পাখির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের ড্রিমলাইনার

প্রকাশিত: ১১:৪৬ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৬, ২০২২

লন্ডন থেকে ঢাকায় অবতরণের সময় আবারো পাখির আঘাতের শিকার হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। আজ সোমবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। বার্ড হিটের কারণে কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটলেও এখন পর্যন্ত উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করতে পারেনি বিমান।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি লন্ডন থেকে সিলেট আসে প্রথমে, তারপর সিলেট থেকে ঢাকায় আসে।

ঢাকায় আসার পর বার্ড হিটের ঘটনা ঘটেছে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত হয়েছে। যাত্রীনোর নামানোর পর জন্য উড়োহাজটি হ্যাঙ্গারে পাঠানো হয়েছে। বিমানের প্রকৌশল বিভাগ উড়োজাহাজের ক্ষতি নিরূপণ করছে, একই সঙ্গে এটি মেরামতের কাজও চলমান আছে।

তিনি বলেন, শুধু বিমান নয়, অন্যান্য এয়ারলাইনসও পাখির আঘাতের ঘটনা ঘটছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে পদক্ষেপ নেবে বলে আশাকরি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, শীত মৌসুমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাজপাখিসহ বিভিন্ন মৌসুমি পাখির আগমন ঘটে। ফলে পাখির সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষের (বার্ড হিট) ঘটনা বেড়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, গত ৫ মাসে শুধু শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের সঙ্গে উড়ন্ত পাখির ২৭ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পাখি তাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে কোনো শটগান নেই। এ অবস্থায় পাখি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে শটগান ধার চেয়েছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ।

দেশের ৮টি বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। যে লোকবল রয়েছে, তা দিয়ে কোনোভাবে সামাল দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষিত বার্ড শুটার ও পর্যাপ্ত বন্দুক নেই। অস্ত্র যা আছে, তা মান্ধাতার আমলের; অধিকাংশই নষ্ট। ফলে বার্ড হিটের মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বিমানবাহিনীর কাছে ৪টি শটগান (ডাবল ব্যারেল) ধার চেয়েছে বেবিচক। এ বিষয়ে গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সহকারী বিমানবাহিনী প্রধানের (রক্ষণাবেক্ষণ) দপ্তরে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে গড়ে প্রতিদিন ১৪০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং ১৫০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটসহ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ করে। বর্তমানে রানওয়ে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর পাখি ও বন্যপ্রাণীর বিচরণ বেড়েছে। যা বিমান অবতরণ-উড্ডয়নের ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। যে কোনো সময় পাখি ও বন্যপ্রাণীর কারণে মূল্যবান এয়ারক্রাফটসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে শটগানের স্বল্পতা রয়েছে। শটগান কেনার প্রক্রিয়া চলছে, তবে কিছুদিন সময় লাগবে। শটগানের স্বল্পতার কারণে এই মুহূর্তে রানওয়ের উভয় প্রান্তে বার্ড কন্ট্রোল মনিটরিং সিস্টেমের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে ৪টি শটগান অস্থায়ীভাবে দেওয়া হলে পাখির উপদ্রব থেকে এয়ারক্রাফট রক্ষা এবং অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে।