নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

চাকায় ঘুরে জীবন

  কমল দাশ      ।।                                                                   
কুমারপাড়ার চাকা আজ আর তেমন ঘোরে না। পল্লীবালা নদীর ঘাটে মাটির কলসি কাঁখে আসে না।এ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল মাটি। পাড়াগুলো মাটির কাঁচা গন্ধে থাকত মাতোয়ারা। ব্যাস্ত কুমাররা হিম-শিম খেতেন চাহিদা মেটাতে। হাট বাজারে মাটির তৈজসপত্রের পসরা সাঁজিয়ে বসতেন মৃৎ শিল্পিরা। নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু ছাড়াও শিশুদের খেলনা,সৌন্দর্য বর্ধন সামগ্রীসহ বিভিন্ন বাহারি মাটির তৈজসে পূর্ণ থাকত কুমারপাড়া।

 মাটির পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল, সরা, বাসন, ঘড়া, কলসি, বদনা, ঠিলার কদর প্রায় শূন্যের কোঠায়। বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক-বাহক মৃৎশিল্প। এ দেশের কুমার সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে এ শিল্প টিকিয়ে রেখেছে। তবে চরম আর্থিক সঙ্কট আর নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বহুসংখ্যক কুমার এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প নির্মম বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে এখনো কিছু জরাজীর্ণ কুমোর পরিবার ধরে রেখেছে বাপ দাদার পেশা।

 এ পেশা ছাড়তে না পেরে দারিদ্রের কষাঘাতে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।  বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার আর প্রযুক্তির নানামুখী ব্যবহারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে এবং বাজারে প্লাস্টিকপণ্য আর নিত্যনতুন শিল্পসামগ্রীর প্রসারে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে।  কুমারদের মাটি দিয়ে তৈরি নানা জিনিসের মধ্যে হাঁড়ি-পাতিল, পানি রাখার বড়-ছোট কোলা, কড়াই, কলসি, ভাড়, পসুরী, ফুলদানি, ছাইদানি, খেলনা, পুতুল, ঘরের ছাউনির টালি, ভাতের মাড় গালা নোংড়া, মাছ ধোয়া ঢোলা,

 চৌকির নিচের পায়াদানি, এছাড়া ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন প্রকার খেলনা যেমন- পুতুল, নৌকা, বালতি, গামলা, জগ, কড়াই, চুলা, টাকা জমানোর ব্যাংক ইত্যাদি বাংলার পুরনো ঐতিহ্য বহন করে। কুমারদের মাটি দিয়ে শৈল্পিক হাতে তৈরি এসব জিনিস বাড়িতে বাড়িতে ফেরি করে ও বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রি করতে দেখা যেত। এগুলো বিক্রি করে তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত। এখন সে দৃশ্য আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। প্রাথমিক অবস্থায় কাঁচা মাটির সামগ্রী গুলো প্রথমে রোদে শুকানো হয় তারপর আগুনে পোড়ানো হয়। যে স্থানে এগুলো পোড়ানো হয় তাকে বলা হয় “মইলা”। 


মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কািটার পর তার উপর খড়ের ভেতর মাটির তৈরি শুকনো কাঁচা সামগ্রী গুলো ভাঁজ করে রেখে নিচে আগুন দেয়া হয়। খড়ের উপরের অংশটি পুরোটি মাটির প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় এবং ঐ প্রলেপের উপর বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অনেক গুলো ফুটো করে দেয়া হয় যেন ধোঁয়া বের হয়ে যেতে পারে। সামগ্রী গুলো পোড়ানো হলে পরবর্তীতে এগুলো রং করা হয় এবং বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা । ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মৃৎশিল্প। দৃষ্টিনন্দন আর নানা বৈচিত্রময় ভঙ্গির দেবী মূর্তি ও ব্যবহারিক জিনিস পত্র তৈরী করে শৈল্পিক প্রশংসা কুড়ালেও মৃৎ শিল্পিদের জীবনে আসেনি কোন আলোর ছোঁয়া। ফলে  অনেকেই বাধ্য হয়ে পূর্ব পুরুষের জাত পেশা ছেড়তে বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যেতে হচ্ছে। আদিকাল থেকে দেশের ৬৪ জেলার হাজার হাজার পরিবার মৃৎশিল্পের বিভিন্ন দৈনন্দিন পন্য সামগ্রী তৈরী করে স্থানীয় হাট বাজারের চাহিদা মিটিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছে। সে সময়ে বাংলার মানুষ মৃৎ শিল্পের উপর যথেষ্ট নির্ভরশীল ছিল । প্রায় ঘরে ঘরে মানুষ মৃৎ শিল্পের নানা সামগ্রী ব্যবহার করতো। থালা, বাসন, হাড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিসিপত্রের পাশাপাশি ঘরে সৌখিন পন্য সামগ্রী নির্মিত হতো মৃৎ শিল্পের নানা কলাকৌশলে। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিকের তৈরী পণ্যের কাছে হার মানতে হয়েছে মৃৎ শিল্পের তৈরী পণ্য সামগ্রীকে। মৃৎ শিল্পীদের তৈরী সেই জনপ্রিয় জিনিসপত্র এখন আর আগের মত ব্যবহার না করায় বিলুপ্তির পথে এক সময়ে দাপুটে মৃৎ শিল্প।


