সাদামাটা জীবনেও ছিলেন অনন্য

প্রকাশিত: ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ৫, ২০২২

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম হয় তার।

শৈশব: ১৯৪৯ সালের ১৪ অক্টোবর, রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রচারণায় গ্রেপ্তার হন শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় শেখ কামাল মাত্র দুই মাস দশ দিনের শিশু। প্রায় তিন বছর পর ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি যখন মুক্তি পেলেন বাবা শেখ মুজিব তখন কেবল কথা বলতে শিখেছেন কামাল। তাই বাবার স্মৃতি ছিলনা, শুধু বড় বোন শেখ হাসিনাকে দেখছিলেন বাবা বলে ডাকতে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ শিরোনামের লেখায় এই স্মৃতির উল্লেখ রয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৪৯ সালে আমার আব্বা গ্রেফতার হন। আমি তখন খুবই ছোট্ট আর আমার ভাই কামাল কেবল জন্মগ্রহণ করেছে। আব্বা ওকে দেখারও সুযোগ পাননি। একটানা ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি বন্দি ছিলেন। সে সময় আমাদের দুই ভাইবোনকে নিয়ে আমার মা দাদা-দাদির কাছেই থাকতেন। একবার একটা মামলা উপলক্ষে আব্বাকে গোপালগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হয়। কামাল তখন অল্প কথা বলা শিখেছে। কিন্তু আব্বাকে ও কখনো দেখেনি, চেনেও না। আমি যখন বারবার আব্বার কাছে ছুটে যাচ্ছি আব্বা-আব্বা বলে ডাকছি ও শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে। গোপালগঞ্জ থানায় একটা বড় পুকুর আছে, যার পাশে বড় খোলা মাঠ। ওই মাঠে আমরা দুই ভাইবোন খেলা করতাম ও ফড়িং ধরার জন্য ছুটে বেড়াতাম। আর মাঝে মাঝেই আব্বার কাছে ছুটে আসতাম। অনেক ফুল, পাতা কুড়িয়ে এনে থানার বারান্দায় কামালকে নিয়ে খেলতে বসেছি। ও হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘হাসু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।’

শেখ কামালের শৈশবের প্রায় ৬ বছর কেটেছে বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে তাল-তমাল-হিজল গাছের সবুজে আঁকা টুঙ্গিপাড়ায়।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সেখানে শেখ মুজিব মন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপরই তিনি টুঙ্গিপাড়া থেকে পরিবারের সবাইকে সরিয়ে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।

শিক্ষা: শেখ কামাল ১৯৫৬ সালে কেজি ওয়ানে ১১২-সেগুনবাগিচার ডনস কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি হন। কেজি ওয়ান থেকে কেজি থ্রি এবং স্ট্যান্ডার্ড ওয়ান থেকে স্ট্যান্ডার্ড থ্রি ডনসে পড়াশোনা করার পর ১৯৬১ সালে বিএএফ শাহীন স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। শাহীন স্কুলে ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। শিষ্টাচার, আচার-আচরণ এবং মহান নৈতিক মানবিক গুণাবলীর কারণে সেখানে সবাই তার সমর্থক হয়ে ওঠে।

শেখ মুজিব জেলের বাইরে থাকলে স্কুলে নিয়ে যেতেন পুত্র কামালকে। এছাড়া বাকি সময় কামাল একাই স্কুটারে চেপে স্কুলে যেতেন।

১৯৬৭ সালে শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ঢাকা কলেজে ভর্তি হন কামাল। ১৯৬৯ সালে সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট লাভ শেষে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ছাত্র অবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, পরে যুদ্ধ শেষে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বিএ (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেন। আর ১৯৭৫ সালে অংশ নেন স্নাতকোত্তর পরীক্ষায়। মৃত্যুর আগের দিন ১৪ আগস্ট প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছিল তার মৃত্যুর পাঁচ মাস পর ২৯ জানুয়ারি। সেই পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তার ক্যালিগ্রাফিক হস্তাক্ষর শৈলীর দক্ষতাও ছিল।

মুক্তিযুদ্ধে: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গে নৈশভোজে বলেছিলেন, ‘আজ জনসমক্ষে ঘোষণা করেছি। সরকার এখন যে কোনো মুহূর্তে আমাকে গ্রেপ্তার বা হত্যা করতে পারে। তাই আজ থেকে পরিবারের সবাই আমার সাথে দিনে দুবার অর্থাৎ দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবারে একসাথে বসবেন।’ ২৫ মার্চ দুপুরের খাবার পর্যন্ত এই নিয়ম চালু ছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারে।

২৫ মার্চ রাত ৯টার দিকে শেখ কামাল বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ভোরে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় ফিরে মা ও ভাইদের সঙ্গে দেখা করেন। ২৬ মার্চ ধানমন্ডি ৩২ এ পাকিস্তানি সেনারা আবার তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এরপর শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যান। ছদ্মবেশে তিনি এপ্রিলের মাঝামাঝি গোপালগঞ্জ পৌঁছান। শেখ কামাল তার চাচাতো ভাই জনাব ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর সাথে কাশিয়ানীর বসপুরে আশ্রয় নেন। অবশেষে দুজনেই ওড়াকান্দির ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে ভারতে চলে যান। পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে শেখ কামাল দিল্লি চলে যান। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। ইন্দিরা গান্ধী তার বাসভবনে গিয়ে ঢাকার পরিস্থিতি বর্ণনা করেন।

