চিরিরবন্দরে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ১৭৫ মিটার সেতুর কাজ

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ৫, ২০২২

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কাঁকড়া নদীতে ১৭৫ মিটার একটি সেতুর নির্মাণ কাজ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় চিরিরবন্দর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের যাতায়াতকারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি তবে শীঘ্রই কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে চিরিরবন্দর উপজেলার দক্ষিণ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি ছিল ভিয়াইল ও পুন্ট্রি ইউনিয়নের সংযোগস্থল আত্রাই নদীতে একটি সেতু নির্মাণের। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ১৭৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি। এতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। কাজটি সম্পূন্ন হওয়ার কথা ছিলো ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে। এ কাজটি পেয়েছে ঢাকা দোহারের মের্সাস সুরমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চিরিরবন্দর উপজেলা সদরে যাতায়াতে এই নদীই প্রধান সমস্যা। এছাড়া ভিয়াইল ও পুন্ট্রি ইউনিয়নের মানুষের প্রয়োজনীয় কাজে, কষিপণ্য পরিবহনে এই নদীতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এখানে বছরের প্রায় ৮ মাস পানি থাকে। এ কারণে বর্ষায় নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে হয়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাজার হাজার মানুষকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় রুবেল হোসেন ও ব্যবসায়ী জবেদ আলী বলেন, সেতু নির্মাণে যেমন ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তদারকির চরম অভাব। এ কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় চলে গেলেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
ওই এলাকার বাসিন্দা বিনু চন্দ্র জানায় নদী ওপারে ইউনিয়ন পরিষদ যে কোন কাজে নদী পার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতেই হয়। যেকোন গুরুত্বপূর্ন কাজে বা সমাবেশে গ্রামের সবাই এক সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে যায় । কিন্তু মাত্র একটি নৌকা ঘাটে থাকায় সময় মত সবাই এক সাথে পরিষদে যেতে পারে না।

নৌকা দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় জেসমিন নামের এক নারী বলেন নদীর ওই পারত হামার আবাদিজমি ধান কাটা মারার সময় হামার খুব কষ্ট হয় ফসল ঘরে আনতে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থী ইমরান হাসান বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতিতে সেতুটি নির্মাণ প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এত দেরি হওয়ায় আমরা চিন্তিত, কবে এর কাজ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না।

হিরা নামে অপর এক ব্যক্তি আরো বলেন, ভিয়াইল ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা কৃষিকাজ, মৎস্য কাজ করেন। কাঁকড়া নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া যাতায়াতের বিকল্প যে পথটি রয়েছে, সেটি প্রায় ৭ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। তাছাড়া এই সেতুটি হচ্ছে দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থল। তাই হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এই সেতুটি দ্রুত মানুষের চলাচলের উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।

তবে চিরিরবন্দর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারুক হাসান জানান, ঠিকাদারের বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ রাখায় সেতু নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তাদের অনেকবার চিঠি দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। বর্ষা মৌসুমের পরেই তারা পূনরায় কোন সারা না দিলে বাতিল আবেদন চেয়ে বাকি কাজ শুরু করা হবে। তবে সেতুটির পিলারসহ অন্যান্য কাজ মোটামুটি ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।