নিউজ রুম এডিটর, নিউজ৭১অনলাইন

নাগরিক ও ভোট

মাহমুদুল হক আনসারী

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্বাধীন হয়েছে।এদেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।গণতান্ত্রিক পরিবেশ রাজনীতি পরিচালিত হোক সেটায় কামনা করে।গণতন্ত্রে ধারাবাহিকতা হলো ভোটাধিকার।নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে চায় জনগণ।এদেশে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্য্ন্ত ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি মনোনয়ন করা চালু হয়েছে।ইউপি থেকে জাতীয় সংসদ পর্য্ন্ত নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয়ে আসছে।বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর হতে অদ্যবধি নিবন্ধিত অনিবন্ধিত দুই শতের অধিক রাজনৈতিক দলের নাম শোনা যায়।মুষ্টিময় কয়েকটি দল ছাড়া অন্যসব রাজনৈতিক দলের তেমন কর্মকান্ড দৃশ্যমান নয়।অনেক দলের জেলা উপজেলায় ঠিকানাও খুঁজে পাওয়া যায় না।নির্বাচন আসলে তখন ওই ধরনের রাজনৈতিক দলের তৎপরতা দেখতে পাওয়া যায়।নাম সর্বস্ব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নির্বাচন নিয়ে দৌড়জোড় ও কথাবার্তা শুনতে পাওয়া যায়।গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে কথা বলার অধিকার দল নাগরিক সকলেরই আছে।তবে অধিকার আছে বলে গণতন্ত্র আর ভোটের নামে লাগামহীন কথাবার্তা বলাও জনগণ ভালোভাবে দেখে না।রাজনীতি করা এটা নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।তবে রাজনীতি হওয়া চায় দেশ ও জনগণের কল্যাণে।আর যারা দেশ জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করবে ভোটে তাদের সমর্থন দেয়া দরকার।বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ভোটাধিকার প্রয়োগ একটি কঠিন ব্যাপার।স্বাধীনতার পর হতে নাগরিকের ভোটাধিকার নিয়ে যারাই বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন সকলেই কম বেশী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করেছে।এ সংস্কৃতি এখনো অব্যাহতভাবে চলছে।রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতার বাইরে থাকলে ভোট ও ভোটের অধিকার নিয়ে ছড়া ছড়া বক্তব্য রাখা হয়।আর কোনো প্রকারে একবার ক্ষমতার ওই চেয়ারের নাগাল পেলেই জনগণের ভোটাধিকারের অধিকার বেমালুম ভুলে যান।নানা ছলচাতুরী আর কৌশল ব্যবহার করে নাগরিকের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়।যেহেতু ক্ষমতায় তারাই থাকে, ফলে ক্ষমতার সমস্ত শক্তি নিজের পক্ষে ব্যবহার করে আবার ক্ষমতায় বসার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করা হয়।এতে করে জনগণ একদিকে অন্যায় জুলুম ব্যাভিচার ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে পারে না।ক্ষমতার দাপটে দুর্নীতির শির্ষে পৌছেও সেক্ষেত্রে জনগণ এক ধরনের বোবা হয়ে যায়।কারণ গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের নিয়ম।এ শৃংখলা যখন ভঙ্গ হয় তখন জনগণ শক্তিহীন হয়ে পড়ে।দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাসীন সরকার জগৎদল পাথরের মতো জনগণের উপর চেপে বসে।দুঃখজনক হলেও সত্য স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নিরাপদ ভোটাধিকারের অধিকার ভোটারদের দিতে পারে নি।ভোট সঠিকভাবে প্রয়োগের জন্য সুস্থভাবে নির্বাচন ও ভোট সম্পন্ন করার জন্য একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দেশে বিদ্যমান আছে।নির্বাচন কমিশনের সমস্ত ক্ষমতা থাকলেও এক্ষেত্রে এ সংস্থাও মনে হয় যেনো সঠিকভাবে আইন প্রয়োগে ব্যার্থ হয়।সমস্ত নির্বাচনে অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতি কালো টাকার ছড়াছড়ি এব্ং জোরপূর্বক জাল ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত করা হয়।এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ সংবাদ মামলা নির্বাচন অফিসে করা হলেও বেশীরভাগ অভিযোগের কোনো সুরাহা হয় নি।বাংলাদেশের ভোটধিকার এবং নির্বাচনের চিত্র হলো জোর যার ভোট তার।যিনি যেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে, কালো টাকা ছিড়িয়ে দিতে পেরেছে, জালভোট বর্জন করতে পেরেছে তিনিই বিজয়ী হয়েছেন।সতরাং বাংলাদেশের ভোটারগণ সচেতন হলেও তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে অধিক সচেতন বলে আমার মনে হয় না।কোনো কোনো এলাকায় রাতের আধাঁরে টাকার বিনিময়ে ভোট বেঁচা বিক্রি হতে শোনা যায়।যারা অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রি করে অসৎ অযোগ্য লোকদের ভোট দেয় তাদের জন্য কীসের ভোটাধিকার? জনগণকে এ অধিকার সম্পর্কে আরো সচেতন আরো সজাগ আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।যেহেতু ভোটের মাধ্যমে এদেশের ক্ষমতার পালাবদল হয়, সে দেশে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দল নিরপেক্ষ হওয়া চায়।যার যার খুশিমতো ভোট প্রদান নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।ভোটধিকার কথা আর কাগজে রাখলে হবে না।এটা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমত ক্ষমতাসীন সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে।নির্বাচন কমিশনকে তার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনকে সুষ্ট ও নিরপেক্ষ করতে হবে।এ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।বলতে হয় বর্তমানে যে নির্বাচন কমিশনে মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে এবং হবে আদৌ কী এ কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখাতে পারছে?যদি জোর আর জবরদস্তির ভোট হয় সেখানে ভোটাধিকারের কোনো গুরুত্ব থাকে না।নামের ভোটাধিকার নাগরিকের প্রতি একটি বাক্য ছাড়া আর কিছুই না।এ জাতিয় ভোট ও নির্বাচন দিয়ে দেশ ও জনগণের কোনো কল্যাণ দেখছি না।নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভোটের প্রয়োগ না হলে সেখানে ভোটধিকারের কোনো ক্ষমতা থাকে না।ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভোটরের প্রতি শ্যদ্ধা ও ভালোবাসা রাখতে হবে।তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।গণতান্তিদ্রক রীতিনীতির প্রতি রাজনৈতিক দলের প্রচন্ড বিশ্বাস ও বাস্তবায়ন থাকতে হবে।কথা আর কাজে রাজনীতির মধ্যে মিল থাকতে হবে।ক্ষমতায় থাকা আর না থাকার মধ্যে বক্তব্যের গরমিল রাখা যাবে না।গণতন্ত্র আর ভোটাধিকার অপরিবর্তনীয় শব্দ।ক্ষমতাকে আঁকড়ে রাখার জন্য এসব অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা অমার্জনীয় অপরাধ।তাই নির্বাচন হোক সুষ্ট ও নিরপেক্ষ ভোটধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে।সমস্ত দুর্নীতি কালো টাকার থাবা থেকে ভোটাধিকার নিরাপদ হোক।নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে দল নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারলেই জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।

