নিউজ ৭১ অনলাইন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়

দেরিতে হলেও বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বিশ্লেষকরা। কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঁচ বছর ধরে আছেন রোহিঙ্গা শরাণার্থী আমির হোসেন। তিনি এবার রাখাইনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ভয়াবহতায় বিস্মিত। তাঁর মতে, এবার মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূল অভিযানে নেমেছে। তিনি জানান, গত কয়েকদিনে আমার অনেক আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতরা পালিয়ে এসেছেন। তাঁদের যেভাবে পেরেছি ঠাঁই দিয়েছি। অনেককে খোলা আকাশের নীচে রেখেছি। এখানে দু'টি স্কুল আছে। সেগুলো বন্ধ করে থাকতে দিয়েছি। কিন্তু কতজনকে ঠাঁই দেব? প্রতি রাতেই তাঁরা আসছেন।

তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি।

আমির হোসেন বলেন, যাঁরা পালিয়ে আসছেন তাঁরা ভয়াবহ নির্যাতনের কথা বলছেন। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। হত্যা করা হচ্ছে। এই নির্যাতনের কোনো শেষ নেই। তিনি আরো বলেন, যতই কড়াকড়ি হোক রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে আসছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও মানবিক আচরণ করা হচ্ছে। কিন্তু আর কত! সব কিছুরই তো একটা শেষ আছে। আমরা বাংলাদেশে থাকতে চাই না। আমরা নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার পেলে আমাদের দেশ মিয়ানমারেই ফিরে যেতে চাই।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশই আমাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে। তাঁর মতে, আমাদের ওপর নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশও সমস্যায় আছে। আর কত আশ্রয় দেবে? তাই আমরা চাই বাংলাদেশ যেন জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরে। জাতিসংঘের কাছে, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কাছে। রাখাইনে নির্যাতন বন্ধ এবং আমাদের সেখানে ফিরে যেতে বাংলাদেশ শক্ত আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করলে আমরা হয়ত নিজ দেশে ফিরতে পারব।

বুধবার কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর কার্যালয়ে কর্মকর্তা সংযুক্তা সাহানী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিনি জানান, যাঁরা প্রবেশ করেছে তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। এঁদের খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া যাঁরা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছে তাঁদেরকেও খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তবে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ঠিক কতজন অবস্থান করছে, তা বলা সম্ভব নয়।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমতও বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভ্যাটিকান ও পোপ, অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি), জাতিসংঘ হাই কমিশন ফর রিফিউজিসহ অন্যান্য অনেক সংস্থা ও ব্যক্তি রোহিঙ্গা নির্যাতনের খবরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক রিপোর্টে বলেছে, স্যাটেলাইট ডাটা অনুসারে রাখাইনে অত্যন্ত ১০টি অঞ্চলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে ব্যাপক হতাহতের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডাকতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠনগুলোকে ঢুকতে দেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। গুতেরেসের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলার সময় বেসামরিক নিহত হওয়ার খবর নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো দাবি করছে। এরইমধ্যে বাংলাদেশে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে এক সপ্তাহের মধ্যে দু'বার ডেকে পাঠানো হয়েছে।

শেষবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টহলের প্রস্তাব দিয়েছে। এটা নিয়ে অবশ্য সমালোচনাও হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রবেশে বিজিবি কড়াকড়ি আরোপ করলেও, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রতি মানবিক আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে কূটনৈতিক তৎপরতা নেই, তা নয়। কিন্তু যতটা হওয়া প্রয়োজন ততটা হচ্ছে না। বাংলাদেশে পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আরো জোরালো প্রতিবাদ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান নেয়া উচিত। আর সেই শক্ত অবস্থান নেয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দার মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করেছে। বিবেচনা করেছে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে আর্ন্তজাতিকভাবে এর সমাধানের দিকে যায়নি বাংলাদেশ। এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে তা ততটা শক্তিশালী নয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি – এ সব দেশ এবং ফোরামকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ মিয়ামারের সঙ্গে সম্পর্ককে কতটা স্পর্শকাতর বিবেচনা করে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। এছাড়া আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি  পুলিশ চেকপোস্টে হামলার দায় স্বীকার করায় বাংলাদেশ একটু জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

এদিকে সরকারের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চাইছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের নীতি হচ্ছে মানবিক আচরণ করা। কোনো সন্ত্রাসী বা উগ্রপন্থিরা যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, তা-ও দেখা। ওই সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ চাইছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই ইস্যুটি নিয়ে উদ্যোগ নিক এবং বাংলাদেশ সেই উদ্যোগের সঙ্গে পূর্ণ সমর্থন নিয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ইস্যুটি নিয়ে নেতৃত্ব দিতে চায় না। ২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী রোহিঙ্গারা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকার।

পরে হামলার দায় স্বীকার করে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরওসএ)। তাদের দাবি, আত্মরক্ষার্থে এ হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ পোস্টে হামলার পর রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। চলতি বছরে রাখাইনে এটা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় দফা অভিযান। বছরের শুরুতেই তারা আরো একবার অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালায়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এখন প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাস। এর মধ্যে নিবন্ধিত শরণার্থী মাত্র ২৪ হাজার। 
সূত্র: ডয়েচেভেলে

31.08.2017 | 11:07 AM | সর্বমোট ১২১ বার পঠিত

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ভণ্ডুল

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতোই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার দেহরক্ষীরা হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত ও কাউন্টার...... বিস্তারিত

24.09.2017 | 11:04 AM




রাজধানী

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষক লীগ কর্তৃক মানববন্ধন

মিয়ানমার সরকারের উস্কানিতে সে দেশের সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর পাশবিক নির্যাতন, খুন ও অগ্নিসংযোগ এবং গণহত্যার প্রতিবাদে আজ...... বিস্তারিত

23.09.2017 | 04:22 PM

চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

বিনোদন

এ সময়ের জনপ্রিয় নাট্য পরিচালক রুমান রুনি

এ সময়ের জনপ্রিয় নাট্যপরিচালক  রুমান রুনি, সব সময় সৃষ্টিশীল নাটক তৈরী করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অনেক আগেই ।...... বিস্তারিত

24.09.2017 | 12:46 PM

‘ট্রল’ তারকা

24.09.2017 | 09:51 AM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