নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

ভোট উৎসব একটি আনন্দ

মাহমুদুল হক আনসারী ::
নাগরিকের জন্য ভোট একটি উৎসব হিসেবে দেখে আসছি। ভোট অর্থ মতামত প্রদান করা। আমাদের দেশে ৫ বছর অন্তর অন্তর ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও সংসদীয় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। সেসব নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, বিভিন্ন প্রতিষ্টানিক ব্যক্তি প্রার্থী হন। প্রার্থীদের যোগ্যতা সক্ষমতা যাচাই বাছাই  করা হয়। এজন্য স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দেশব্যাপী তাদের শাখা প্রশাখার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম তদারক করেন। প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা দেখা হয়। প্রার্থীর বিরোদ্ধে ফৌজদারী মামলা তদারকি করা হয়। বৈধ অবৈধ গোপনীয় আয় ও ব্যয় নির্ণয় করা হয়। প্রার্থী কতটুকু যোগ্য ও অযোগ্য ডকুমেন্টারী ভাবে দেখভাল করেন নির্বাচন কমিশন। এসবের পর প্রার্থী কতটুকু জনবান্ধব, জনদরদী, সমাজ কর্মী ও মানব দরদী কি না, বিবেচনা করেন স্থাণীয় জনগণ। প্রার্থী আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ করে সব ঠিকটাক হলে সেক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। নির্বাচনী যুদ্ধ সেটা একটা মহা সংগ্রাম। সে সংগ্রামে প্রার্থীকে ভোটারের ঘরে ঘরে পাড়ায় মহল্লায় মসজিদ মন্দির গীর্জা  স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে সামাজিক নানা অনুষ্টানে প্রার্থীকে গণ সংযোগে অবিরাম নির্ঘুম পরিশ্রম করতে হয়। এসব তৎপরতায় প্রার্থী ভোটারের মন জয় করতে পারলে সেখানে প্রার্থীর ভোটের বিজয় আশা করা হতো। আজ থেকে দুই যুগ পূর্বেও আমাদের দেশে ভোটের সে আমেজ আনন্দ উৎসব লক্ষ্য করেছি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থী ভোটার উভয়ের মধ্যে একটা ভোট উৎসব লক্ষ্য করা যেত। প্রার্থী প্রতিদন্দী উভয়ের মধ্যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ ভালোবাসার সম্পর্ক দেখা যেতো। একে অপরের বিরোদ্ধে তেমনভাবে বিশুদগার ও আক্রমণাত্মক  বক্তব্য দেখা কম যেতো। প্রতিদন্দী প্রার্থী সকলেই তাদের উদ্দেশ্য আদর্শ কর্মসূচী ও প্রতিশ্রুতি জনগণের নিকট উপস্থাপন করতো। এসব ছিল ভোট আনন্দ। মানুষের মিছিল আনন্দ মিছিল ভোট প্রার্থনার মিছিল এক প্রকার ভোটারের আনন্দ আর উৎসবে মেতে উঠতো। ভোটাররা তাদের মূল্যবান মতামত ব্যাক্ত করার জন্য দলে দলে কেন্দ্রে যেতে দেখা যেতো।  রিকশা, ভ্যানগাড়ি, পায়ে হেটে অনেক দূরে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসত। বয়ো:বৃদ্ধ মানুষগুলোকেও  এ আনন্দে দেখা যেতো। এক ঐতিহাসিক সে ভোটের উৎসব আবহমান বাংলার স্মৃতি ছিল। ভোটের দিন যে রূপ আনন্দ উৎসব ছিলো নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার পর বিজয় উৎসব আরো আনন্দের হয়ে উঠেতো। ভোট শেষ হওয়ার পর বিজয় প্রার্থীকে ঘোষণার পর সে আরেক আনন্দ। মিষ্টি খাওয়া,  বিভিন্ন অনুষ্টানের মাধ্যমে ভোটারদের আনন্দ উৎসব পালন করতে দেখা যেতো। কোথায় গেল সে আনন্দ সে উৎসব, সেটা এখন আর চোখে পড়ে না। কয়েক বছর আগে কিছ কিছু ভোট কেন্দ্রে ভোট ছিনতাইয়ের চিত্র দেখা গেলেও ভোট ডাকাতি বাকশো ছিনতাই তেমন চোখে পড়তো না। সেদিনের নির্বাচন আমেজ আনন্দ ভোটার জনগণ উৎসব হিসেবে গ্রহণ করতো। বিজয়ী প্রার্থী ভোটারের ভোট পরবর্তী সময়ে ঘরে ঘরে গিয়ে কৌশল বিনিময় করতো। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় সে আমেজ এখন ভোটের কার্যক্রমে দেখা মিলছে না। ভোট এখন পেশিশক্তি ঐশি ষড়যন্ত্রে আবদ্ধ হয়ে গেছে। এখন আর ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে খুব কম সংখ্যক নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। জনমুখে শোনা যায়, ভোট নাকি আগেভাগে দেয়া হয়ে যায়। ভোট কার্যক্রমে অংশ নেয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ আগের দিনে উৎসাহ উদ্দীপনা কার্যক্রমে অংশ নিতো। এখন দেখি তারা ভয় ভীতি আর উৎকন্ঠার মধ্যে শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনের কারণে অবস্থান করে। অনেক পোলিং  অফিসার ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশঙ্কার মধ্যে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। কোনো কোনো সময় কেন্দ্রে তাদের জীবনও হুমকির মধ্যে পড়ে। এসব আশংকা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কতিপয় প্রার্থী ও তার সমর্থকের কাছে ওইসব অফিসার জিম্মি হয়ে পড়ে। এটা কিন্তু গণতন্ত্র জনতন্ত্রের জন্য মোটেও কাম্য নয়। ভোট নাগরিক অধিকার। সাংবিধানিক প্রাপ্য। নাগরিক ভোট সংস্কৃতি ও অধিকারে অংশগ্রহণ করবে, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ ভোট কার্যক্রমে অংশ নেবে সেটাই হওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। ভোট যার যার মতো করে প্রদান করবে সেটাই ছিল ভোটের উদ্দেশ্য এবং গনতন্ত্রের কথা। কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সে ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্র এখন হুমকির মুখে। ভোট রাজনীতি গনতন্ত্র এটা এদেশের মানুষের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার। অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা স্বাস্থ্যের সাথে ভোটের অধিকার প্রাপ্ত ভোটারদের নৈতিক অধিকার। এ অধিকার খর্ব হওয়া অথবা কোনো পক্ষ সে অধিকার ধ্বংস করা গণতন্ত্রের জন্য অশনী সংকেত। জাতি এ ধরনের কর্মকান্ড অনৈতিক ভোট সংস্কৃতি কামনা করে না। কয়েক বছরের ব্যবধানে ভোটের এ পরিবেশের যথেষ্ট ভাবে আলোচনা সমালোচনা জনমুখে শোণা যাচ্ছে। জনগণের বক্তব্য আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। সে সংস্কৃতি মতামত ব্যাক্ত করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ভোটারগণ। সেটা জাতির জন্য অমঙ্গলজনক। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে গণতন্ত্র আর জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রাপ্তির জন্য। জনগণের অধিকার প্রতিষ্টা হবে গণতান্ত্রিক প্রকিৃয়ার মাধ্যমে। সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব। জনগণকে ভোটবিমুখ করা অথবা হয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করা কোনো অবস্থায় গণতান্ত্রিক দেশে মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কয়েকটি সিটি নির্বাচন উপ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি। দেশি বিদেশি বহু সংগঠন এসব নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিল। দেখা গেছে সেখানে ভিন্ন  মতের প্রার্থী ও ভোটারের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা প্রদান করা হয়েছে। ভিন্ন মতের প্রার্থীদের গণ সংযোগ ও ভোট প্রদানে ভয় ভীতি ও বাধা প্রদান করার সংবাদ বহু সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। এ ধরনের গণতন্ত্র আর ভোট যুদ্ধ ভোট সংস্কৃতির জন্য কোনো অবস্থায় কাম্য নয়। ভোট আমার নাগরিক দায়িত্ব। দেশ ও জনগণের কল্যাণে প্রার্থী ও ভোটার ভোট আনন্দে অংশগ্রহণ করবে। ভোট যুদ্ধে নির্বাচিত হওয়া সেটা ব্যাক্তি বিশেষের কল্যাণে নয়। সামগ্রিকভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে একজন বিজয়ী প্রার্থী কাজ করবে সেটাই নাগরিক প্রত্যাশা। জাতীয়ভাবে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হোক না কেনো সে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে সেটাই রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্য। কিন্তু এখন যেসব নির্বাচন অনুষ্টান হচ্ছে সেখানে কতটুকু সুষ্ট নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্টান সম্পন্ন হচ্ছে সেটা গোটা জাতি অবগত আছে। বক্তব্য হচ্ছে নাগরিককে তার ভোট দেয়ার পরিবেশ দিতে হবে। যার ভোট তাকে দেয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দায়িত্ব। জনগণের সাংবিধানিক এ অধিকার কেনো জনগণ পাবে না, সেখানেই জনগণের অসংখ্য উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা। সামনে আরো অনেকগুলো স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্টান অনুষ্টিত হবে। ্এসব নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের আনন্দ আমেজ উৎসব  ফিরিয়ে দিতে হবে। পেশিশক্তি অদৃশ্য শক্তি থেকে ভোট সংস্কৃতিকে মুক্ত করতে হবে।  ভোটের অধিকার ভোটারের হাতে ফেরাতে চাই। সে লক্ষ্যে সরকার প্রশাসন রাজনৈতিক সামাজিক সবগুলো প্রতিষ্টানকে এগিয়ে আসতে হবে। রক্ষা করতে হবে গণতন্ত্রকে। বাঁচাতে হবে ভোট ও ভোটারদেরকে। পেশিশক্তি অদৃশ্য শক্তি থেকে ভোট ও ভোটারদের রক্ষায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকা চায়।
লেখক
মাহমুুদুল হক আনসারী
সংগঠক,গবেষক,কলামিষ্ট

15.02.2020 | 02:03 PM | সর্বমোট ৫১৩ বার পঠিত

ভোট উৎসব একটি আনন্দ" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

বাকি খুনিদেরও ফেরত আনা হবে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদ গ্রেফতার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ...... বিস্তারিত

07.04.2020 | 06:16 PM




রাজধানী

চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ

রমজান মাস আসন্ন। বছর ঘুরে আবারও আসছে মুসলিম জাতির জন্য অত্যন্ত পবিত্র এ মাসটি। ১৪৪১ হিজরি অর্থাৎ ইংরেজি ২০২০ সালের...... বিস্তারিত

05.04.2020 | 09:43 AM

বিনোদন

করোনা ভাইরাস : স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা থাকছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস

হাজারও ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ই হয় সবচেয়ে সুন্দর। পরিবারকে সুখে রাখতেই মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেন। চিত্রনায়ক ফেরদৌসও ব্যতিক্রম...... বিস্তারিত

07.04.2020 | 04:28 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত


অতিথি কলাম


সাক্ষাৎকার


অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস


ভিডিও সংবাদ