নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

বাচ্চুকে আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তদন্ত কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে দৃশ্যমান কিছু দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি ধরার জন্য দুদকের আইনগত কোনো বাধা নেই। তথ্য পেলেই তাদের ধরা হবে। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি ধরার জন্য দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একমাত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাড়া যে কারও বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে দুদক। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) আদলে দুদকের কাজ পরিচালিত হবে। দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক তাদের নিয়ে দুদক ভীত নয়।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, বিরোধীদের শায়েস্তা করার জন্য দুদক সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে না।

দুদকের ১৩ বছর পূর্তি ২১ নভেম্বর। তদানীন্তন দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে তৎকালীন বিএনপি-জোট সরকার ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুদক প্রতিষ্ঠা করে। ইকবাল মাহমুদ দুদকের পঞ্চম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ।

নিয়োগের পর প্রায় ২০ মাস হল তিনি দুদকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুদকের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে যুগান্তরকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির তদন্ত, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি অনুসন্ধান ছাড়াও প্রায় ২০ মাস আগে দুদকে যোগদানের পর তার নেয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, সরকারি দফতরের দুর্নীতি বন্ধে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের করণীয়সহ নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দুদক কার্যালয়ে তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি মামলার তদন্ত নিয়ে অনেকেই তাদের আশঙ্কার কথা বলে আসছেন। কেন চার্জশিট হচ্ছে না। ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চু কিংবা পরিচালনা পর্ষদকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না- এ প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘সবাই দুদকের কাছে চার্জশিট চায়। এমনকি আসামিরাও চায়। আমরা তো চার্জশিট দিতেই পারি। কিন্তু তো শুধু চার্জশিটই শেষ কথা নয়। তদন্ত পর্যায়ে বেসিক ব্যাংকের মামলার বিপরীতে ৫৫৬ কোটি টাকা জমা হয়েছে। ঋণের ২ হাজার ৪৩ কোটি টাকা ‘রিসিডিউল’ হয়েছে। চার্জশিট দিয়ে দিলে হয়তো এ কাজটি হতো না। নিশ্চয় এটিও এক ধরনের অগ্রগতি। কিন্তু তার মানে এ নয় যে, আমরা থেমে গেছি। তদন্ত থেমে গেছে, বিষয়টি তা নয়।

আবদুল হাই বাচ্চুকে নিয়ে জনমনে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কমিশন থেকে তদন্ত কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়ে বলেছি, তোমরা প্রয়োজন মনে করলে বাচ্চুসহ বোর্ডের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। বোর্ড হোক আর বাচ্চু হোক, কিংবা বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় যে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সেভাবেই বলে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে বাচ্চুসহ বোর্ড সদস্যদের বিষয়ে কাজ করছেন। প্রশ্ন করতে পারেন, দৃশ্যমান তো কিছু দেখছি না। আমি বলব, এখন দেখছেন না। আগামীকাল যে দেখবেন না সেটা তো বলা যাবে না। অপেক্ষা করুন। দেখেন আমরা কি করি।

তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। ৮-৯ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। ব্যাংকের টাকাগুলো কোথায় বেরিয়ে গেল সেটা নিয়ে তো আমাদের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাজ করতে হচ্ছে। তথ্য বের করতে হচ্ছে। কারণ টাকাগুলো জনগণের। আমরা যদি চার্জশিট নিয়ে আদালতে যাই, তখন আদালত জানতে চাইবেন টাকাগুলো কোথায় আছে। কার কাছে আছে। আমাদের জবাব দিতে হবে। ফলে টাকাগুলো যে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে সে পর্যন্ত আমাদের যেতে হবে। সে জন্যই তদন্তে আমরা কিছুটা সময় নিচ্ছি।

