সাইপ্রাস থেকে লক্ষ্মীপুরে নেপালি তরুণী

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৯, ২০২২

সাইপ্রাসে রেস্টুরেন্টে চাকরির সুবাদে দুজনের পরিচয় ও প্রেম। অবশেষে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে সাইপ্রাস থেকে রাসেলের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন জ্যোতি।

গত শুক্রবার জ্যোতি ও রাসেল ঢাকায় আদালতের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারেজ এবং রায়পুরে নিকাহ রেজিস্ট্রার দিয়ে বিবাহ সম্পূর্ণ করেন। বুধবার রাতে নেপালি গৃহবধূকে একপলক দেখার জন্য ছুটে আসেন গ্রামবাসী। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জ্যোতি থেকে নাম রাখা হয় খাদিজা বেগম।

প্রবাসফেরত রাসেল (৩০) রায়পুর পৌরসভার কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত মনতাজুর রহমান ভূঁইয়াবাড়ির মৃত শহীদ উল্লাহর ছেলে এবং জ্যোতি (খাদিজা আক্তার) (২২) নেপালের সোনাচুড়ি জেলার হেটড়া শহরে বসবাসকারী নিথন জ্যোতির মেয়ে।

রাসেল জানান, প্রায় চার বছর ধরে সাইপ্রাসের একটি কোম্পানিতে কাজ করার সুবাদে জ্যোতির সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শুক্রবার নেপাল থেকে ঢাকায় এসেই জ্যোতির ইসলাম ধর্ম গ্রহণ শেষে শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই।

মঙ্গলবার আমাদের গ্রামের বাড়ি (রায়পুর) আসি। বুধবার পরিবার-স্বজনদের নিয়ে হলুদসন্ধ্যা ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করি। খাদিজা তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আমার কাছে চলে এসেছে। আমিও আর সাইপ্রাস যাব না। বাংলাদেশেই ব্যবসা করব।

জ্যোতি বলেন, নেপালে আমার মা-বাবা, ভাইবোন সবাই আছে। আমি সবার সম্মতি নিয়েই রাসেলের কাছে চলে এসেছি। বাংলাদেশর সংস্কৃতি ও গ্রাম্য পরিবেশ আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। রাসেল এবং তার পুরো পরিবারকে আমি অনেক ভালোবাসি। আমি আর নেপালে ফিরে যাব না।

রাসেলের মা জানান, ছেলের বউ (নেপালি গৃহবধূ) পেয়ে আমরা খুব খুশি হয়েছি। ওদের আনন্দেই আমরা আনন্দিত। আলহামদুলিল্লাহ আমরা ইসলামি রীতি-নীতি অনুস্মরণ করেই তাদের বিয়ের দিয়েছি। ছেলের কাছে মেয়েটির বর্ণনা শুনে নিজেই বলেছি— তাকে আমাদের দেশে নিয়ে আসতে। বর্তমানে খাদিজা বেগম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারে। সবাই দোয়া করবেন তারা যেন ভালোভাবে আগামীর দিনগুলো কাটাতে পারে।