12.07.2018 | 04:44 PM | সর্বমোট ৫৭ বার পঠিত

নাগরিক ও ভোট" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

ই-পাসপোর্টের গৌরবোজ্জ্বল তালিকায় বাংলাদেশ

অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ই-পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছর ডিসেম্বরেই নাগরিকদের হাতে পৌঁছাবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট বই, যা ই-পাসপোর্ট...... বিস্তারিত

18.07.2018 | 10:32 AM




রাজধানী

অবশেষে ডিআইজি পদে যোগদান করলেন মোঃ মিজানুর রহমান

অবশেষে ডিআইজি পদে যোগদান করলেন মোঃ মিজানুর রহমান। ৩ জুলাই তিনি ঢাকায় এই পদে যোগদান করেন। তিনি ১৭তম বিসিএস (পুলিশ ক্যাডার) পরীক্ষায়...... বিস্তারিত

18.07.2018 | 12:21 AM


চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার প্রতি ইসলামের যা নির্দেশ

ঋণ পরিশোধ না হলে চক্রবৃদ্ধিহারে সুদের ওপর সুদ বাড়নোর প্রবণতা সমাজে সব সময়ই ছিল। তবে তা ইসলাম পূর্ব যুগে এই...... বিস্তারিত

06.07.2018 | 01:50 PM

বিনোদন

অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে চান অভিনেতা লতিফ খান।

অভিনয়ের  মাধ্যমে বড় হবার স্বপ্ন দেখে অভিনেতা   লতিফ খান।  লতিফ খাঁন  সিরাজগঞ্জ জেলা তাড়াশ উপজেলার তালম গ্রামে  মুসলিম পরিবারে  জম্মগ্রহণ...... বিস্তারিত

17.07.2018 | 03:18 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