প্রশাসন থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ টি পর্যন্ত ডিভোর্স ফরম জমা পড়ছে। এসব ডিভোর্সের অন্যতম কারণ হচ্ছে পরকীয়া প্রেম আর ভালোবাসা। স্ত্রী অথবা স্বামী কর্তৃক পরকীয়া প্রেমের কারণে বেশীর ভাগ সংসার ভাঙছে। এ জায়গায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুক ব্যবহারকারী স্বামী স্ত্রীর বেশী পরকীয়া প্রেমে পড়ে সংসার নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করছে সমাজ বিশ্লেষকগণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে যতটুকু বিশ্বাস করার দরকার তার চেয়ে বেশী বিশ্বাস করে প্রতারিত ও সংসার ভাঙছে স্বামী স্ত্রীর। বর্তমানে প্রতিদিন এ সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে আশংকাজনক হারে। এসব প্রতারণা ও সংসার ভাঙার কারণে ওই সংসারের জন্ম নেয়া ছেলে সন্তানের জীবনে নেমে আসে করুণ পরিণতি। মাতা-পিতার অকাল মৃত্যু যেমন সন্তানকে নিয়ে যায় অনিশ্চিত জীবনের দিকে। অনুরুপভাবে সংসার ভাঙ্গা সন্তানদের জীবন ও হয়ে পড়ে একইভাবে। বর্তমান সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করছে, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক শৃংখলা রক্ষায় স্বামী-স্ত্রী পরিবারের অন্য সদস্যদের আরো সংহত হতে হবে। একে অপরের দায়িত্বের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। অবিশ্বাসের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সে জায়গায় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। স্বামী স্ত্রী উভয়কে একে অপরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস তৈরী করতে হবে। উভয়কে পরকীয়া প্রেম ও প্রতারণার ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। পর নারী ও পুরুষের সমস্ত ধরনের চলচাতুরী ও প্রেম ভালোবাসার অপার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিবার ও অন্যসদস্যদের প্রতি স্বামী স্ত্রীর দায়িত্ব সমান ও আন্তরিকভাবে পালন করার সমন্বয় থাকতে হবে। একে অপরকে দোষারোপ ও সমালোচনা করা থেকে সংযত হতে হবে। যার যার সম্মান শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। নারী যদি কর্ম করে আয় রোজগারের ক্ষমতা রাখে, সেক্ষেত্রে নারীকে স্বামী ও পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা রেখে চলতে হবে। অর্থ ও ক্ষমতার শক্তিকে যেনো সংযত করা হয়। তা যদি হয় এভাবে সংসার ভাঙা কিছুটা হলেও কমে আসতে পারে। উভয়কে পরকীয়া প্রেম ভালোবাসা, অর্থ ও ক্ষমতার অহংকার ত্যাগ করতে হবে। স্ত্রীকে সকলের মাঝে নিজকে বিলীন ও ত্যাগ করার মনোভাব থাকলে নারীর সম্মান আরো বাড়বে। নারী হবে  সমাজের শ্রেষ্ঠ ও আদর্শের অনুকরণীয়। সমাজ  পরিবার ও রাষ্ট্রকে বন্ধনে আরো দৃঢ় করতে হলে স্বামী স্ত্রীর অবিশ্বাসের দূরত্ব কমাতে হবে। তবেই সংসার ভাঙা কিছুটা হলেও সংযত হবে।
লেখক
মাহমুদুল হক আনসারী
সংগঠক,গবেষক,কলামিষ্ট

07.12.2017 | 03:23 PM | সর্বমোট ৬৭ বার পঠিত

নারী পুরুষে ভেদাভেদ" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কুটির-ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি...... বিস্তারিত

15.12.2017 | 07:22 PM




রাজধানী

তেজগাঁওয়ে খ্রিষ্টান বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী আটক

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি বাসা থেকে মিলু গোমেজ (৬৫) নামে এক খ্রিষ্টান বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ৩৮,...... বিস্তারিত

15.12.2017 | 06:20 PM


চট্টগ্রাম

চিরনিদ্রায় মহিউদ্দিন চৌধুরী

বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যায় চশমাহিলে পারিবারিক...... বিস্তারিত

15.12.2017 | 07:03 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

রাহমাতুললিল আলামিন (সা) ও মুহাম্মাদি নুরের এক মহা-নক্ষত্রের কথা

বালাগাল উলা বিকামালিহি কাশাফাদ্দোজা বিজামালিহি হাসুনাত জামিউ খিসালিহি সাল্লু আলাইহি ওয়াআলিহি।সুউচ্চ শিখরে সমাসীন তিনি নিজ মহিমায়তিমির-তমসা কাটিল তার রূপের প্রভায়,সুন্দর...... বিস্তারিত

11.12.2017 | 07:29 PM

বিনোদন

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