নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

পাহাড় নদী ও পরিবেশ বাঁচাও

মাহমুদুল হক আনসারী::
পাহাড় নদী ও পরিবেশ ধ্বংসের শেষ সীমায়। দেশে যে পরিমাণ পাহাড় ছিল কোনো পাহাড়ের অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া যাবেনা। বাংলাদেশের সবগুলো পাহাড়ি অঞ্চল এখন উজাড়। বৃহত্তর চট্টগ্রাম পাহাড়ি সৌন্দর্য্যে ভরপুর ছিল। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম পাহাড়ি সৌন্দর্য্যরে নগর বললে বেশি বলা হবেনা। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এখন একটি পাহাড়ও তার আপন স্বকীয়তায় পাওয়া যাবেনা। চট্টগ্রামের উত্তর দক্ষিণ উপকূল ছাড়া সবগুলো এলাকাতে কমবেশি উঁচু নিচু পাহাড়ের অস্তিত্ব ছিল। বর্তমানে পর্যায়ক্রমে পাহাড়গুলোর স্বকীয়তা ও অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। সরকারী বেসরকারী মালিকানাধীন এসব পাহাড় ভূমিদস্যু রাঘব বোয়ালদের দখলে। পাহাড়ী এলাকায় চোখ গেলেই দেখা মেলে এসব পাহাড় নানাভাবে কেটেছিঁড়ে তার অস্তিত্ব বিলীন করে ফেলছে। পাহাড়ের পাদদেশে হাজার হাজার মানুষ পরিবার মিলে বসবাস করছে। এসব পাহাড়ে ভূমিদস্যুদের শক্ত কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির পেছনে রাজনৈতিক শক্তি কাজ করছে। পাহাড়গুলো ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে অহরহ বেচাবিক্রি হচ্ছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করছে। সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। পাড়া মহল্লা তৈরি হচ্ছে। মসজিদ মন্দির ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সরকারী জমি ভূমি দখলের নানা ধরনের ছলচাতুরী করা হয়। এসব পাহাড় বেদখল একদিনের কোন কর্মসূচী নয়। যুগ যুগ ধরে এসব পাহাড়ের পেছনে ভূমিদস্যুরা সিন্ডিকেট করে বহাল তবীয়তে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নি¤œস্তর পর্যন্ত তাদের তদবীর ও অবৈধ অর্থের লেনদেন হয়। ফলে পাহাড় উজাড় ও ছিন্নভিন্ন হলেও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  সঠিক ও গঠনমূলক কর্মসূচীর অভাবে পাহাড় রক্ষা করা যাচ্ছেনা। কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশাসন পাহাড় রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও বাস্তবে তাদের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ জনগণ দেখছেনা। ফলে দেশে যে পরিমাণ পাহাড় ভূমি রয়েছে তা এখন আর পাহাড় হিসেবে দেখা মিলবেনা। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের পাহাড়ের এ করুণ দশা। পাহাড় কর্তন ও ধ্বংস জাতির জন্য ভয়াবহ একটি বিষয়। পাহাড়ের সাথে পরিবেশের সম্পর্ক। পাহাড়ে জীববৈচিত্র ও পশুপাখির বিচরণ। পাহাড় ধ্বংস হওয়ার কারণে পশুপাখি জীববৈচিত্র আশ্রয়হীন হয়ে গেছে। পাহাড়ের গাছপালা এখন আর দেখা যায়না। এসব গাছপালাও উজাড় করে ধ্বংস করা হচ্ছে। জ্বালানী ও ব্রীকফিলের লাকড়ী হিসেবে এসব পাহাড়ী সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। পাহাড় ও বনজঙ্গল রক্ষায় বনবিভাগ বিশাল একটি সেক্টর। তাঁর সামনেই দিনরাত পাহাড়ী সম্পদ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। যা দেখেও বাস্তব পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের নেই। উজাড় পাহাড় উজাড় বনজ সম্পদ যার ফলে পরিবেশ ও মানব জীবন ধ্বংসের মুখোমুখি। এসব পাহাড় পর্বত গাছপালা পরিবেশের জন্য না থাকলে কী পরিমাণ মানবজীবনে ধ্বংস নেমে আসবে সেটা কমবেশি সব সচেতন নাগরিক বুঝেন। বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেবশের যে বিরুপ কর্মকান্ড আমরা দেখছি তার জন্য জনগণই দায়ী। পাহাড় ধ্বংস হওয়ার কারণে পরিবেশের উগ্রতা তুফান আর সাইক্লোন সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবছর কোনো না কোনো সময় বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে ও সমতলে ঘুর্ণিঝড় সাইক্লোন আঘাত করছে। এসব বৈরী আবহাওয়া দিন দিন বাড়ছে। কারণ পাহাড় ও পরিবেশ সঠিকভাবে রক্ষা না হলে কোন অবস্থায় মানবজীবনের নিরাপদ জীবন আসা করা যায়না। যে পরিমাণ পাহাড় ও জমি প্রতিনিয়ত বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের জন্য তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে, সে