চট্টগ্রামেও হবে মেট্রোরেল

প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৮, ২০২২

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আজ থেকে রাজধানী ঢাকায় যুক্ত হচ্ছে নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ মেট্রোরেল। ঢাকার পাশাপাশি বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। এর দশমাস পর গত ২১ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য মোট ৭০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা থেকে ৫৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়ার জন্য ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কন্সট্রাকশন অব চিটাগাং

মেট্রোপলিটন’ এরিয়া শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেকে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন মেট্রোরেল শুধু ঢাকাতে থাকবে কেন, চট্টগ্রামের জন্যও মেট্রোরেল প্রকল্প নিতে হবে। যেসব শহরে সঙ্গে এয়ারপোর্ট আছে, সেসব শহরে পর্যায়ক্রমে সংযুক্ত করে প্রকল্প নিতে হবে। তিনি বলেন, অন্যান্য শহরগুলোতে মেট্রোরেল করতে না পারলেও মেট্রোরেলের মতো অন্য সার্ভিস চালু করতে হবে।

এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ চলতি বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে আগামী বছরের শুরুতে যেন প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলের ভিত্তিপ্রস্তাব স্থাপন করতে পারেন সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে যোগাযোগ মাস্টারপ্ল্যান করা হবে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকার জন্য। প্রধানমন্ত্রী দুই–আড়াই বছর আগে যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন এটা করার জন্য। চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরো দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো কর্ণফুলী টানেল থেকে রেলস্টেশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাও বলেছিলেন। আরেকটি কথা বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরকে রাখার জন্য। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিবহন মাস্টার প্ল্যানসহ মেট্রোরেলের সমীক্ষার জন্য প্রিলিমিনারি সার্ভে কাজ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, আরেকটি কথা বলব, টানেলের ওপারে কীভাবে মেট্রোরেলকে নিয়ে যাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মেট্রোরেল যেতে পারে। যেহেতু সেখানে শাটল চলাচল করে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর পর্যন্ত কীভাবে মেট্রোরেল নিয়ে যাওয়া যায় এসব বিষয় মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা উচিত। ৫টি সংস্থার সাথে আলাদা বসবে কোইকা (কোরীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা)। আমাদের সাথেও পরে বসবে। ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান তারা করবে। এক বছরের মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে যাতে দ্রুত এক বছর পর প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। – আজাদী