অভাবের তাড়নায় মৃৎ শিল্পীরা একরকম বাধ্য হয়েই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। বাঁশখালী এলাকার মৃৎ শিল্পী মিলন কুমার পাল বলেন, এলাকায় মাটির অভাব, কাঠের গুড়ার দাম বেড়েছে, চাহিদা কমে যাওয়ায় অঅমাদের পেশা কোন রকম টিম টিম করে চলছে। তবে অচিরেই এই পেশার চাকা সম্পুর্ন থেমে যাবে। মিলন কুমার পাল আরও জানান, একটি ফুলের টব তৈরী খরচ ১৫ টাকা আর বিক্রিমুল্য ২০ টাকা। এভাবেই সংগ্রাম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কখনও খেয়ে না খেয়ে চলে আমাদের জীবন। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যেন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের উপর। বাবা-ঠাকুরের সময় থেকে হাড়ি পাতিল খুব সমাদৃত ছিলো কিন্তু বর্তমানে এই শিল্পের আর কোন কদর না থাকায় কালের চাকায় পিষ্ট হচ্ছে এক সময়ের এই মহান পেশা।


সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প হিসেবে মানুষের মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে পারলে এই পেশার আবার সুদিন ফিরে আসবে।

07.12.2017 | 04:58 PM | সর্বমোট ৯৪ বার পঠিত

চাকায় ঘুরে জীবন" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

বিজয় দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে সংবর্ধনার আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। বিকেলে বঙ্গভবনে আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রপতি...... বিস্তারিত

16.12.2017 | 07:13 PM




রাজধানী

৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কর্তৃক বিজয় দিবস উপলক্ষে রেলী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ রোজ শনিবার ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ মোহাম্মদপুর, ঢাকা মহানগর-উত্তর কর্তৃক বিজয়...... বিস্তারিত

17.12.2017 | 04:39 PM


চট্টগ্রাম

চুয়েট ছাত্রলীগের বিজয় দিবস পালন

বাঙালি জাতির ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের ৪৬ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চুয়েট শাখার উদ্যোগে সারাদিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী...... বিস্তারিত

17.12.2017 | 05:48 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

রাহমাতুললিল আলামিন (সা) ও মুহাম্মাদি নুরের এক মহা-নক্ষত্রের কথা

বালাগাল উলা বিকামালিহি কাশাফাদ্দোজা বিজামালিহি হাসুনাত জামিউ খিসালিহি সাল্লু আলাইহি ওয়াআলিহি।সুউচ্চ শিখরে সমাসীন তিনি নিজ মহিমায়তিমির-তমসা কাটিল তার রূপের প্রভায়,সুন্দর...... বিস্তারিত

11.12.2017 | 07:29 PM

বিনোদন

টিকলী’ নি‌য়ে বড় পর্দায় আস‌ছেন আ‌রে‌ফিন সোহাগ

‌বি‌নোদন প্র‌তি‌বেদক: বড় পর্দায় অ‌ভি‌ষেক হ‌তে যা‌চ্ছে নবাগত চিত্রনায়ক আ‌রে‌ফিন সোহাগের। আকাশ আর্চায্য প‌রিচা‌লিত চল‌চ্চিত্র '‌টিকলী'‌তে মূল চ‌রি‌ত্রে অ‌ভিনয় কর‌ছেন আ‌রে‌ফিন।...... বিস্তারিত

15.12.2017 | 10:22 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