ভিসিকে বশ মানাতে মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি ইলিয়াসের নতুন পদক্ষেপ!

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ , জুলাই ২১, ২০২২

টেন্ডার, চাকরিসহ বিভিন্নখাতে প্রভাব বিস্তার না করতে পেরে নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে উপাচার্যকে চাপে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময় নিয়োগ ও টেন্ডারের অনৈতিক দাবি নিয়ে উপাচার্য দপ্তরে চাপ প্রয়োগ ও গাড়ি আটকানোর নজির আছে ইলিয়াসের।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নতুন উপাচার্যের কাছ থেকে অতীতের ন্যায় টেন্ডার ও নিয়োগে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পেয়ে এবার নেতাকর্মীদের নিয়ে উপাচার্যকে চাপে ফেলতে মাঠে নেমেছেন ইলিয়াস।

বুধবার (২০ জুলাই) মানববন্ধনের ডাক দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট দেন। ছাত্রলীগের বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইলিয়াস এর আগেই সভা করে তার অনুসারীদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থানরত সবাইকে অবশ্যই সেখানে থাকতে বলা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে তৃতীয় দিনের মতো মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত ১৯ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগ এবং ২০ জুলাই নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল শাখা ছাত্রলীগকেও বিভিন্ন দাবি নিয়ে মানববন্ধনে নামান তিনি।

এসব মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট চলমান কিছু সংকট তুলে ধরে সেগুলো সমাধানের দাবি জানানো হয়। তবে এসব দাবির সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বলছে, এসব দাবির অনেকগুলোই প্রক্রিয়াধীন। আবার কিছু কিছু দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না। এগুলো বাস্তবায়নে একটু সময় লাগবে।

লাগাতার মানববন্ধনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টিকে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ভিসি স্যারকে চাপে রাখার জন্য এবার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের দাবি নামক ব্যানারে ছাত্রলীগ মানববন্ধনে নেমেছে। এর আগে বিভিন্ন সময় তারা বিভিন্ন টেন্ডার ও নিয়োগের অযৌক্তিক দাবি নিয়ে ভিসি স্যারের কাছে গেলে ভিসি স্যার রাজি না হওয়ায় তারা চাচ্ছে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে। যাতে চাপে পড়ে ভিসি তাদের উপর নমনীয় হয় আর ইলিয়াসের নিয়োগ ও টেন্ডারের সকল অযৌক্তিক দাবি মেনে নেয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, গত তিন মাস আমরা উপাচার্যের কাছে কোনো টেন্ডার বা নিয়োগ নিয়ে কথা বলতে যাইনি। আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলছি। এখন কেউ যদি বলে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছি এটা সত্য নয়।

তবে তিন মাস আগে গত ৩১ মার্চ চাকরি-ঠিকাদারির নানা দাবিতে ইলিয়াসের নেতৃত্বে উপাচার্যের গাড়ি আটকায় কুবি শাখা ছাত্রলীগ। উপাচার্য তাদের অনৈতিক দাবির সাথে একমত না হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতি ইলিয়াস উপাচার্যের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।

ছাত্রলীগের দাবিগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম আব্দুল মঈন বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা এগুলো যথাসম্ভব দ্রুত পূরণের চেষ্টা করবো। তবে আমি টাকার নয়-ছয় করি না। বাজেটে যে খাতে যতটুকু বরাদ্দ থাকে ততটুকুই ব্যয় করি। তাই সব দাবি পূরণে একটু সময়ও লাগবে।

মানববন্ধন করার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা তিনদিনে তিনটা মানববন্ধন করলো। হুট করে ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে এভাবে লাগাতার মানববন্ধনের পিছনে কি উদ্দেশ্য তা আমি জানি না। তবে এটুকু বলবো আমরা শিক্ষার্থীদের জন্যই কাজ করছি। সকল যৌক্তিক দাবি মেনে নিব, তবে কারো কোনো অযৌক্তিক দাবি মেনে নিব না।

উল্লেখ্য, কুবি শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিকে (ইলিয়াস-মাজেদ) ২০১৭ সালে ১ বছরের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন। তারা এবং তাদের পরে আসা শোভন-রাব্বানী সাবেক হয়ে গেলেও ২০১৭ সালে দেওয়া কুবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটির কার্যক্রম কুবিতে এখনো বহাল রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুবি শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিয়োগ, টেন্ডারে সম্পৃক্ততা ও শিক্ষার্থী মারধরসহ নানা অভিযোগ উঠছে।