নবীন চৌধুরী

এশিয়াখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ধামরাইয়ের রথযাত্রার কথা দেখতে আসে দশণার্থীরা


বাংলাদেশে প্রাচীন প্রচারিত উক্তি আছে,বার মাসে তের পার্বণ।আগের দিনে লোকেরা বার মাসে তের পার্বন পালন করত।পার্বণ অর্থ উৎসব। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও ব্যয় বহুল কারণে আজ আর বার মাসে তের পার্বন পালন হয় না।তবে এমন কিছু উৎসব আছে যা সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব হিসাবে যুগে যুগে পালন করে আসছে বিভিন্ন জাতির লোক।
হিন্দু সম্প্রদয়ের আনন্দের উৎস হলো রথযাএা উৎসব।ধামরাই রথযাএা ইতিহাস সমন্ধে জানা যায়,বাংলা১০৭৯ সাল পর্যন্ত সুর্দীঘ ৩শ’ ৫০ বছর ধরে ধামরাইয়ে রথযাএা পালিত হয়ে আসছে।কবে কিভাবে এই বাশেঁর রথটি কাঠের রথে পরিণত হয় তা সঠিক ভাবে জানা যায়নি।১২০৪ সাল বাংলা থেকে ১৩৪৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা জেলার সাটুরিয়া থানার বালিয়াটির জমিদারগণ বংশানুক্রমে এখানে চারটি রথ পর পর তৈরী করে।১৩৪৪ বাংলা সালের রথের ঠিকাদার ছিলেন নারায়নগঞ্জের স্বর্গীয় সূর্য নারায়ন সাহা।এ রথ তৈরী করতে ্লাগেএক বছর  ।                
ধামরাই,কালিয়াকৈর,সাটুরিয়া,সিঙ্গায়ার থানার বিভিন্ন কাঠ শিল্পিরা যৌথভাবে নির্মাণ কাজে অংশগ্রহন করে  ষাঠ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন রথটি তৈরী করে।এ রথটি তিতল বিশিষ্ঠ ছিল যার ১ম ও ২য় তলে চারকোণে চারটি  প্রকোষ্ঠ ও তৃতীয় তলে একটি প্রকোষ্ঠ ছিল।মূলত রথ যাএা দেবতা জগন্নাথ দেবের হয়ে সম্মান উপলক্ষ্যে হয়ে থাকে এবং একই তিথীতে হয়ে থাকে রথটান।কিন্তু ধামরাইয়ের রথযাএা যশোমাধব উপলক্ষে ঐ তিথী অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।যে রথটি সমন্ধে বলা হয়েছিল সেই রথটি টানতে প্রায় ২৭ মণ পাঠের কাছি দরকার হতো।রথ টানার সময় হাজার হাজার নর নারী উলু ধ্বনি ও কলা চিনি ইত্যাদির মাধ্যমে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।যদিও আজ সেই বড় রথটি আর নেই।কিন্তু আজ ছোট আকারের রথ তৈরী করে এবং রথ টানার সময় একই আনন্দের সৃষ্টি হয়।সেই ঐতিহ্যমন্ডিত সুবৃৎ রথখানি ১৯৭১ সালের পাকিস্থানের বর্বর হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় সহযোগীরা পুুড়িয়ে দেয়।ঐতিহ্যমন্ডিত রথটি পুড়িয়ে দেয় ঠিকই কিন্তু উৎসব ও সংস্কৃতির ¯্রােতধারা থেকে রথযাএার উৎসব বিচ্ছিন্ন করতে পারে নাই।১৩৫০ সালে জমিদারী প্রথার বিলুপ্তি ঘটে।এরপর মির্জাপুরের বাহাদুর রনদা প্রসাদ সাহার সহযোগিতায় ছোট রথ তৈরী করে আবার শুরু হয় ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাএা। ধামরাইয়ের এই রথ যাত্রা ভারতের মাহেশের রথ উড়িস্যার পুরীতে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রত্রের মত শ্রী শ্রী যশোমাধবের রথের মেলা এশিয়া উপমহাদেশে বিখ্যাত । হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বর্ণাঢ্য ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। এই উৎসবের ইতিহাস প্রাচীন। কিভাবে রথ যাত্রা শুরু হয় ও ধামরাই রথযাত্রা শ্রী শ্রী যশোমাধব নামক অনুষ্ঠিত হয় কিভাবে তার সংক্ষিপ্ত কিছু ইতিহাস এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে এই রথযাত্রার প্রচলন ঘটে। পরীতে রয়েছে জগন্নাথ বলরাম শুভ্রদার দারুমূর্তি। কিন্তু ধর্ম মতে জগন্নাথ বিশ্ব প্রতিপালক বিষ্ণুর অবতার হলধারী বলরাম তার জ্যেষ্ট ভ্রাতা ও সুভ্রদা তাদের ভগ্নী। রথটানা হয় এই ত্রিমূর্তিকে নিয়ে। রথযাত্রা হিন্দু সমপ্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে সর্বভারতীয় রূপ না পেলেও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এর ব্যাপক প্রচলণ রয়েছে।বাংলাদেশেও রথযাত্রা হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র একটি ধর্মোৎসব। এই উৎসব  অনুষ্ঠিত হয় চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লাপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে। তাই ধামরাইয়ের রথ অত্যন্ত প্রাচীন এবং উপমহাদেশে এই রথের খ্যাতি রয়েছে। আগেই বলা হয়েছে, এ রথের প্রতিষ্ঠিত দেবতা যশোমাধব। রাজধানী ঢাকার অদুরে ধামরাই উপজেলা সদরে একটি গ্রাম ধামরাই। এই গ্রামেই স্বমহিমায় শ্রী শ্রী যশোমাধব মূর্তি।  জানা যায়, বাংলার পাল বংশের শেষ রাজা যশোপাল ছিলেন প্রজা বৎসল ও ধার্মিক। রাজা যশোপাল এই মাধব মূর্তির প্রতিষ্ঠিত দাতা।
        ঘটনা সূত্র হচ্ছে, যশোপাল রাজা একদা হাতির পিঠে চড়ে বেড়াতে যান ধামরাই এলাকার পাশ্বের গ্রামে । রাস্তায় চলতে চলতে হাতি একটি
 মাটির টিবির সামনে গেলে হাতিটি থেমে যায় আর চলতে চায় না। রাজা
 শত চেষ্টা করেও হাতিটিকে সামনে নিতে পারলেন না এবং অবাক হলেন।  তখন তিনি হাতি থেকে নেমে স্থানীয় লোকজনকে উক্ত মাটির টিবি খনন করার জন্য নির্দেশ দেন। সেখানে একটি মন্দির পাওয়া যায়।এছাড়া কতগুলো মূর্তি পাওয়া গেল। এর মধ্যে শ্রী বিষ্ণুর মূর্তির ন্যায় শ্রী মাধব মূর্তিও ছিল। রাজা ভক্তি করে সেগুলো সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরে ধামরাই সদরে ঠাকুর বাড়ি পঞ্চাশ গ্রামের বিশিষ্ট পন্ডিত শ্রী রামজীবন রায়কে তিনি উক্ত মাধব মূর্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্বভার দেন। তখন থেকে শ্রী মাধবের নামের সাথে রাজা  যশোপালের নামটি বিগ্রহের নতুন নামকরণ হলো শ্রী শ্রী যশোমাধব। সেইদিন থেকে রাজা অমর হয়ে রয়ে গেলেন।সেইদিন থেকে সেবা পূজার বন্দোবস্ত হলো। আজও ধামরাইয়ে শ্রী মাধবঅঙ্গনে পূজা অর্চনা চলে আসছে। পরবর্তীতে শ্রী মাধবকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে ধামরাইয়ের শ্রী শ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা ও মেলা। আজও হাজার হাজার হিন্দু ভক্তবৃন্দ উপস্থিত হয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান রথ যাত্রা প্রতিবছর সম্পন্ন করে থাকে। রথযাত্রার সাথে গড়ে উঠে বিভিন্ন রকমের আয়োজন। আয়োজনে থাকে ছোটদের খেলার সামগ্রী, মিষ্টি সামগ্রী দোকান ,যাত্রা , সার্কাস, মৃৎ শিল্প, কাঁসা পিতল শিল্প।উল্টো রথযাত্রা হবে ২২জুলাই 

