নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

শিক্ষা কার্যক্রমে গাইডবুক মেনে নেয়া যায় না

মাহমুদুল হক আনসারী :: 
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমে গাইডবুকের প্রচলন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বিনামূল্যে রাষ্ট্রের পক্ষে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলছে। শিক্ষা জাতির জন্য অপরিহার্য বিষয়। শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালু আছে। শহর নগর সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষা খাতকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বছরের প্রথম দিন সন্তানদের হাতে বই তুলে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থী শিক্ষক সকলের জন্য রাষ্ট্রীয় সর্বাত্মক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রী শিক্ষা সচিব  শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি  করার জন্য রাষ্ট্রীয় অনেকগুলো সংস্থা কাজ করছে। প্রাথমিকের বই থেকে মাস্টার্সসহ সবগুলো শিক্ষা কার্যক্রম নিরূপম নির্ভূলভাবে পরিচালনার জন্য অনেকগুলো সংস্থা তৎপর রয়েছে। যেসকল শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন তাদের সুযোগ সুবিধা বেতন ভাতা , এমপিওভুক্তি সবকিছু সরকার  ও মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সাথে ন্যায্য অধিকার দিয়ে যাচ্ছে। তবুও  স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষায় যেভাবে লেখাপড়ার মান থাকার ও পাওয়ার কথা ছিল তা কিন্তু বাস্তবে সমাজ দেখছে না। শিক্ষা অমূল্য সম্পদ। জাতির উন্নয়ন অগ্রগতির সোপান। শিক্ষা ব্যতিরেকে জাতিকে অগ্রগতিতে নেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এ শিক্ষায় এক শ্রেণীর শিক্ষক ও কতিপয় মহল শিক্ষাকে জাতীয়ভাবে ধ্বংস করতে ওঠেপড়ে লেগেছে। বহু আলোচনা সমালোচনার পর সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়। এখানে গাইডবুকের প্রয়োজন পড়ে না। একজন শিক্ষার্থী তার সিলেবাস বই রপ্ত করে সেখান থেকে সে তার মেধা যাচাই বাছাই করার কথা। শিক্ষক ছাত্রকে সেভাবে গড়ে তুলবে। সৃজনশীল শিক্ষা দিয়ে  ছাত্রকে লেখাপড়ায় সহযোগীতা করার দায়িত্ব শিক্ষক সমাজের। সরকার বিনা মূল্যে প্রাথমিক থেকে এসএসসি পর্যন্ত বই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু সে ফল শিক্ষার্থী অভিভাবক পাচ্ছে বলে মনে হয় না। প্রাথমিক স্তর থেকে এসএসসি পর্যন্ত সবগুলো ক্লাসের জন্য ছাত্রকে গাইড বইয়ের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। স্কুল থেকে গাইড বইয়ের তালিকা প্রদান করা হয়। এক শ্রেণীর গাইডবুক প্রকাশক আগে থেকে স্কুল ও কতিপয় শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে গাইড বইয়ের তালিকা তৈরি করে রাখে। অবশ্যই ছাত্রদের গাইড বই বাজার থেকে ক্রয় করতে হয়। শিক্ষক নিজেও গাইড বইয়ের সাহায্যে পাঠদান করছে। শিক্ষার্থীদের গাইড বইয়ের প্রতি আসক্ত করা হচ্ছে। মূল বই ফেলে রেখে গাইড বইয়ের ওপর পড়ালেখা করতে দেখা যাচ্ছে ছাত্রদের। বিভিন্ন মহল থেকে প্রকাশিত এসব গাইডবই কিভাবে বাজারে আসছে সেখানেই নানা প্রশ্ন। কোটি কোটি টাকার এসব বই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌছে যাচ্ছে। দশ টাকার বই একশো টাকায় বিক্রি করছে। জমজমাট গাইড বইয়ের ব্যবসা। লাইব্রেরীগুলোতে এখন পুরো দমে গাইড বইয়ের ব্যবসা চলছে। স্থাণীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে কিভাবে ফাকি দিয়ে এসব গাইডবুক বাজার দখল করছে সেখানে অনেক প্রশ্ন রয়ে যায়। কয়েক দিন পূর্বে শিক্ষামন্ত্রী গাইড বইয়ের ব্যাপারে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন গাইড বই নির্ভর শিক্ষা চলতে পারে না। এসব  অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। স্থাণীয় প্রশাসনের মাধ্যমে গাইডবই বিরোধী অভিযান চালানোর কথাও তিনি বলেছেন। প্রতিবছর এ সময়ে গাইডবুক নিয়ে লেখালেখি কথা হয়ে থাকে। পত্রিকায় লেখালেখি হলে প্রশাসন কিছুটা ঘুরেফিরে ওঠে। আবার সারা বছর এসব অনৈতিক কাজকর্ম চলে। কথা হচ্ছে গাইড বইয়ের সাথে জড়িত শিক্ষক প্রকাশক ও ছাত্র। আসলে ছাত্রদের ব্যবহার করে গাইডবইয়ের হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য। তাহলে সরকারের বিনামূল্যে বই বিতরণের দরকার কি ছিল। এক দিকে সরকার বিনামূল্যে বই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিচ্ছে। অন্যদিকে চড়া মূল্যে গাইডবই বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ছাত্রদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। পক্ষান্তরে এসব সাফার করছে অভিভাবক মহল। সৃজনশীল শিক্ষা কার্যক্রম চললে সেখানে গাইড বইয়ের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাস্তবে স্কুল গুলোতে কি শিক্ষা দেয়া হয়, সে জায়গায় অভিভাবকদের প্রশ্ন। এতো সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও শিক্ষকগণ গাইডবুক নির্ভর শিক্ষায় জড়িত। এটা মেনে নেয়ার কথা নয়। শিক্ষকদের অবশ্যই সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। অভিভাবক, স্কুল কমিটিকে তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।  জানা যায়, স্কুল মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক ক্লাসে গাইডবুক হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়। এটা আরো মারাত্মক অপরাধ। যাদের সিলেবাস পড়ে শিক্ষা দেয়ার মতো সৃজনশীল জ্ঞান নেই, তাদের এ পেশায় আসা উচিত নয়। তাদেরকে নিযোগ দেয়াও অন্যায়। সুতরাং শিক্ষা যেহেতু উন্নয়ন অগ্রগতির  অন্যতম সোপান, সেহেতু শিক্ষাকে অবশ্যই এ জাতীয় অনৈতিক দুর্নীতির রাহু গ্রাস থেকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য স্কুল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি স্থাণীয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব রয়েছে। গাইডবুক ছাপা বাজারজাত বেচাবিক্রি সবকিছু কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। স্কুল মাদ্রাসা থেকে গাইডবুক ভিত্তিক শিক্ষা বন্ধ করতে হবে। গাইড বই নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করতে শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদেরকে সৃজনশীল শিক্ষা বিস্তারে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাবান্ধব নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন শিক্ষক ও অভিভাবকদের এসব প্রতিষ্টানের কমিটিতে রাখতে হবে। শিক্ষানুরাগী শিক্ষিত জনগণকে শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। গাইডবুক, কোচিং নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসব কাজে জড়িতদের ছাড় দেয়ার মতো নয়। তারা ধীরে ধীরে জাতিকে অন্ধকারের দিকে ধাবিত করছে। আগামী দিনের প্রজন্মের শিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে অবশ্যই এসব অনৈতিক গাইডবুক ও কোচিং কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
লেখক
মাহমুুদুল হক আনসারী
সংগঠক,গবেষক,কলামিষ্ট

