কপিলমুনিতে মালিক কর্তৃক কর্মচারী নির্যাতন,ইলেকট্রিক শকে ক্ষত-বিক্ষত দেহ

মিলন দাশ মিলন দাশ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৭, ২০২৩

কপিলমুনিতে দোকান মালিক কর্তৃক কর্মচারীর উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে অমিতের শরীর। নির্যাতনের ফলে অমিতের কান ও শরীরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে রক্ত বেরিয়েছে। অভিযুক্ত ধনাঢ্য বস্ত্র ব্যবসায়ীর ছেলেকে রক্ষা মিশনে নেমেছে স্থানীয় পুঁজিপতিদের একাংশ। ইতোমধ্যে অমিতের মাকে চাপ প্রয়োগ করে সমঝোতার নামে এক প্রহসনের  শালিসী বৈঠকে আইনের আশ্রয় না নেওয়ার শর্তে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটিয়েছে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ীর ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং প্রতিবেশীদের বক্তব্য, কপিলমুনি বাজারের প্রভাবশালী ও প্রতিষ্ঠিত বস্ত্র ব্যবসায়ী অসিম সাধু’র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মহাপ্রভু বস্ত্রালয়ের কর্মচারী অমিত। ২৪ জুলাই দোকান মালিকের পুত্র বিশ্বজিৎ সাধু দোকান কর্মচারী অমিতকে তার বাজারস্থ বাড়ীতে ডেকে পাঠায়। চুরির অপরাধে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। লোমহর্ষক এই নির্যাতনের ঘটনায় অংশ নেয় বিশ্বজিৎ সাধুর পছন্দের ব্যক্তিরা। তারা অমিতের শরীরে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করার পর শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বাঁধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অমিতের শরীরের নির্যাতনের লোমহর্ষক একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ হলে বিষয়টি এলাকায় চাউর হতে শুরু করে।

এদিকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পুত্রকে রক্ষায় একটি মহল তড়িঘড়ি করে ঘটনার রাতে অমিতের অসহায় মাকে চাপ প্রয়োগ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অমিতের এক মাসির ছেলে জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, অমিতের শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। নির্যাতনের পর তার কানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত বেরিয়েছে। এরপর ঘটনার দিন মধ্যরাতে  মধ্যস্থাকারীদের উপস্থিতিতে অমিতকে তার অসহায় হতদরিদ্র মা ও মাসির ছেলে উদয় অধিকারীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে রাতে সাদা স্ট্যাম্পে তাদের স্বাক্ষর করিয়ে নেয় বিশ্বজিৎ সাধু ও তার সহযোগিরা। সন্তানের মৃত্যু শঙ্কায় হতদরিদ্র অসহায় মা নিরুপায় হয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে অমিতকে মুক্ত করে। অমিতের নিকট আতœীয় তাকে ২৭ জুলাই পাইকগাছা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। পরবর্তীতে অমিতের নির্যাতনের ভিডিও ক্লিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে বিশ্বজিৎ সাধুকে রক্ষার জন্য এক প্রহসনের শালিস বসে। শালিসে তার চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং নির্যাতনের পর সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেওয়া স্টাম্পটি ফেরৎ দেওয়া হয় বলে জানায় অমিতের এক নিকট আত্মীয়।

অমিতের মা জড়তা ও ভীত সন্ত্রস্থকন্ঠে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা আমার ছেলের চিকিৎসা খরচ দিতে চেয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দিয়ে বের হওয়া রক্ত বন্ধ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, বন্ধ হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার কারণে অমিতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ হয়ে গেছে।

এব্যাপারে বিশ্বজিৎ সাধুর ব্যবহৃত ফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে সে ফোন রিসিভ করেনি। এদিকে অমিতের নির্যাতনের ঘটনার পরের দিনই বিশ্বজিৎ সাধুর একমাত্র বোন রুপা সাধু হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

Loading