নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

পর্যটকদের জন্য অতুলনীয় গঙ্গামতি

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি  ঃ কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে গঙ্গামতি নিঃসন্দেহে একটি সুন্দর নাম। বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী ও ভ্রমণপ্রিয়াসীদের দারুণ ভাবে আকৃষ্ট করবে নামটি। আর এ সুন্দর নামটিকে আরো সুন্দর করে তুলেছে এখানাকার অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য। গঙ্গামতি চর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত। প্রকৃতি নিপুণ হাতে নিখুঁত ভাবে সাঁজিয়েছে এ চরটি। বিশাল আয়তনের সবুজ বেষ্টনীর মাঝখান দিয়ে সমুদ্রে মিলিত লেকটি বলা যায় গঙ্গামতির অংলকার। লেকের জোয়ার ভাটার স্রোতে চলা মাছ ধরা ট্রলারগুলো ভ্রমণ পিয়াসু পর্যটকদের কাছে যেন প্রোমদতরী। ট্রলারে না উঠেও তীরে বসে ঢেউয়ের সাথে মোন-প্রাণ দোলা দেয় ভ্রমনপিয়াসুদের।
কুয়াকাটায় আগত ভ্রমণ পিয়াসু পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। চরজুড়ে প্রাণজুড়ানো মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এখানে রয়েছে স্বচ্ছ নীল জলরাশির একাধিক লেক আর প্রাকৃতিক কারুকাজ খচিত বিশাল বেলাভূমি। গঙ্গামতির চরের লেক ধরে আগত পর্যটকদের স্পিডবোট, ট্রলার অথবা নৌকা নিয়ে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।
খুব সকালে গঙ্গামতি সৈকতে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকচিরে সূর্যোদয় দেখার স্বপ্নিল অনুভ’তি এনে দেয় এক স্বর্গীয় আবেশ। সূর্য লাল আলো ছড়িয়ে দেয় গঙ্গামতির বেলাভূমিতে। সৈকতজুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি উচ্ছল করে তোলে অন্তর। ক্ষুদ্র কাঁকড়ার নিপুণ হাতে আঁকা নিখুঁত আল্পনা দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের নকশিকাঁথার মাঠে। গাছে গাছে বানরের লাফালাফি, শেয়ালের  সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গহীন থেকে বের হয়ে সমুদ্রে মিলিত গঙ্গামতির লেক–সাগরকন্যা ডাকাডাকি আর লুকোচুরি, শুকুরের দূরহ দন্ত দিয়ে মৃত্তিকাগর্ভের কোঁচো ধরে ভোজনের দৃশ্য দেখা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। বন মোরগের দুরন্তপনা নন্দিত করেছে গঙ্গমতি। কেওড়া, ছইলা, গেওয়া, বাইনসহ কয়েক’শ প্রজাতির বৃক্ষরাজি চিরসবুজের বিপ্লব ঘটিয়েছে এ চরে। গাছে গাছে পাখির কলরবে মুখোরিত থাকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। গহীন বনের ভিতর থেকে ছোট ছোট  খালগুলো লেকের সাথে মিলিত হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। ভাটার স্রোতের টানে বনের শুকনো পাতা ও গাছ থেকে ঝড়ে পড়া ফুলগুলো পাড়ি জমায় অজানা ঠিকানায়। ফলে ভাটায় সময় লেকটি আরো সুন্দর লাগে।
সাগরকন্যা কুয়াকাটায় এসে গঙ্গামতি না গেলে পর্যটকদের ভ্রমণ অসম্পূর্নই থেকে যায়। কুয়াকাটার জিরোপয়েন্ট থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে যেতে হয় গঙ্গামতির চরে। সমুদ্রে ভাটার সময় মাইক্রোবাস নিয়েও  যায় অনেকে। গঙ্গামতি গেলে অবশ্য সঙ্গে হালকা খাবার ও পানি থাকলে ভাল হয়। কারণ ওখানে গেলে অল্পতে ফিরতে মন চায় না কারো।
মটরসাইকেলে ভ্রমনে আসা রিয়াজ উদ্দিন ও নিসাত সুলতানা মারিয়া দম্পত্তির সাথে কথা হয়েছে। তারা ঢাকার মিরপুর থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে এসেছিলেন। মটরসাইকেল চালকদের মুখে গঙ্গামতির মনোরম দৃশ্যের কথা শুনে যেতে বাধ্য হলেন। তারা জানালেন, গঙ্গামতি এত সৌন্দর্যমন্ডিত একটি স্থান চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত। তারা প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি সরকার তথা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবে অবহেলিত থাকায় কিছুটা হতাশার সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় জেলে করিম জানান, প্রতিদিন এখানে মটরসাইকেলে দর্শনার্থীরা ভ্রমণে আসছে। তাদের সাথে পর্যটকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। তার ভাষায় সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে এখানেও প্রচুর পর্যটক আসবে এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
গঙ্গামতির একটু সামনে রয়েছে বিশাল বড় একটি ডুবোচর। ভাটা হলেই নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি খেলা করে। তাছাড়া হাজারো জেলে সমুদ্রে মাছ শিকার করছে। চকচকে বালুর বেলাভূমির মাঝে মাঝে লবনাক্ত পানির লেক দেখতে খুবই ভাল লাগে। যোগাযোগ ও বিদ্যুতের উন্নয়ন করে ব্যাপক প্রচারণা করতে পারলে কুয়াকাটার পাশাপাশি আর একটি বিশ্ব বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত তথা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্যটন শিল্প নিয়ে কাজ করছেন এমন একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এত বড় বিস্তৃর্ণ এলাকা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন শিল্প বিকাশের দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন? তাই সরকারের স্থানীয় দায়িত্বশীলদের উচিত জরুরী এ খাতে আগ্রহ দেখিয়ে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিকশিত করা। এর ফলে সরকার প্রতি বছর উপকূলীয় এলাকা হতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাবে এবং ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নতি হবে।

08.01.2018 | 08:41 PM | সর্বমোট ৮৭ বার পঠিত

পর্যটকদের জন্য অতুলনীয় গঙ্গামতি" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

রাজধানী

নাখালপাড়ায় নিহত এক ‘জঙ্গি’ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র

রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার জঙ্গি আস্তানা ‘রুবি ভিলায়’ র‌্যাবের অভিযানে নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে আরও একজনের পরিচয় মিলেছে।তার নাম নাফিস উল...... বিস্তারিত

20.01.2018 | 05:59 PM


চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

মক্কায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয় যেভাবে

আহমাদ রায়েদ   ।  ।  ইতিহাস সাক্ষী, ইসলামই সর্বপ্রথম মূর্খতা, নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বরং সব অধিকার ও...... বিস্তারিত

26.12.2017 | 07:06 PM

বিনোদন

লন্ডনের হোটেলে আইরিশ গায়িকা ডলোরসের মৃত্যু

আইরিশ ব্যান্ড 'দা ক্র্যানবেরিজ'-এর প্রধান গায়িকা ডলোরস ও’ রিওরডন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। লন্ডনে মৃত্যু হয়...... বিস্তারিত

16.01.2018 | 07:52 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