বাইরে অনেকেই আলোচনা করছেন, দুদক ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি দেখে না এমন প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি ধরতে কোনো বাধা নেই। তথ্য পেলেই তাদের ধরা হবে। আপনারা হয়তো দেখছেন ক্ষমতাসীনরা আদালত থেকে জামিন নিচ্ছেন। তাদের মামলা এখনও চলছে। আমরা ক্ষমতাসীন কাউকে দায়মুক্তি দেইনি। বেশ কয়েকজন এমপির বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারাও ক্ষমতাসীন। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির ফাইল বের করার জন্য আমাদের গোয়েন্দা ইউনিট কাজ শুরু করে দিয়েছে। তারা গোয়েন্দাগিরি করে তথ্য বের করবে। তবে সমস্যা হল, যার কাছে তথ্য থাকে সে তো ফাইল আটকে বসে থাকে। আর সেটা বের করার জন্যই আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুতেই ভীত নই। অনেকেই বলছে, আমাদের ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির করবে। আমি হাজির হতে রাজি আছি। কারণ আদালত সবার ঊর্ধ্বে। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটও যদি আমাকে ডাকেন তবুও আমি যাব। কারণ দেশের স্বার্থে আমরা কাজ করছি। ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই।’

ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে তদন্তের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, ‘একমাত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাড়া যে কারও বিরুদ্ধে আমরা অনুসন্ধান করতে পারি। আমাদের কেউ বারিত করতে পারবে না। কারণ দুদক যথেষ্ট ক্ষমতাবান। দুদকের ক্ষমতার অভাব নেই। অভাব শুধু তথ্যের। জনগণ আমাদের পূর্ণ আস্থায় নিলে শক্তভাবে আমরা কাজ করতে পারব। সুতরাং আমাদের পক্ষ থেকে বার্তা হচ্ছে- কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে- দুদক সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী হবে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিজ্ঞ রাজনীতিকদের বক্তব্যের ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। থাকাটা সমীচীনও নয়। তারা রাজনীতি করেন। দেশ চালান। আমি শুধু এতটুকু বলব, বেআইনি কোনো কাজ আমরা করতে চাই না। কারণ আমার ওপর আদালত আছেন। আমি বেআইনি কাজ করলে আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বসিনি। যদি তাই হতো তবে সরকারের লোকজনের অনুসন্ধান বা তদন্ত দুদকে থাকত না। আমি বলতে চাই, কারও এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়, বরং শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি আমরা।

যোগদানের পর উল্লেখযোগ্য কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমি দুদকের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজটিতে প্রথমেই হাত দিয়েছি। দুদকের অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির খোল নলচে পাল্টানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যরা যেন আইন মেনে কাজ করেন সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। দুদকের অভ্যন্তরেও সংশোধন আনার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে বড় দিক হল, তদবির বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছি। এখানে কোনো তদবির বাণিজ্য চলে না, এমন বার্তা সবার কাছে স্পষ্ট। আমরা তদবিরে কাজ করতে চাই না। আমি কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে একেবারে নৈমিত্তিকভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার চেষ্টা করেছি যোগদানের পর থেকে।’

টিআইবি বলেছে, দুদক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করছে এটা বলা যাবে না- বিষয়টি নিয়ে ইকবাল মাহমুদের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা টিআইবির বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। কিন্তু টিআইবি নিজেই প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করছে কিনা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, টিআইবি কতটা পক্ষপাতহীন সেটাও তো প্রশ্ন। আমি বলব সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত। টিআইবি বলছে, আমরা (দুদক) প্রভাবিত হয়ে কাজ করছি- এ বিষয়ে বলব, আমরা প্রভাবিত। তবে নিজেদের বিশ্বাস ও কাজের দ্বারা, অন্য কোথাও প্রভাবিত নই।’

টিআইবি হয়তো এটা বোঝাতে চেয়েছে যে, দুদক সরকার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করছে এ প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘যদি তারা এটা মনে করে থাকে তবে তাদের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করব। কারণ আমরা আজ পর্যন্ত কোনো চাপের কাছে মাথানত করিনি। সেটা সরাসরি হোক বা পরোক্ষভাবেই হোক। আমরা চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে মোটেও রাজি নই, করব না।

