কিডনি ওয়ার্ডে বসছে আরো ১০ মেশিন

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৯, ২০২৩

পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় স্থাপন করা স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সরকারিভাবে ডায়ালাইসিস সেবার পরিসর বাড়ানোর জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উদ্যোগের আওতায় নতুন করে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে হাসপাতালের কিডনি ওয়ার্ডে। এক মাসের মধ্যে নতুন এসব মেশিনে সেবা চালু হবে বলে হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে।

হাসপাতালের কিডনি ওয়ার্ডে বর্তমানে মাত্র চারটি মেশিন সচল রয়েছে। যেখানে ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা কম খরচে (সরকার নির্ধারিত ফি) ডায়ালাইসিস সেবা পেয়ে থাকেন। সচল চারটির স্থলে সব মিলিয়ে ১৭টি মেশিন চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন। এ তথ্য নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান  বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। জরুরিভাবে অন্তত দশটি মেশিন হলেও আমাদের দিতে অনুরোধ করেছি। উনারা (মন্ত্রণালয়) রাজি হয়েছেন এবং ঢাকা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন দশটি মেশিন পাঠানো হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। নতুন দশটি যুক্ত হলে সচল মেশিনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪টিতে। তবে কোভিড জোনে (করোনা ইউনিটে) আমাদের তিনটি ডায়ালাইসিস মেশিন বসানো আছে। এখন সেগুলো ওখানে প্রয়োজন হচ্ছে না। ওই তিনটি মেশিনেও আমরা সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে পারব। সব মিলিয়ে ১৭টি মেশিনে ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে নতুন মেশিনগুলোতে সেবা চালু করতে পারব বলে আশা করছি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিডনি ওয়ার্ডে নতুন করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনে এর আগেও উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু জায়গা সংকটে সে উদ্যোগ বারবার হোঁচট খেয়েছে। আর গতি পায়নি। ওয়ার্ড ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিডনি ওয়ার্ডে সব মিলিয়ে ৯টি মেশিনে সেবাদানের মতো জায়গা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাকি মেশিনগুলো প্রয়োজনে অন্যত্র বসানো হবে। মোট কথা, যেভাবেই হোক ১৭টি মেশিনে ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান।

তিনি বলেন, হাসপাতালে সরকারিভাবে এসব মেশিন চালু হলে ডায়ালাইসিস সেবার পরিসর অনেকটা বাড়বে। এতে গরিব রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। কারণ, সরকারি নামমাত্র ফি দিয়ে রোগীরা এখানে ডায়ালাইসিস সেবার সুযোগ পাবেন। আর সরকারি এই ফি অবশ্যই স্যান্ডরের তুলনায় অনেকাংশে কম। রোগীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে জরুরিভাবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে, হাসপাতালের সামনে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি ক্যান্সার ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। ওই ভবনে ক্যান্সারের পাশাপাশি হৃদরোগ ও কিডনি বিভাগও স্থানান্তর হবে। যেখানে সরকারিভাবে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের কথা রয়েছে। সেটি চালু হলে গরিব রোগীদের সেবার পরিসর কয়েক গুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কম খরচের ডায়ালাইসিস সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক।

স্যান্ডরের সেন্টারে ডায়ালাইসিস ফি : হাসপাতালের নিচতলায় স্থাপন করা স্যান্ডরের ডায়ালাইসিস সেন্টারে বেসরকারিভাবে প্রতি ডায়ালাইসিস সেশনে গত বছর নিয়মিত ফি ছিল ২৭৯০ টাকা। সরকারি ভর্তুকি প্রদত্ত সুবিধায় সেশন প্রতি ৫১০ টাকায় সেবা গ্রহণের সুযোগ পেতেন গরিব ও অসহায় রোগীরা। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধা ও অতি দরিদ্র কিছু রোগী ফ্রিতে এ সুবিধা পেয়ে থাকেন। যদিও ফ্রি সেশনের সংখ্যা খুবই কম। সারা বছরে সাড়ে ছয়শ সেশন ফ্রির সুবিধা প্রদানের সুযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে সেশন প্রতি নির্ধারিত এ ফি বছরে ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। পিপিপির আওতায় সরকার ও স্যান্ডরের করা চুক্তিতে ফি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। সে হিসেবে ভর্তুকি প্রদত্ত সেশন প্রতি ফি গত বছরের ৫১০ টাকার স্থলে এবার ৫৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর বেসরকারি ফি ২৭৯০ টাকার স্থলে দাঁড়িয়েছে ২৯৩০ টাকায়। রোগী ও স্বজনরা এই ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে দুদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। একই সাথে তারা কম টাকার ফি–তে বেশি সেশন চান।

সরকারিভাবে খরচ কেমন : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের কিডনি ওয়ার্ডে সরকারিভাবে ডায়ালাইসিস সেবায় খরচ সবচেয়ে কম। এখানে একজন রোগীর ৬ মাসের ডায়ালাইসিস বাবদ ২০ হাজার টাকা ফি নেয়া হয়। মাসে ৮টি করে হিসাব করলে ৬ মাসে ৪৮টির কিছু কম–বেশি সেশন ডায়ালাইসিস সেবা পাওয়া যায়। এতে সেশন প্রতি খরচ পড়ে ৫০০ টাকার কম। হাসপাতালের কিডনি ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার বিপ্লব কুমার বড়ুয়া আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবশ্য ভিন্ন কিছু ক্ষেত্রে (সর্বনিম্ন তিনটি সেশন দেয়া হয় এমন) সরকারি এই ফি’র হার ২০০ টাকা। -আজাদী