কারণে পরিবেশের এ বিরুপ প্রভাব। বৈরী পরিবেশের মধ্যে যে পরিমাণ বিল্ডিং গড়ে উঠছে সেখানেও পরিবেশের কথা রয়েছে। একই নিয়মে পাহাড় ধ্বংসের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে দেশের নদীগুলো দখল হচ্ছে। নদী রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অনেকগুলো পরামর্শ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চিন্তাধারা থাকলেও তা বাস্তবায়ন দেখছিনা। নদী এখন নদীখেকু ভূমিদস্যুদের দখলে। নদীর দখল ও দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পরিবেশকে নিয়ে গেছে। দেশের ছোটবড় সবগুলো নদী এখন রাঘব বোয়ালদের দখলে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলছে ব্যাবসায়ীক কর্মকান্ড। নদী ঘেষে মিল কারখানা ইন্ডাষ্ট্রী গড়ে তুলছে। এসব মিল কারখানার উচ্ছিষ্ট বর্জ্য সাগর নদীতে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ফলে সাগরের নানা প্রজাতির মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। সাগরের নব্যতা হারিয়ে ফেলছে। নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ ধ্বংস অর্থ দেশ ও জাতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সময় এসেছে কঠোরভাবে পাহাড় নদীকে রক্ষা করার দ্বীপ্ত শপথ নিতে হবে। আমি আপনি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যে পাহাড় নদীকে তার স্বকীয়তায় বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মাদক ও জঙ্গীবিরোধী অভিযানের মতো সফল অভিযান পরিচালনা করে নদী ও পাহাড়কে রক্ষা করতে হবে। নদী পাহাড় না বাঁচলে সমাজ ও রাষ্ট্র বাঁচিয়ে রাখা সম্ভবনা। পরিবেশবাদী সংগঠন থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর রয়েছে। তার সামনেই পরিবেশ ও নদী পাহাড় ধ্বংস হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চোখ বুঝেই দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত দশলাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয় দিতে গিয়ে টেকনাফ কক্সবাজারের পাহাড় বনজঙ্গল একপ্রকার উজাড় হয়ে গেছে। তাদেরকে পুনর্বাসন করতে গিয়ে পাহাড়ের সাথে বাংলাদেশের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি আমরা ঢেকে এনেছি। যে পরিমাণ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে গিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা ফিরে পেতে এ জাতির সম্ভব নাও হতে পারে। এভাবে পাহাড় ও নদীর ধ্বংসের মহাউৎসব জাতি দেখছে। এ দেখা যেন শেষ হচ্ছেনা। এ পরিণতির শেষ কোথায় সেটাও বলতে পারছিনা। ভয়াবহ এ খেলা থেকে পরিবেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। দেশ জাতির স্বার্থে আগামী দিনের সুন্দর সমাজ ও পৃথিবী বিনির্মাণে পাহাড় নদী রক্ষা করতে হবে। অবৈধ দখল ও  ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আপন স্বকীয়তায় নদী ও পাহাড়কে ফিরে আনতে হবে। তা যদি রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষে সম্ভব হয় তাহলে হয়তো আগামী দিন অথবা আগামী প্রজন্ম সুন্দর বাংলাদেশ ফিরে পেতে পারে। পরিবেশ সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিরাপদে বাঁচাতে হলে অবশ্যই নদী পাহাড় রক্ষা কর। এ দায়িত্ব প্রশাসন থেকে সমস্ত সচেতন নাগরিকের। আসুন পাহাড় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই।

21.05.2019 | 08:32 PM | সর্বমোট ২৬৬ বার পঠিত

পাহাড় নদী ও পরিবেশ বাঁচাও" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অনুমতি পেল বিমান

যাত্রীর লাগেজ কাটা, যাত্রী হয়রানি, টিকিট জালিয়াতি, সম্পত্তি উদ্ধারসহ বিমানের নিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধ দমনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে বিমান...... বিস্তারিত

18.06.2019 | 07:13 PM


রাজধানী

চট্টগ্রাম

চট্টলা এক্সপ্রেসে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, যাত্রীদের সর্বস্ব লুট

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ফেনী স্টেশন ছাড়ার পর একটি বগির ছাদে থাকা যাত্রীদের মারধর ও...... বিস্তারিত

13.06.2019 | 02:29 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

বিনোদন

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