‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ন্যায়সঙ্গত নয়’

প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ৬, ২০২২

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, এখন অভিঘাত সহ্য করতে পারছে না বলেই তো লোডশেডিংয়ে গেছে সরকার। আবার সরকারের কাছেও ডলার নেই। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে। সুতরাং এ রকম একটা অবস্থায় যাতে ঘাটতি কমানো যায়, ঘাটতি না বাড়ে সেজন্যই তো বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। এ অবস্থায় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না।

শামসুল আলম বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে সব কিছুর ব্যয় বেড়ে যাবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে, মানুষের ত্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। মুদ্রাস্ফীতি তো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে। এমনিতেই দফায় দফায় বিভিন্ন সময় পণ্য বাজার সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছে। পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে বাজার থেকে পর্যাপ্ত মুনাফা তুলে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। মুদ্রাস্ফীতি, গ্যাস ও জ্বালানির দাম বাড়লে সব জায়গায় বেড়ে যায়।

ড. শামসুল আলম আরও বলেন, মানুষের তো ক্রয় ক্ষমতা ও বেতন বাড়ে না। সরকারের বেতন যারা পায় তারা ইনক্রিমেন্ট পেয়ে কিছুটা হলেও সংকট মোকাবিলা করতে পারে। কিন্তু এর সংখ্যা তো ২০ লাখের নিচে। বেশির ভাগ মানুষই তো ননফরমাল, ইনফরমাল সেক্টরে কাজ করে। তাদের আয় সংকোচন হচ্ছে তো হচ্ছেই। তারা প্রচণ্ড রকমের ভোগব্যয় সংকোচন করছে।

এসব চিন্তা থাকলে সরকারের রাজস্ব আয়ও সংকোচন হয়ে যাবে, সরকারও সংকটে পড়বে। কারণ, দাম আরও বাড়লে মানুষ যদি পণ্য বা সেবা কিনতে না পারে, তাহলে সরকার সেখান থেকে কর পাবে কি করে? বাজারে পণ্য সরবরাহ, সেবা সরবরাহ কমে যাবে। একদিকে মানুষ বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারও আয় থেকে বঞ্চিত হবে।

শামসুল আলম বলেন, জ্বালানির মূল্য বাড়ায় সার্বিক বিবেচনায় মাইক্রো লেভেলে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি খুব বাড়বে। প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা অর্জন, বাজেট ঘাটতি, ব্যাংক ঋণ-এসব কিছু সংকটে পড়বে। দেখা যাবে, করোনা অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যতটা হুমকি সৃষ্টি করেছিল তার থেকেও বেশি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং তাদের সবকিছুতে শরিক করা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, মানুষের কাছ থেকে গণশুনানির ভিত্তিতে প্রস্তাব তৈরি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সুপারিশ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। যাতে করে মানুষ ভালো হোক মন্দ হোক বুঝতে পারবে আমরা নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্তে চলছি। ওপর থেকে আমলাদের বিবেচনায় একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব করতে যাওয়া পরিস্থিতিটাকে আরও বেশি কঠিন করে ফেলবে।

অধ্যাপক ড. শামসুল আলম আরও বলেন, আমরা তরল জ্বালানির ক্ষেত্রে চারটি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। গ্যাসের ক্ষেত্রে ২৫টি, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ১১টি এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন জ্বালানি রূপান্তর ও নীতির প্রস্তাব করেছে। এসবের মধ্যে আমরা বিস্তারিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পমেয়াদি নানা ধরনের সমস্যা সমাধানের এবং ভোক্তাবান্ধব জ্বালানি, উন্নয়ন, কৌশল, প্রনয়ণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের কথা বলেছি। এগুলোর আলোকে সরকার আশু সমস্যা বা বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পাবে। তবে এটা নির্ভর করবে সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর সচেতনতা এবং দূরদর্শিতার ওপর। – যুগান্তর