মুক্তি পেলেন ইরানের অভিনেত্রী তারানেহ আলিদুস্তি

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৫, ২০২৩

জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন ইরানি অভিনেত্রী তারানেহ আলিদুস্তি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েক মাস ধরে দেশটিতে চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সমর্থনের কারণে গত মাসের মাঝামাঝিতে গ্রেফতার হন শীর্ষস্থানীয় এ অভিনেত্রী। খবর রয়টার্স।

২০১৭ সালে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জেতেছিল আলিদুস্তি অভিনীত ‘দ্য সেলসম্যান’। গত বছরের নভেম্বর হিজাবে মাথা না ঢেকে তোলা একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে চলমান প্রতিবাদে সমর্থন জানান তিনি।

ইরানে আধা সরকারি বার্তা সংস্থা আইএলএনএ অভিনেত্রীর আইনজীবীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আলিদুস্তিকে ১৭ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে এর বেশি বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে তেহরানের এভিন কারাগারের সামনে তোলা অভিনেত্রীর একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানে হিজাব না পরার ‘অপরাধে’ আটক হন মাশা আমিনি নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যুর পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে ইরানের নাগরিকদের বড় একটি অংশ।

১৯৭৯ সালে বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আন্দোলনকে ইরানের শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

দেশ জুড়ে চলমান আন্দোলন সম্পর্কে ‘মিথ্যা ছড়ানোর’ অভিযোগে আলিদুস্তি আটক হয়েছিল বলে ডিসেম্বরে জানায় রাষ্ট্রীয় মিডিয়া।

এর আগে ৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ওই দিন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এ ঘটনার নিন্দা জানান তারানেহ আলিদুস্তি। নীরবতার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অভিযুক্তও করেন অভিনেত্রী।

তিনি লেখেন, ‘দমন এবং দমনকারীদের সমর্থনের সমান আপনার নীরবতা। এই নৃশংসতা যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দেখেও মুখ বুজে রয়েছে, তারা প্রত্যেকে মানবতার নামে লজ্জা।’

ইনস্টাগ্রামে তারানেহ আলিদুস্তির ৮ কোটি ফলোয়ার রয়েছে। তবে সম্প্রতি অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

শিল্পমনস্ক পরিবার থেকে আসা আলিদুস্তি ইরানের বিনোদন জগতে জনপ্রিয় মুখ। অল্প বয়স থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ৩৮ বছর বয়সী অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক ছবি ‘লেইলাস ব্রাদার’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।

তারানেহ আলিদুস্তির অন্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে দ্য বিউটিফুল সিটি, ফায়ারওয়ার্কস ওয়েডনেসডে, অ্যাবাউট এলি ও শেহেরজাদ।