10.02.2020 | 09:54 AM | সর্বমোট ১৭৭ বার পঠিত

শিক্ষা কার্যক্রমে গাইডবুক মেনে নেয়া যায় না" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

মুজিব বর্ষে ৩০০ আসনে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে একযোগে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প বসানো হবে।...... বিস্তারিত

25.02.2020 | 05:16 PM




রাজধানী

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান, মিলল ২০ কোটি টাকা

রাজধানীর পুরান ঢাকায় ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব-৩। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় পুরান ঢাকার ১১৯ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে...... বিস্তারিত

25.02.2020 | 12:20 PM


চট্টগ্রাম

হলদিয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের জানাযা সম্পন্ন

চট্টগ্রাম রাউজান হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং হলদিয়া এয়াছিন শাহ্ পাবলিক স্কুলের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক আলহাজ¦ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের জানাযা...... বিস্তারিত

25.02.2020 | 12:46 PM


ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যয়ে মহানবী (সা.) এর নির্দেশনা

আতাউর রহমান খসরু  ::: দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। তাই...... বিস্তারিত

25.02.2020 | 10:23 AM

বিনোদন

সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মায়ের ২১ প্রশ্ন

ঢাকাই সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহর রহস্যঘেরা মৃত্যু নিয়ে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কাছে ২১টি প্রশ্ন...... বিস্তারিত

25.02.2020 | 12:24 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত


অতিথি কলাম


সাক্ষাৎকার


অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস


ভিডিও সংবাদ