চট্রগ্রাম অফিস

হালদার ভাঙ্গনে মোহরার শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন


এস.ডি.জীবন: চট্টগ্রামের হালদা পাড়ে বসবাসরত নিম্ম আয়ের সাম্পান চালক মো: কবির তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে কয়েকযুগ ধরে হালদা নদীতে সাম্পান বেয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এই নদীকে ঘিরেই তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু আর্শীবাদের হালদার করাল গ্রাসে তারা এখন নি:স্ব-রিক্ত । নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তাদের বাপ-দাদার ভিটাবাড়ী। তারা এখন গৃহহীন উদ্বাস্তু । চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানার ০৬ নং ওয়ার্ডের মধ্যম মোহরার সাহেব মিয়াবাড়ীর এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।এখানে শুধু সাম্পান চালক মো: কবির এর বসতবাড়ী বিলীন হয়নি,গত আট মাসে অনন্ত বিশটি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে যাযাবর এর মতো জীবনযাপন করছে। বাসিন্দাদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের লোকজন হওয়ায় নতুন করে ঘর নির্মাণের সাধ্য নেই অনেকের। তাই বাধ্য হয়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় বসবাস করতে হচ্ছে। নৌকার মাঝি-দিনমজুর শ্রেণীর লোকজন আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে । ঐ এলাকায় আরো ২০-২৫ টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীনের উপক্রমপ্রায়। লোকজন বাঁশ,গাছ ও বালুর বস্তা ফেলে শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষার লড়াই করে চলেছেন।
নৌকার মাঝি মো: শফি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ৩০ বছর ধরে সাম্পান চালিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করে আসছি। শেষ আশ্রয় টুকু ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন নি:স্ব হওয়ায় পথে। বর্ষায় টিকিয়ে রাখা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। নদীতে পানি বাড়লে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় । কখন বুঝি মাথা গোঁজার শেষ অবলম্বন এক চিলতে ঘরটুকু কেড়ে নেয় হালদা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমরা গরীব বলে কেউ আমাদের কাছে আসে না । মোহরা এলাকার কয়েকজন ধনাঢ্য ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,তারা এক এক জন চাইলে নিজ উদ্দ্যেগে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না । গরীবের দু:খের কথা কেউ শুনেন না । কিছুদুর (উত্তর মোহরা) ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,দেখেন,ঐখানে কোন বাড়ীঘর নেই । পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে ব্লক ফেলেছে। কার সম্পদ রক্ষার জন্য ব্লক ফেলা হয়েছে? তার দেখিয়ে দেয়া উত্তর মোহরার দিকে দেখা যায়,হালদা তীরে একটি ইটভাটাকে ঘিরে ব্লক ফেলা হয়েছে। সেখানে নৌকা সাম্পানের ঘাট দেখা যায় । সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,হালদা নদীর তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে মধ্যম মোহরা এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি। এতে পাঁচ শতাধিক মানুষ বসতভিটা হারানো আতঙ্কে রয়েছেন। ঘরবাড়ি ছাড়াও ফসলি জমি,ক্ষেত-খামার ও অন্যান্য স্থাপনা তলিয়ে যাচ্ছে নদী গর্ভে। ঘরবাড়ি ছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে ওয়াসার পাম্প হাউসও। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে লালমিয়া মাতব্বর এর বাড়ী,এনায়েত আলী সওদাগরের বাড়ী,শাহেদ মিয়া ড্রাইভার এর বাড়ী,বদিউর রহমান মিস্ত্রির বাড়ী,বন্দে আলী মুন্সির বাড়ী,চুন্না মিয়ার বাড়ীর প্রায় শতাধিক পরিবার তীব্র ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে। উত্তর-মধ্যম মোহরা থেকে কালুরঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭শ মিটার অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের ঘরবাড়ি,ভিটেমাটি,ফসলি জমি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। সাহেব মিয়া বাড়ী এলাকায় দেখা যায়,কাঠ মিস্ত্রি মোহাম্মদ সৈয়দ এর ঘরের এক-তৃত্বীয়াংশ নদীতে তলিয়ে গেছে।  