সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে

প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ৯, ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার ‘রূপকল্প-২০৪১’ অর্জনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে সোমবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও এ দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এবারের এ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বহুমুখী জ্বালানি-সমৃদ্ধ আগামী’ যথাযথ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বিদেশি তেল কোম্পানি শেল অয়েল হতে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র- তিতাস, হবিগঞ্জ, রশিদপুর, কৈলাশটিলা ও বাখরাবাদ কিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ইএসএসও ইস্টার্ন ইন-কে সরকারিকরণ করে জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিতরণে পদক্ষেপ নেন। তার এ যুগান্তকারী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তার গোড়াপত্তন ঘটে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের সময়ে সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, রূপগঞ্জ, ভোলা নর্থ ও জকিগঞ্জ নামে মোট ৫টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। আরও নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের জন্য বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার লাইন কিলোমিটার ২-ডি সিইসমিক জরিপ এবং ১ হাজার ৫৩৬ বর্গকিলোমিটার ৩-ডি সিইসমিক জরিপ কার্যক্রম চলছে। সরকার জ্বালানি খাতকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করতে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং প্রবর্তন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্যাস ও কয়লার উৎপাদন বাড়াতে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণে গ্যাস উত্তোলন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ কয়লার মজুত নির্ধারণসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সার, শিল্প, গৃহস্থালি, সিএনজি, ব্যবসা-বাণিজ্যে বর্ধিত হারে গ্যাস সরবরাহ করার ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। গ্যাসের অপচয় রোধে আবাসিক গ্রাহকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় চার লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সাশ্রয়ী ব্যবহার করার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ দিবসটি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।