আপনি যোগদানের পর দুদক থেকে ৫ বছরের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে অগ্রগতি কতটুকু এ প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমি যোগদানের পর দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। তার মধ্যে আবার এক বছর মেয়াদি (২০১৭) পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে ছিল দুর্নীতি ধরতে নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট গঠন, দুদকে একটি হাজতখানা প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব আর্মড পুলিশ ইউনিট গড়ে তোলা, বাংলাদেশ ব্যাংক, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এনবিআরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা ও তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা, দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে একটি হটলাইন স্থাপন এবং দুর্নীতি অনুসন্ধান ও তদন্তকাজে স্বচ্ছতা-নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কোয়ালিটি তদন্ত কাজ করা। এছাড়া দুদকের অর্গানোগ্রাগ ও বিধিমালায় সংশোধনী আনার উদ্যোগ। আমি বলব, এসব কাজের মধ্যে অন্তত ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা ইউনিট গঠিত হয়েছে। দুদকের অর্গানোগ্রাম ও বিধিমালায় বেশ কিছু জায়গায় সংশোধনী আনতে প্রস্তাবনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে আমরা খসড়া তৈরি করেছি। বিধিমালায় সংশোধন হলে দুদক কার্যালয়েই দুর্নীতির মামলা করতে পারব। থানার দ্বারস্থ হতে হবে না। বর্তমানে অনুসন্ধান ও তদন্তের যে সময়সীমা আছে, তাতে কিছু সংশোধন করে এ সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত কাজ তাড়াহুড়া করে করতে গেলে মানুষের হয়রানি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সে জন্য বিধি সংশোধন দরকার।

আপনার এ ২০ মাসের মেয়াদকালে দুদক কোন জায়গায় সফলতা পেয়েছে বলে আপনি মনে করেন- এর উত্তরে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক যে কাজ করছে তার প্রমাণ হল, সমাজে একট নাড়া পড়েছে। সবার সামনে একটা বাধা- স্বাধীনভাবে দুর্নীতি করা যাবে না, পেছনে দুদক আছে। এ বার্তাটা আমরা দিতে পেরেছি। আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজটি শক্তভাবে করার চেষ্টা করেছি। কারণ, ‘আমি মনে করি মামলা-মোকদ্দমার চেয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজটি ভালোভাবে করা গেলে শেকড় থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটিত হবে। শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা আনার কাজটি শুরু হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, এখন কোচিং বাণিজ্য একটা অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। আমরা এ কাজটি করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে বলেছি, কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে তাকে পরবর্তী ক্লাসে উঠানো যাবে না। সরকারি স্কুলের দুর্নীতি বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছি। এগুলো প্রতিরোধের কাজ। আমি মনে করি, সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু দুদক যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়, তবে এর সুফল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভোগ করবে। আমরা হয়তো শুরুটা করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের কথা আমাদের মনে আছে। হইচই ফেলে দেয়ার মতো কাজ করেছেন। আমরা হইচই ফেলতে চাই না। তবে নীরবে কাজের কাজটি করতে চাই। যার মাধ্যমে দেশের মানুষ উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের দিকে বেশি করে নজর দেয়ার কারণে আমাদের মামলার সংখ্যা কমে গেছে।

দুর্নীতির অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে বলে উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের হটলাইন ১০৬ চালু হওয়ার পর অভিযোগের সংখ্যা ৬০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচারাধীন ৭০ ভাগ মামলায় আসামির সাজা নিশ্চিত করা গেছে বিচারিক আদালতে। দুর্নীতির অভিযোগ বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি দুদকের ওপর মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কারণের কথা উল্লেখ করেন। দুদকের হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ আসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান ছাড়াও কিছু কিছু ঘটনায় মানুষ সরাসরি হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বলেন, দুদকের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী প্রতিনিয়ত জেলা প্রশাসক, জেলার এসপি, ইউএনও কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনের কাছে ফোন করে দুদকে অভিযোগকারীদের হয়রানির বিষয় তুলে ধরে তাদের হয়রানি বন্ধ ও সেবা নিশ্চিতের বিষয়ে কাজ করছেন। আমি মনে করি, হটলাইন এসব ক্ষেত্রে সফল। মানুষ মন খুলে তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভোগান্তি, হয়রানি ও দুর্নীতির কথা জানাতে পারছেন। দুদক তাদের সেই প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের আদলে দুদককে গড়ে তোলার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা দুদককে সেই মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কি ধরনের পরিকল্পনা আছে এখনই খোলাসা করতে চাই না। তবে এফবিআই ও সিবিআইয়ের আদলে কাজ শুরু করতে আমরা দুদকের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। আমাদের লোকজনকে সেভাবে তৈরি করছি। আমরা আশা করছি, ওই দুটি সংস্থা যেভাবে নিরপেক্ষ ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে সেভাবে দুদকও কাজ করবে। ২০১৮ সাল দুদকের জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট হবে। আমরা কতটুকু কাজ করতে পারব তখনই স্পষ্ট হবে।

