ঢাকা-চট্টগ্রাম আরেকটি রেলপথ

প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ২০, ২০২২

করোনাভাইরাসের প্রভাব কেটে গেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আরেকটি রেলপথ করার ভাবনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২০ নভেম্বর) সারাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) ৫০টি শিল্প ইউনিট, প্রকল্প ও স্থাপনা উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ দ্রুত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেন করা হবে। করোনার প্রভাব গেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের জন্য আরেকটি রেলপথ করার চিন্তা রয়েছে।

গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাইডক স্পেশাল ইকোনমিক জোনসহ ৫০টি শিল্প এবং অবকাঠামোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল অঞ্চলের চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুর রহমান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

এসময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, “এখন আর হাওয়া ভবন নাই যে আপনাদের পাওনা দিতে হয়। আপনারা মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করলে আওয়ামী লীগ সরকারকে আপনাদের সহযোগী পাবেন।”

তিনি আরও বলেন, “কক্সবাজারে আমরা আন্তর্জাতিক মানের এয়ারপোর্ট করে দিচ্ছি। চট্টগ্রাম কর্ণফুলী টানেল করে দিচ্ছি। এপারের মানুষ ওপারে যেতে আর অসুবিধা হবে না।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২১ বছর পর ক্ষমতা এসেই আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। বেসরকারি খাতে শিল্পায়নের জন্য জায়গা দিয়ে সুযোগ করে দেওয়া হয়। শিল্পায়ন এক এলাকাভিত্তিক নয়, সারা বাংলাদেশব্যাপী করা হয়। শিল্পায়ন করতে গিয়ে তিন ফসলে জমি নষ্ট করা যাবে না। যারা জমি দিবে তাদের পরিবারের সদস্যদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

“আমাদের কৃষি প্রধান অর্থনীতি, কিন্তু শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশ উন্নত হয় না, কর্মসংস্থান হয় না। আমাদের কৃষিও যেমন অব্যাহত রাখতে হবে, পাশাপাশি শিল্পায়ন করতে হবে। সেই চিন্তা করে বেসরকারির সমস্ত খাতকে উন্মুক্ত করে দেই, পাশাপাশি তাদের উৎসাহিত করার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। বেসরকারি খাতে শিল্পায়নের জন্য জায়গা দেওয়া এবং সবধরনের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টিও আমরা করেছিলাম। একটানা ক্ষমতায় আছি বলেই আমরা তা করতে পেরেছি।”

জাতির পিতা প্রথমবার মন্ত্রী হওয়ার পর এ অঞ্চলের জন্য শিল্পায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, “তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ এইগুলো তারই (বঙ্গবন্ধু) হাতে শুরু হয়েছিল। আমরা তারই পথ অনুসরণ করে সারা বাংলাদেশব্যাপী শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি, শুধু একটি অঞ্চলভিত্তিক নয়, প্রতিটি অঞ্চলে যাতে হতে পারে। ”

কৃষিজমি বাঁচাতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “কারণ আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের খাবার দিতে হবে। কৃষি নিয়ে গবেষণা করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শিল্পায়ন করতে হবে। যত্রতত্র যেন শিল্প গড়ে না ওঠে। আমি দেখেছিলাম, ভালো কৃষি জমি, যেখানে তিনটা ফসল হতো, সেই জমি নষ্ট করে শিল্প-কারখানা গড়ে দাবি করত বিদ্যুৎ দেন, গ্যাস দেন, পানি দেন। এটা সম্ভব না। এই কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানে-সেখানে শিল্প গড়তে পারবে না। তিন ফসলি জমি কোনো মতে নষ্ট করা যাবে না। পাশাপাশি যে অঞ্চলে শিল্প গড়ে উঠবে, যারা জমি দেবেন, তাদের পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়গুলো অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে।”