রামগড়ের দুর্গম এলাকায় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস

বাহার উদ্দিন বাহার উদ্দিন

রামগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:১২ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ২৮, ২০২২

রামগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল পাতাছড়া ইউনিয়নের বালুখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।
পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের দুর্গমপাহাড়ী এলাকা বালুখালীতে ২০০৮ সালে বালুখালি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি করোনা কালীন সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়টির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে এই বিদ্যালয় নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মানস চন্দ্র দাস, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, ২নং পাতাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম আলমগীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই’। সমতলের সাথে তাল মিলিয়ে পাহাড়েও উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে বর্তমান সরকার। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকায় পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
এসময় জেলা প্রশাসক বালুখালি উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণে ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন ।
সভায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম আলমগীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বালুখালীর জনগণের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিঃমিঃ দূরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়াতে এখানকার কৃষিজীবী মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা সহ সরকারি অন্যান্য সুবিধা সমূহ সঠিক সময়ে পায়না। মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে সবাইকে কৃষিকাজে মনোনিবেশ ছাড়া কোন উপায় থাকে না। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে মেয়ে শিশুরা, অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে বাল্যবিবাহের দিকে ঝুকে পড়েন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু হওয়ার ফলে আশেপাশের ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাথমিক শিক্ষার পর আর পাঠ চুকাতে হবে না, অনায়াসে তারা মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। তিনি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি গয়াপাড়া, সোনারখিল, বালুখালি দরবা সিং পাড়া, নাজিরাম পাড়া, মরা কয়লা, হাতিকুম্বা,এইসব এলাকায় নিয়ে আরেকটি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারি জেলা প্রশাসক প্রতাপচন্দ্র বিশ্বাসের দায়িত্ব কালীন সময়ে জেলার শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভুয়সী প্রশংসা করেন ।
সভায় স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।