ইকবাল মাহমুদ কথা বলেন দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের কার্যক্রম, মহাপরিচালকদের তদন্তকাজে সম্পৃক্ত করা, দুদকের গণশুনানি, বীমা খাতের দুর্নীতি ধরতে বীমা কোম্পানিগুলোকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সংজ্ঞায়িত করার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা, অর্থ পাচারের তদন্তে আইনি সীমাবদ্ধতা, দুদকের ব্যর্থতাসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে।

যুগান্তরের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনা বা অর্থ পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের আইনি সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা সেজন্য মানি লন্ডারিং আইনে সংশোধনী আনতে মন্ত্রিপরিষদের কাছে চিঠি লিখেছি। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মতো কিছু কাজ আমরা করছি। তারপরও আইনে সংশোধনী আনা গেলে কাজটি আরও সহজ হবে। বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের অর্থ পাচারের তদন্তই দুদক করতে পারে। এর বাইরে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের অর্থ পাচারের তদন্ত করা দুদকের জন্য দুরূহ। সেজন্য আইনে সংশোধনী আনা দরকার বলে আমি মনে করি।

বিচারপতি জয়নুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে ৭ বছর লেগে যাওয়ার পেছনের কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই অনুসন্ধানের সঙ্গে অর্থ পাচারের অভিযোগও আছে। সেজন্য কয়েকটি দেশে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো তথ্য পাইনি। এ ক্ষেত্রেও অর্থ পাচার আইনে দুদকের তদন্তের সীমাবদ্ধতার কথাই তিনি তুলে ধরেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা তদন্তের জন্য আমরা মহাপরিচালকদের সম্পৃক্ত করছি। তাদের প্রস্তুত করছি সেজন্য। সব দিক থেকে তাদের তদন্তকাজের জন্য পরিপক্ব হতে হবে। এরই মধ্যে মহাপরিচালকদের বড় বড় দুর্নীতি মামলার তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে । দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম ২৫টি সরকারি সংস্থা ও দফতরের দুর্নীতির কারণ চিহ্নিত করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সব টিমের রিপোর্ট আমরা পাচ্ছি। রিপোর্টের সুপারিশের আলোকে দুদকের একজন কমিশনার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সভা করে অভিযোগগুলো তাদের জানাবেন। তারপর সংশোধন হওয়ার কথা বলবেন। না হলে দুদক নিজের মতো করে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি দুদকের কাজে গণমাধ্যমসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে দেশের জন্য দুদক দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মতো কিছু কাজ করে যাবে। যার সুফল ভোগ করবে আগামী প্রজন্ম। দেশে দুর্নীতি কমলে জিডিপি বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুগান্তর

18.11.2017 | 09:24 AM | সর্বমোট ১৯৩ বার পঠিত

বাচ্চুকে আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছি" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কুটির-ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি...... বিস্তারিত

15.12.2017 | 07:22 PM




রাজধানী

তেজগাঁওয়ে খ্রিষ্টান বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী আটক

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি বাসা থেকে মিলু গোমেজ (৬৫) নামে এক খ্রিষ্টান বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ৩৮,...... বিস্তারিত

15.12.2017 | 06:20 PM


চট্টগ্রাম

চিরনিদ্রায় মহিউদ্দিন চৌধুরী

বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যায় চশমাহিলে পারিবারিক...... বিস্তারিত

15.12.2017 | 07:03 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

রাহমাতুললিল আলামিন (সা) ও মুহাম্মাদি নুরের এক মহা-নক্ষত্রের কথা

বালাগাল উলা বিকামালিহি কাশাফাদ্দোজা বিজামালিহি হাসুনাত জামিউ খিসালিহি সাল্লু আলাইহি ওয়াআলিহি।সুউচ্চ শিখরে সমাসীন তিনি নিজ মহিমায়তিমির-তমসা কাটিল তার রূপের প্রভায়,সুন্দর...... বিস্তারিত

11.12.2017 | 07:29 PM

বিনোদন

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