নাশকতার মামলায় গ্রেফতার কুবির এক কর্মচারী

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৪, ২০২৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মাসুদ মজুমদার নামে একজন অফিস সহকারীকে নাশকতার অভিযোগে প্রেফতার করেছে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। গত ২৫ শে ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে নিয়োজিত আছেন। তার বাসা সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা গ্রামে। তিনি ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

গ্রেফতারের বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৪ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলাম কর্তৃক কুমিল্লা শহরে একটি কর্মসূচি হয়। পুলিশ সেখানে অবস্থান করলে তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। এমন সময় পুলিশ তা প্রতিরোধ করতে গেলে তারা পুলিশের উপর হামলা করে। তখন পুলিশ ও তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ২২ জনকে প্রেফতার করা হয় এবং ২৫ তারিখ আরো দুইজনকে প্রেফতার করা হয়, তার মধ্যে মাসুদ একজন।’

গ্রেফতার হওয়া মাসুদ মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন ২০২০ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের সময়ে নিয়োগ পান। এ নিয়োগের পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের নিয়োগ ও বিশেষ সুবিধা প্রদানের অভিযোগ এনে ড. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার হটাও আন্দোলন করে।

তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন বলেন, আবু তাহের স্যার যখন নিয়োগগুলো দিয়েছেন তখন শিবির বা দেশদ্রোহিতার সাথে সংযুক্ত লোকজন নিয়োগ পাচ্ছে এটা আমরা বলেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন সে বিষয়ে কোনো বিবেচনা করেনি, এখন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

একই সংগঠনের সভাপতি দীপক চন্দ্র মজুমদার বলেন, আমরা কিছুদিন আগেই আন্দোলন করেছিলাম যে আবু তাহের স্যার জামায়াত এবং শিবিরের সাথে জড়িত লোকদের নিয়োগ দিচ্ছেন। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন যে যৌক্তিক ছিলো তা প্রমাণিত হলো।

তাছাড়াও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই গ্রেফতারের ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের উচিত তদন্ত কমিটি গঠন করে আরও এমন লোক আছে কিনা যাচাই করা।

রেজিস্ট্রার থাকা অবস্থায় এই নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, নিয়োগ দেয়ার মালিক আমি না। নিয়োগ দেয় উপাচার্য। আমি শুধু নিয়োগ বোর্ডের মেম্বার ছিলাম। এ দায় আমি নিব না। আর ২০ টা নিয়োগ হলে দুয়েকটা ভেজাল চলে আসে।

তিনি আরো বলেন, চাকরিতে নিয়োগের আগে অবশ্যই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেখে নেওয়া উচিত, এটা করলে এ ধরনের বিষয় এড়ানো সম্ভব। তবে চাকরিরত অবস্থায়ও যদি কেউ রাষ্ট্রবিরোধী কিছুতে লিপ্ত আছে প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই যৌক্তিক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বে জামায়াত শিবিরের লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এটা সত্যি। আবার বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তিও করেছে একজন। এসব আগে নিউজও হয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনো বিচার না হওয়ার কারনে এখন এমন ঘটনা ঘটছে। গত উপাচার্য এমরান কবির স্যারের সময়ে এমন কিছু লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব নিয়ে উপাচার্য স্যারের সাথে আমার ঝামেলাও হয়েছে। আমরা চাই সরকারের বেতনে চলে এমন নাশকতা যারা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

তবে মাসুদকে নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাই, যারা আছে তাদের কাছে বলো। আর আমার সময়ে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। হয়তো আগে নিয়োগ পেয়েছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেফতারের বিষয়টি শুনেছি। তবে থানা থেকে এখনো আমাদের কাছে কোনো চিঠি আসে নাই। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে চিঠি আসলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী যদি কেউ গ্রেফতার হয়, তাহলে তাকে সাময়িক সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে এখনো কোনো কাগজ আসেনি। অফিসিয়ালি কাগজ পেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিব।