বিশ্বের জনসংখ্যা এখন ৮ বিলিয়ন

প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ১৬, ২০২২

বিশ্বের জনসংখ্যা এখন ৮ বিলিয়ন! জাতিসংঘ বলছে, সাত বিলিয়নের মাইলফলক অতিক্রম করার মাত্র ১১ বছরের মধ্যেই আট বিলিয়নে পৌঁছে গেলো বিশ্বের জনসংখ্যা। মূলত ২০ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত বাড়তে থাকে জনসংখ্যা। কিন্তু এখন সেই গতিতে ভাটা পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন ধীরে ধীরে কমবে। ফলে জনসংখ্যা নয় বিলিয়নে পৌঁছাতে ১৫ বছর লেগে যাবে। আর ১০ বিলিয়নে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে ২০৮০ সাল পর্যন্ত। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে জানানো হয়, বিশ্বের মানুষের সংখ্যা নির্ভুলভাবে গণনা করা কঠিন। জাতিসংঘ স্বীকার করে যে, তাদের গণনা দুই, এক বছর পিছিয়ে থাকতে পারে। তবে তারপরেও একটি গণনা প্রক্রিয়া চালু রয়েছে আর সেটিই বলছে ১৫ নভেম্বের বিশ্বের জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এর আগে জাতিসংঘ পাঁচ, ছয় এবং সাত বিলিয়নতম শিশুদের চিহ্নিত করেছে। বিশ্বের পাঁচ বিলিয়নতম শিশু ছিল মাতেজ গ্যাসপার। ১৯৮৭ সালে বৃটেনে তার জন্ম। জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তার চারদিকে থাকা সাংবাদিকরা একের পর এক ছবি তুলতে থাকে তার। খুব সম্ভবত এটিই তার মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ৩৫ বছর বয়স তার। তিনি নিজেকে তার ওই পরিচয় থেকে বের করে আনতে চান। বর্তমানে তিনি জাগরেবে বাস করছেন। বিয়ে করেছেন এবং দারুণ আছেন। পেশায় একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তিনি। তবে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলেন। তাই বিবিসির পক্ষেও তার সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব হয়নি। গত ৩৫ বছরে বিশ্বে ৩ বিলিয়ন মানুষ বেড়েছে। কিন্তু আগামী ৩৫ বছরে বাড়বে মাত্র ২ বিলিয়ন। এবং এক পর্যায়ে এই বৃদ্ধি থেমে যাবে। বাংলাদেশের ঢাকার ঠিক বাইরে, সাদিয়া সুলতানা ঐশী তার মাকে সাহায্য করছে। রাতের খাবারের জন্য আলুর খোসা ছিলছে সে। ১১ বছর বয়স্ক ঐশী বাইরে ফুটবল খেলতে চায় কিন্তু তার বাবা-মা তাকে বেশ শাসনে রাখে বুঝা যায়। মহামারীর কারণে তাদের ফ্যাব্রিক এবং শাড়ি বিক্রির ব্যবসা ধাক্কা খেয়েছে। ফলে তাদেরকে গ্রামে ফিরে যেতে হয়। গ্রামে জীবন কম ব্যয়বহুল, তাই তারা এখনও তাদের তিন মেয়ের স্কুলের ফি দিতে পারে। ঐশী সবার ছোট এবং পরিবারের লাকি চার্ম। ২০১১ সালে জন্ম নেয়া ঐশী বিশ্বের সাত বিলিয়নতম শিশু। ঐশীর মা সেদিন বুঝতেই পারছিলেন না কী হতে চলেছে। সে সেদিন প্রসব করবে বলে আশাও করেনি। ডাক্তারের পরিদর্শনের পর তাকে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য লেবার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। মধ্যরাতের এক মিনিট নাগাদ ঐশীর জন্ম হয়। সেখানে তখন জড়ো হয়েছিল টিভির কলাকুশলীরা এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা। পরিবারটি হতবাক হলেও আনন্দিত হয়েছিল। যদিও ঐশীর বাবা একটি ছেলের আশা করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি তার তিন পরিশ্রমী, বুদ্ধিমান মেয়েকে নিয়ে খুশি। ঐশীর জন্মের পর থেকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যায় যোগ হয়েছে আরও ১৭ মিলিয়ন মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি দিন দিন কমে আসছে। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে গড়ে প্রতি নারীর ছয়টির বেশি সন্তান ছিল। আর এখন সেটি কমে দুইয়ের নিচে নেমে এসেছে। মূলত বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে নিজেকে। নারীদের শিক্ষার উপরে গুরুত্ব দেয়ায় দেশের নারীরা এখন শিক্ষিত হয়ে উঠেছে। তারা অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। ফলে তারা সচেতন হয়েছে এবং বেশি সন্তান নেয়ার সমস্যাগুলো বুঝতে পারছে। বিশ্বজুড়েই এই প্রবণতা রয়েছে যে- নারীরা যত বেশি শিক্ষিত হয় তারা ছোট পরিবার বেছে নেয়। জাতিসংঘ বলেছে যে, ২০৮০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে। কিন্তু অন্য অনেক সংস্থাই বিশ্বাস করে ২০৭০ সালের আগেই এই মাইলফলকে পৌঁছে যেতে পারে বিশ্ব। কিন্তু এগুলো শুধুই অনুমান। ২০১১ সালে ঐশীর জন্মের পর থেকে বিশ্বে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। জনসংখ্যাবিদরা ক্রমাগত বিভিন্ন দেশের অবস্থা দেখে অবাক হচ্ছেন। জনসংখ্যাবিদরা বলছেন, এইডসে মৃত্যুর হার কমে গেছে। চিকিৎসার কারণে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। অনেকগুলো মডেলই পরিবর্তন করতে হয়েছে জনসংখ্যাবিদদের। হিসাব বলছে, পরবর্তী এক বিলিয়ন জনসংখ্যার অর্ধেকই আসবে মাত্র আটটি দেশ থেকে। আর এসব দেশের বেশিরভাগই আফ্রিকার। মহাদেশটির বেশিরভাগ দেশে উর্বরতার হার বেশি। অপরদিকে ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পাচ্ছে। ১৫ই নভেম্বর ৮ বিলিয়নতম শিশুর জন্ম হচ্ছে। এ নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরাঁ এক বিবৃতিতে বলেন, পৃথিবীকে রক্ষা করা প্রতিটি মানুষের সমান দায়িত্ব। এমন সময়ে জনসংখ্যার এ মাইলফলক বৈচিত্র্য এবং অগ্রগতি উদযাপনের একটি উপলক্ষ হয়ে এসেছে। জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং ওষুধের উন্নতির কারণে মানুষের আয়ু বেড়েছে, যা জনসংখ্যার এ মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের প্রধান নাতালিয়া কানেম বলেন, ৮০০ কোটি জনসংখ্যা মানবসভ্যতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর বড় কারণ গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং মা ও শিশু মৃত্যুহার কমে আসা। তিনি বলেন, আমি জানি, এ মুহূর্তটি সবাই উদ্যাপন করবে না। বিশ্বে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কথা বলে কেউ কেউ উদ্বেগও প্রকাশ করছেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানুষের এ সংখ্যা ভয়ের কোনো কারণ নয়। বিবিসি।