এক কামরা বাকী রয়েছে। তাও যেকোন মুর্হুতে নদীগর্ভে বিলীনের উপক্রম। পরিবারটি এখন অন্যত্র চলে গেছে । একই অবস্থা লোকমান,আইয়ুব আলী ও সোলায়মান এর পাকা ঘরও । ঘরের সিংহভাগ বিলীন হয়ে গেছে। সামান্যটুকু অবশিষ্ট রয়েছে। বর্ষায় তাও হারানোর শংকা রয়েছে পরিবারটির । ঐ এলাকার অন্তত ৩০ টি ঘর বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন,চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটি‘র সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, মোহাম্মদ মুছা চৌধুরী বলেন,হালদা নদীর ঐ অংশটি অরক্ষিত থাকায় শুধু ভাঙ্গন ছাড়াও জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে প্রায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি। এবার ঈদে মোহরার শত শত পরিবার পানি বন্দি ছিলো । ঈদের আনন্দ ছিলো না। তিনি বলেন,ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ভাঙ্গন রোধে উদ্দ্যেগ গ্রহনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। তারপর ও কোন উদ্দ্যেগ নেয়া হচ্ছে না। মোহাম্মদ মুছা,মঈনুদ্দিন মুজিব ও ফারুকের ঘরবাড়ি, পুকুর ও জমি-জমা ছয় মাস আগে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তারা একন অন্যত্র ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। মোহরা জামেউল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃত্বীয় শ্রেনীর ছাত্র নওশাদ উদ্দিন আদনান বললো,৮ মাস আগেও নদীর আগেও নদীর ধারে খেলা করেছে তারা,চোখের সামনে সে জায়গাগুলো এখন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৯০ সাল থেকে নদী ভাঙ্গন দেখা দেয় । এ সময় সাপ্তাহিক হাট,এনায়েত আলী সওদাগরের হাট,হযরত জীবন শাহ ঘাট,মাজার,অসংখ্য ঘরবাড়ি ও নানা স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৯১ সালে ঐ অংশে পাথর ফেলা হয়েছিলো। পরবর্তীতে পানির তোড়ে এসব পাথর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পাথরের অস্থিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গন ও তীব্র রুপ নিয়েছে। তবে গত তিন বছর ধরে ভাঙ্গন চরম আকার ধারন করেছে। মোহরা এলাকার বাসিন্দা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন,জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধের উদ্দ্যেগ না নিলে বহু ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা গ্রহন করে বিশাল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। 
গত জুন মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (রাঙ্গামাটি ডিভিশন) স্বপন কুমার বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বলেন,কয়েকদিন এর মধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে কার্যকরী উদ্দ্যেগ নেয়া হবে । প্রতি উত্তরে তিনি বলেন,কালুরঘাট সেতু থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন ও জলাবদ্ধতা রোধ প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া প্রতিশ্রুতি এখনো ওখানেই আটকে আছে। নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী উদ্দ্যেগ। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হউক এটাই এখন দাবী স্থানীয়দের। 

13.08.2018 | 01:06 AM | সর্বমোট ২৬৫ বার পঠিত

হালদার ভাঙ্গনে মোহরার শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

দু’দেশের সম্পর্ক এখন উচ্চতর পর্যায়ে

'স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দু'দেশের সম্পর্ক একটি শক্ত ভিতের ওপর স্থান করেছিলেন। আর...... বিস্তারিত

21.09.2018 | 09:51 PM


রাজধানী

চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

শরীর রক্তাক্ত করে শোক পালন হারাম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ফতোয়া অনুযায়ী মহররম ও আশুরার শোক পালনের ক্ষেত্রে শরীর রক্তাক্ত করা হারাম। এমনকি...... বিস্তারিত

18.09.2018 | 01:47 PM

বিনোদন

ওবায়দুল কাদেরের গল্পের নায়িকা কে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের লেখা উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। উপন্যাসটির নাম ‘গাঙচিল’।উপন্যাসের...... বিস্তারিত

19.09.2018 | 04:36 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