লোডশেডিং তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

সঙ্কট কাটাতে রেশনিং ॥ অফিস সময় রদবদলের সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ১৬, ২০২২

সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিয়েও বিশ্ববাজারে উর্ধমুখী জ্বালানির দামের সঙ্গে তাল মিলাতে পারছে না বাংলাদেশ। ফলে জ্বালানি সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুত উৎপাদন। বাধ্য হয়ে লোডশেডিংয়ের আশ্রয় নিতে হচ্ছে সরকারকে। ঈদের ছুটির এ ক’দিন কিছুটা কম থাকলেও ছুটির পর আবারও সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর তাই সঙ্কট মোকাবেলায় বিদ্যুত ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নেয়া হচ্ছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। এর মধ্যে অফিস সময় রদবদলসহ উৎসব-অনুষ্ঠান সীমিত আকারে আয়োজনের নির্দেশনা দেয়ার কথা ভাবছে সরকার। শুধু তাই নয় ভর্তুকি কমাতে এবং স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি কেনাসহ জ্বালানি খাতের সঙ্কট মোকাবেলায় বিদ্যুত ও জ্বালানি তেলের দামও বাড়াতে যাচ্ছে সরকার।

পেট্রোবাংলা বলছে, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হয়। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম উর্ধমুখী হওয়ায় বর্তমানে ৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। স্পট মার্কেটে যে গ্যাসের দাম ছিল ১৫ ডলারের মতো তা বর্তমানে ৪১ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এতে করে ৫শ’ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস এখন কিনতে হচ্ছে ১৫শ’ কোটি টাকায়। যা দেশের মানুষের টাকা দিয়েই কিনতে হবে।

দেশের মানুষের স্বার্থেই স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনা বন্ধ রয়েছে জানিয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জনকণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করি, আর বাকি ২০০ কখনও কখনও তা ২৫০ মিলিয়নও হয়, সেটা আমরা স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করতাম। এখন বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ রেখেছি। এর ফলে কিছুটা গ্যাস ঘাটতি হচ্ছে। তবে তা মোট চাহিদার খুব সামান্য পরিমাণ। তিনি বলেন, সরকারী হিসাবে আমাদের মোট চাহিদা ২৮শ’ থেকে ২৮শ’ ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের। বর্তমানে আমরা ২৩শ’ থেকে ২৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছি। এক্ষেত্রে মাত্র ৮-১০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারলেই আমাদের সঙ্কট মোকাবেলা করা সম্ভব।

সাশ্রয়ের উপায় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের আগে সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে বলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে হোম অফিস বা অফিস সময় পরিবর্তন, মার্কেট-বিপণিবিতানের সময় সীমিতকরণ করা যেতে পারে। তবে যেহেতু এটা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাই এ বিষয়ে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশ্বের সব দেশই এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। গতকাল দেখলাম জার্মানি বিদ্যুতের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ-আমেরিকার নানা দেশও বিদ্যুত ও জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে। এ অবস্থায় দেশের স্বার্থে সাশ্রয়ের বিকল্প নেই আমাদের।

এদিকে ঈদের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্ট ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছিলেন, বিদ্যুত ও জ্বালানির ব্যবহার কমাতে অফিস সময় কমিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকার। আবারও চালু হতে পারে হোম অফিস। এ সময় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরিস্থিতির কারণে দেশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি সঙ্কট থাকতে পারে। বিদ্যুত ঘাটতি আছে ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। জ্বালানি সাশ্রয় করা গেলে এটি ৫০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনা সম্ভব। আর পিক আওয়ারে ২ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা কমানো গেলে লোডশেডিংয়ের চাপ নাও থাকতে পারে।

