ইটালিতে বসবাসের অনুমতিতে বাংলাদেশিরা চতুর্থ

প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১২, ২০২২

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে জোটের বাইরের প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী প্রথমবারের মতো বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি৷ ইটালিতে অনুমতিপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছেন শীর্ষ পাঁচে৷

২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি বা রেসিড্যান্স পারমিট পাওয়াদের সংখ্যা বেড়ে করোনা পূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ ২০২১ সালে ২৯ লাখ ৫২ হাজার ৩০০ জন দেশগুলোতে অনুমতি পেয়েছে৷ ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০টি৷ এর পেছনে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে৷

কর্মসংস্থানে উল্লম্ফন

কাজের কারণে গত বছর ১২ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ইইউ দেশগুলোতে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে ৪৭ ভাগ বেশি৷ এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর থেকে এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ৷

গত বছর শিক্ষার কারণে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি পাওয়ার হার ৪২ শতাংশ বা এক লাখের বেশি বেড়েছে৷ এছাড়া পারিবারিক পুনর্মিলনে ১৪ শতাংশ ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে অনুমতির সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেড়েছে৷

২০২১ সালে অনুমতিপ্রাপ্তদের ৪৫ শতাংশ কর্মসংস্থান, ২৪ শতাংশ পারিবারিক পুনর্মিলন, ১২ শতাংশ শিক্ষা ও ১৯ শতাংশ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার অধীনে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন৷

ভারতীয়রা শীর্ষ পাঁচে

প্রথমবার রেসিড্যান্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্তদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ইউক্রেনীয়রা৷ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলার পর ইউক্রেনের বিপুল শরণার্থী প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন৷ তবে তার আগের বছরই আট লাখ ৭৫ হাজার ইউক্রেনীয় প্রথমবারের মতো ইইউ দেশগুলোতে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন৷

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে মরক্কো৷ দেশটির দেড় লাখের বেশি মানুষ গেল বছর প্রথমবার বসবাসের অনুমতি পেয়েছে৷ তৃতীয় অবস্থানে থাকা বেলারুশ নাগরিকের সংখ্যা এক লাখ ৪৯ হাজার জন৷ চতুর্থ অবস্থানে আছেন ভারতীয়রা৷ দেশটির এক লাখ ১০ হাজার ৬৪১ জনের মধ্যে ৪১ শতাংশই কাজের সূত্রে অনুমতি পেয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই কাজের সূত্রে এসেছেন৷ ভারতীয়দের সবচেয়ে বেশি সাড়ে ১১ শতাংশের গন্তব্য ছিল ইটালি৷ নেদারল্যান্ডসে ১০ দশমিক সাত শতাংশ ও আয়ারল্যান্ডে অনুমতি পেয়েছেন নয় দশমিক সাত শতাংশ৷

প্রথমবার বসবাসের অনুমতি পাওয়াদের মধ্যে শীর্ষ দশে এরপর আছে রাশিয়া, ব্রাজিল, তুরস্ক, চীন ও হংকং, সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র৷

কাজের জন্য পোল্যান্ড, শিক্ষার জন্য ফ্রান্স

গত বছর পোল্যান্ড প্রায় দশ লাখ মানুষকে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি দিয়েছে, যা জোটভুক্ত দেশগুলোর ৩৩ শতাংশ৷ এরমধ্যে সাত লাখ ৯০ হাজার জনই কাজের সূত্রে অনুমতি পেয়েছেন৷ ইউক্রেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ছয় লাখ ৬৬ হাজার জন দেশটিতে চাকরির জন্য এসেছেন৷

পোল্যান্ডের পরে এই তালিকায় আছে স্পেন, ফ্রান্স, ইটালি, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস৷ এই ছয় দেশ মিলে চার ভাগের তিন ভাগ রেসিড্যান্স পারমিট ইস্যু করেছে ২০২১ সালে৷

স্পেন, ইটালি, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ অনুমতি পেয়েছেন পারিবারিক পুনর্মিলনের কারণে৷

অন্যদিকে, গত বছর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি গন্তব্য ছিল ফ্রান্সে৷ দেশটিতে ৯০ হাজার ৬০০ জন গত বছর পড়াশোনার কারণে থাকার অনুমতি পেয়েছেন যাদের বেশিরভাগই চীনের নাগরিক৷

বাংলাদেশিদের গন্তব্য ইটালি

গত বছর ইটালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের বিভিন্ন দেশের দুই লাখ ৯৫ হাজার জনকে প্রথমবার বসবাসের অনুমতি দিয়েছে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯ হাজার ৭৩২ জনই আলবেনিয়ার৷ মরক্কোর ২৩ হাজার ৭৬৬ জন, পাকিস্তানের ১৮ হাজার ২৩২ জনও অনুমতি পেয়েছেন৷ এরপরই রয়েছেন বাংলাদেশিরা৷ ১৭ হাজার ৯৮৭ জন বাংলাদেশি সেখানে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, যা ছয় দশমিক ছয় শতাংশ৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর কোনো দেশে ২০২১ সালে বসবাসের অনুমতি পাওয়াদের মধ্যে প্রথম পাঁচে নেই বাংলাদেশিরা৷

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইটালি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশিদের অন্যতম গন্তব্য৷ ইউরোপের বহিঃসীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রনটেক্স-এর হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে অবৈধভাবে ইটালি প্রবেশের তালিকায় বাংলাদেশিরা রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে৷

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাবে এ যাবৎকালে দেশটিতে কাজের ভিসা নিয়ে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৬ হাজার ১৭৩ জন৷

গত বছর দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ৮৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন দেশে, যা ইটালি থেকে বিভিন্ন দেশে যাওয়া মোট রেমিট্যান্সের শতকরা ১১ দশমিক তিন ভাগ৷

অভিবাসী বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টস তিনটি প্রধান ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের নেতৃত্বে একটি যৌথ প্লাটফর্ম৷ প্লাটফর্মটিতে রয়েছে জার্মানির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে, ফ্রান্স মিডিয়া মোন্দ, এবং ইটালিয়ান সংবাদ সংস্থা আনসা৷ এই প্রকল্পের সহ-অর্থায়নে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ DW