আমরা ৬৬ জনের তথ্য চেয়েছিলাম

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১২, ২০২২

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশে অর্থপাচার হয় সেসব দেশে তথ্য চাইলেও তারা দিতে চায় না, এটি তাদের মজ্জাগত সমস্যা। আমরা নির্দিষ্ট করে ৬৬ জন ব্যক্তির তথ্য চেয়েছিলাম, সুইস ব্যাংক মাত্র একজনের তথ্য দিয়েছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চলমান সম্প্রসারণ কাজের অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ডের কাছে গত বুধবার সাংবাদিকরা জানতে চান, অর্থপাচারের তথ্য চেয়ে সরকার কোনো অনুরোধ করেছে কী না, জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এ রকম সুনির্দিষ্ট কোনো অনুরোধ তারা পাননি।

নাথালি চুয়ার্ডের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসলে উনি (সুইস রাষ্ট্রদূত) না জেনেই এ কথা বলছেন। কারণ, যখন আমরা প্রথমেই জানলাম যে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থপাচার হচ্ছে। তখন আমরা সুইজারল্যান্ডের কাছে, সুইস ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছিলাম। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তখন তারা বলেছে যে, আমরা এভাবে গণহারে (তথ্য) দিতে পারব না, আপনারা নির্দিষ্ট করে ব্যক্তিদের কথা বলুন। তখন আমরা নির্দিষ্ট করে ৬৬ জন ব্যক্তির তথ্য চেয়েছিলাম। তখন তারা মাত্র একজনের তথ্য দিয়েছে। সুতরাং উনি (সুইস রাষ্ট্রদূত) এ বিষয়ে না জেনেই মন্তব্য করেছেন। যে যেসব দেশে অর্থপাচার হয় সেসব দেশে তথ্য দিতে চায় না। এটা তাদের মজ্জাগত সমস্যা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ডের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার বক্তব্য সত্য নয় বলে দাবি করেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এ সময় সাংবাদিকরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং এনবিআরের অনেক কর্মকর্তা বলেছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার অঙ্ক বাড়ছে। সুইস ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ সরকার তথ্য চাইলেও তারা দেয়নি। কিন্তু তাদের রাষ্ট্রদূত বলছেন, বাংলাদেশ সরকার নির্দিষ্ট করে তথ্য চায়নি। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। আমাকে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং ফিন্যান্স সেক্রেটারি বলেছেন। তারা আমাকে বলেছেন, তারা আগে তথ্য চেয়েছেন। যার বিপরীতে সুইজারল্যান্ড কোনো উত্তর দেয়নি।

মোমেন বলেন, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জিজ্ঞেস করেছি; তারা বলেছেন, নো। আমরা আগেই তথ্য চেয়েছি, তারা কোনো রেসপন্স করেনি। আমি বলেছি, তাহলে আপনি এটা পাবলিককে জানিয়ে দিন। কারণ এ রকম মিথ্যা কথা বলে পার পাওয়া উচিত নয়।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য মিথ্যা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইস দূতাবাসে যোগাযোগ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের গভর্নর কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয় আগে একটি স্টেটমেন্ট দিক তারপর আমরা তাদের বলব।

বুধবার ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিকাব) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা সুইস রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চান- অর্থপাচারের তথ্য চেয়ে সরকার কোনো অনুরোধ করেছে কী না, জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এ রকম সুনির্দিষ্ট কোনো অনুরোধ তারা পাননি।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে সুইজারল্যান্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময়ের জন্য আমাদের কিছু নিয়ম এবং চুক্তি আছে। সুতরাং আমাদের এ রকম কোনো প্রক্রিয়া বের করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পারি।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা নিয়ে নির্দিষ্ট করে দেশটির সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার তথ্য কেন চায়‌নি, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী রোববারের মধ্যে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে তা জানাতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।