বনে হাসিনা-রেহানা, নৃশংসতার দিন চূড়ান্ত

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ৯, ২০২২

শেখ সাদী

৯ আগস্ট। শনিবার। সকাল ১০টা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি ড. স্যাম স্ট্রিট সাক্ষাৎ করেন।

বেলা ১১টা। প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহ দেখা করলেন।

সন্ধ্যা ৬টায় বাকশালের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ অন্যরা সাক্ষাৎ করেন। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর বাকশাল নেতাদের প্রতি শেষ ভাষণ

সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় দেখা করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এদিনে বনে হাসিনা।

দিনটির কথা  লিখছেন এম এ ওয়াজেদ মিয়া, ‘জার্মানিন্থ রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর বিশেষ আমন্ত্রণে আমি রেহানা-হাসিনাদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানী বনে যাই। রাষ্ট্রদূতের অফিসিয়াল বাসভবনে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।’

রেহানার চিঠি  বন থেকে ভাই ও ভাবিকে চিঠি লিখলেন শেখ রেহানা।

কামাল ভাই,

কেমন আছ? আমি ভালো আছি। ভাবি যা বলে শুনবে। দোয়া কোরো।

-স্নেহের রেহানা।


‘বড় ভাবি

আমার সালাম নিও। কেমন আছ। তোমাকে আগেও চিঠি দিয়েছি। কালকে বনে এসেছি। এখানে গরম ঢাকার মতো। অবশ্য আজকে বৃষ্টি হয়েছে। তোমার পরীক্ষা কেমন হয়েছে। তোমার ফটোগুলো সুন্দর উঠেছে। আমার ক্যামেরা পুতলী নষ্ট করে দিয়েছে। তাই ফটো উঠাতে পারছি না। মন খুব খারাপ। আমরা যে জায়গায় থাকি খুবই সুন্দর। ছোট্ট শহর। বাসা থেকে দোকানের রাস্তাটা ঠিকই চিনে ফেলেছি। তোমার কথা খুব মনে হয়। গতকাল কোলন গিয়েছিলাম। ওটাও খুব সুন্দর শহর। খুব ভালো লেগেছে। …আজকে জাহাজে যাব। মঙ্গলবার আর্মস্টারডাম। তারপর যাব ব্রাসেলস এবং তারপর যাব প্যারিস-আমার স্বপ্নের দেশ। দুই বউতে আব্বা-আম্মার সব আদর নিও না। নিচে ঠিকানা দিচ্ছি, চিঠি দিও। আমার সালাম নিও।

-ইতি রেহানা।’


‘জামাল ভাই ও রোজী,

কালকে বনে এসেছি। আজকে কলোন গিয়েছিলাম। আজ এখানে বৃষ্টি হয়েছে। ডলির বিয়েতে কেমন মজা করলে। চিঠি দিও। চিঠি পেলে খুব খুশি লাগে। তোমার বন্ধুদের সাথে কথা হয়েছে। তারা তোমার বিয়ের গল্প শুনতে চায়। Karlsruhe ফিরে তোমাকে ফোন করব। চিঠি দিও।

-রেহানা’

ফারুকের মিথ্যাচার
এদিকে ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ড ঘটানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ফারুক গং। দিনটি ছিল শুক্রবার। এই শুক্রবার নিয়ে ফারুক গল্পের ফানুস তৈরি করে। এক সাক্ষাৎকারে বলে, ‘শুক্রবার ভোরের আজানের আমার জন্ম । আবার এই শুক্রবার তার বিয়ের দিন। আবার, শুক্রবারেই পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী ছেড়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছি। শুক্রবার মুসলমানদের কাছে পবিত্র দিন। তাই এই হত্যার জন্য শুক্রবারকেই বেছে নিয়েছিলাম।’

সত্যটি কিন্তু তা নয়!
১৫ আগস্ট হল ভারতের স্বাধীনতা দিবস। খুনিচক্রের আশঙ্কা ছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে, পঁচিশ বছরের ভারত-বাংলাদেশ শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি অনুযায়ী ভারত সামরিক অভিযান চালাতে পারে। ভারত সামরিক অভিযান চালালে তা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। যেহেতু ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস তাই ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ-মন্ত্রী ও সামরিক বাহিনী এই দিনটিকে ব্যস্ত থাকবে। এমন দিনে ভারত প্রতিবেশী দেশে সামরিক অভিযান চালাবে না। তাই এই দিনটিকে খুনিচক্র বেছে নেয়।  – একুশে টিভি