ছবি ক্যাপশন- ধামরাইয়ের শ্রী শ্রী যশো মাধবেরঐতিহ্যবাহী রথ ।

                                            

 

14.07.2018 | 12:05 PM | সর্বমোট ২৫৪ বার পঠিত

এশিয়াখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ধামরাইয়ের রথযাত্রার কথা দেখতে আসে দশণার্থীরা" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন শুরু ৯ সেপ্টেম্বর

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকাল ৫টায় শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের...... বিস্তারিত

19.08.2018 | 07:13 PM





রাজধানী

শাহজালালে পৌঁছাল আকাশবীণা

চতুর্থ প্রজন্মের উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার যুক্তরাষ্ট্র থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। রোববার (১৯ আগস্ট) বিকেল পাঁচটা ২৫ মিনিটের দিকে বিমানটি...... বিস্তারিত

19.08.2018 | 06:34 PM

চট্টগ্রাম

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার প্রতি ইসলামের যা নির্দেশ

ঋণ পরিশোধ না হলে চক্রবৃদ্ধিহারে সুদের ওপর সুদ বাড়নোর প্রবণতা সমাজে সব সময়ই ছিল। তবে তা ইসলাম পূর্ব যুগে এই...... বিস্তারিত

06.07.2018 | 01:50 PM

বিনোদন

শাকিব-শ্রাবন্তীর প্রেমের গুঞ্জন

বাংলাদেশি চিত্রনায়ক শাকিব খান ও কলকাতার অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর মধ্যে সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশি শোবিজ অঙ্গনে এ নিয়ে কোনো কথা...... বিস্তারিত

14.08.2018 | 11:04 AM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