শেখ কামাল ৬১ জন সৌভাগ্যবান যুবকের একজন যারা ‘বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধ কোর্স’ সম্পন্ন করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন পেয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের জুনের শেষের দিকে প্রথম যুদ্ধের কোর্স শুরু হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা একই বছরের ৯ অক্টোবর পাস আউট হয়। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে ১৬ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ কোর্সে থাকা অবস্থায় শেখ কামাল কখনো অসুস্থ বোধ করেননি। তার শারীরিক সুস্থতা এবং পারফরম্যান্স তার সমস্ত সহপাঠীদের মধ্যে সেরা ছিল। সেই প্রশিক্ষণ কোর্সে তিনি পঞ্চম স্থানে ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুই ভাই ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল যুদ্ধ ফ্রন্ট থেকে ধানমন্ডি ১৮ নম্বর রোডের তৎকালীন বাসভবনে ফিরে আসেন। এ সময় তাদের পরনে সামরিক পোশাক ছিল। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান শেখ কামাল। তবে এরপর সামরিক চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন। তবে তিনি জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাননি।

ক্রীড়া সংগঠক এবং একজন চটপটে খেলোয়াড়: শেখ কামাল ছিলেন বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ক্রীড়া সংগঠক। কামাল টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় এসে শৈশবে নর্থ-সাউথ রোড ও বিজয় নগরের মাঝের খেলার মাঠে অনুশীলন করতেন। ধানমন্ডি খেলার মাঠেও খেলেছেন তিনি। তবে ওই সময় ধানমন্ডি এলাকায় শিশু ও যুবকদের জন্য কোনো ক্লাব ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে তিনিই প্রথম উদ্যোগ নেন। তিনি প্রথমে আবাহনী সমাজকল্যাণ সংস্থা গঠন করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘আবাহনী স্পোর্টস ক্লাব’।

স্বাধীনতার পরে তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরিয়ে আনতে তিনি সেই মহতী উদ্যোগ নেন। শুধু ফুটবলই নয়, তিনি হকির প্রতিও যথেষ্ট অনুরাগী ছিলেন। এক সময় তিনি খেলোয়াড়দের খেলাধুলার জন্য আধুনিক পোশাক ও সরঞ্জাম প্রদানে অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে ওঠেন।

এক কথায় তিনি খেলাধুলায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। খেলোয়াড়দের স্বাবলম্বী করার পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাদের অবসর ভাতার ব্যবস্থাও করেছিলেন। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান নিয়ে ‘খেলোয়াড় কল্যাণ তহবিল’ গঠন করেছিলেন।

শেখ কামালের একমাত্র প্রিয় জিনিস ছিল একটি টয়োটা লাল গাড়ি, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ব্যবহার করতেন। অর্থ উপার্জন ও ব্যবসায় তার কোনো আকর্ষণ ছিল না। তিনি ঢিলেঢালা ফুলহাতা টি-শার্ট ও প্যান্ট এবং পায়ে সাধারণ স্যান্ডেল বা জুতা পরতেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড: রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শেখ কামালের নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ৬ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা, অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। সে সময় শেখ কামাল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদের সংগঠিত করেন।

শেখ কামাল ১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সম্মেলনের প্রধান অতিথি পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মোনেম খানকে কালো পতাকা প্রদর্শনের জন্য ছাত্রলীগ কর্মীদের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি একটি শহীদ মিনার স্থাপন করেন।

১৯৭০ সালের অসহযোগ আন্দোলনের সময় শেখ কামাল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য গোপন অস্ত্র প্রশিক্ষণের নেতৃত্ব দেন। শেখ কামাল, তার বড় বোন শেখ হাসিনার সাথে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতেন।

শেখ কামাল তার সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও আলোচনা শক্তির সাহায্যে ছাত্রলীগকে পুনর্গঠন করেন এবং সংগঠনকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক: শেখ কামাল ছিলেন সংস্কৃতি জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একজন মহান অভিনেতা, গায়ক এবং সেতার বাদক ছিলেন। তার বড় বোন শেখ হাসিনা ছায়ানটে বেহালা চর্চা করতেন। একই প্রতিষ্ঠানে তার ছোট ভাই শেখ জামাল গিটার শিখতেন। তার ছোট বোন শেখ রেহানা নাচ-গানের প্রশিক্ষণ নিতেন।

শেখ কামাল ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদ থেকে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সংস্কৃতি বিনিময় মেলায় অংশ নেন। শহীদ মুনীর চৌধুরীর ‘কেউ কিছু বলতে পারে না’ নাটকে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

আন্তঃকলেজ সেতার প্রতিযোগিতায় তিনি সারা পাকিস্তানে রানার আপ হন। স্বাধীনতার আগে তিনি ‘মৃদঙ্গ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি স্থাপিত ‘স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠি’র প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

বিবাহিত জীবন: মাত্র এক মাসের বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন শেখ কামাল। তার নবপরিণীতা বধূ সুলতানা খুকু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। দেশজোড়া খ্যাতি ছিল তার। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি ছিল এক প্রতিভাবান অ্যাথলেট হিসেবে। নিজেরা পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন তারা। তবে তা ছিল পরিবারের সম্মতিতেই। ১৯৭৫ এর ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ কামাল ও শেখ জামাল দুই ভাইয়েরই বিয়ে হয় একসঙ্গে। আমন্ত্রিত অতিথিদের উপহার আনতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল সেখানে। বিয়ের রিসেপশন ছিল একেবারেই সাদামাটা।

বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট তৎকালীন উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্যের হাতে পুরো পরিবারসহ নৃসংশভাবে খুন হন শেখ কামাল। সেদিন ঘাতকদের প্রথম বুলেটটিই লেগেছিল কামালের বুকে।