এক্ষেত্রে পিক আওয়ার অর্থাৎ বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুতের সাশ্রয়ে আগেই দোকানপাট, বিপণিবিতান রাত ৮টার পর থেকে বন্ধ করে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সরকার। কিন্তু ঈদের কারণে এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর না হলেও এ বিষয়ে সরকার কড়াকড়ি অবস্থানে যাবে জানিয়ে ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, এ সময়টা আমাদের একটু ভুগতেই হবে। সেপ্টেম্বরের পর ভারত থেকে আমদানি করা কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র এবং এস আলম গ্রুপের বাঁশখালীর বিদ্যুত কেন্দ্র উৎপাদনে এলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন কমে এলেও সমস্যা হবে না। এই কেন্দ্রগুলো থেকে গড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত আসবে। শুধু এলএনজি দিয়ে সঙ্কট মোকাবেলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশ বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এখন জ্বালানি সঙ্কট হচ্ছে। জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। আমরা এর বাইরে নই। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভাল আছি। আমরা যুদ্ধের মধ্যেই অবস্থান করছি। এই সঙ্কট মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে গ্যাস ও বিদ্যুত ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে হবে। সন্ধ্যা ৭টার পর বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান না করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রীতে রাখা, মসজিদেও নামাজের সময় ছাড়া বিদ্যুত ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

এ বিষয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা শীঘ্রই আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে এলএনজি ও তেলের দাম এখন অনেক বেশি। এলএনজির দাম এখন প্রতি মিলিয়ন ঘনফুট ৪১ ডলারে উঠেছে। ডিজেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৭৭ ডলারে উঠেছে। এমনিতেই আমরা এ খাতে ভর্তুকি দিচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে আরও বেশি ব্যয় করা কঠিন। অন্যদিকে সাশ্রয় করা গেলে এই ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। তবে এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ শেষ হবে তা কেউ জানে না। আমরা সাশ্রয়ের তালিকা তৈরি করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের বক্তব্য অনুসারে ঈদের পর পরই অর্থাৎ চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহেই বাড়তে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম। নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পরপরই রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থির তেলের মূল্য। গত নবেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে দেড় গুণের বেশি। আর এর ফলে তেল কিনতে গিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রতিদিনই প্রায় শতকোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। আর এই লোকসানের বোঝা কমাতেই দেশের বাজারে সমন্বয় করা হবে জ্বালানি তেলের দাম। যার ঘোষণা আসছে আসন্ন কোরবানির ঈদের পরে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি বৈঠক এ সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন করতে হবে। তবে তা বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে। এখনও কিছু নির্ধারিত না হলেও এটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী যেভাবে জ্বালানির দাম বাড়ছে সেটা খুব অস্বাভাবিক। এ অবস্থা কতদিন চলবে আমাদের সেটা চিন্তা করতে হবে। বিপিসি প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান গুনছে। তবে আমরা চাই না আমাদের যারা গ্রাহক রয়েছেন তাদের ওপর কোন চাপ বাড়াতে। আমরা চাই সমন্বয় করতে। সেটা নিয়েই কাজ চলছে। আসলে আমরা কতদিন এই লোকসান করব? পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও দাম সমন্বয় করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো দাম বাড়লে বাড়ায়, কমলে কমায়। আমার সেদিকে যাব কি-না ভাবছি। ভারতের সঙ্গে এখন আমাদের তেলের দামের অর্ধেক পার্থক্য। সে তুলনায় এখনও আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি। আমরা কতটা বাড়াব সে জায়গাটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। যাত্রীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, পরিবহন খাতে কি পড়বে সব আমাদের ভাবতে হচ্ছে। এর জন্য দফায় দফায় পরিবহন মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আমরা বৈঠক করছি। লোকসানের বোঝা কমাতে আর কোন উপায় নেই।

তবে পরিবহন মালিকদের অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ দেয়া হবে না। তারা কোন যুক্তিতে কি পরিমাণ ভাড়া বাড়াতে চায় এ বিষয়ে আমরা আলোচনায় বসব। আমরা দাম সমন্বয় করলাম আর তারা যত্রতত্র দাম বাড়িয়ে দিল। এর সমস্ত দায় দায়িত্ব কিন্তু সরকারের ওপর পরে। কিন্তু মূলত এর সুফলটা পরিবহন মালিকরা ভোগ করে। এটা কোনভাবেই চলতে দেয়া যাবে না। কি পরিমাণ বা কবে নাগাদ এই দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীঘ্রই এ বিষয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। তবে গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়বে এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না।

ইতোমধ্যে বেড়েছে গ্যাসের দাম। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোরও সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন। এমন অবস্থায় জ্বালানি তেলেরও দাম বাড়লে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হবে চরম ভোগান্তি। এর আগে গত বছরের ৩ নবেম্বর লিটারে ১৫ টাকা করে বাড়ানো হয় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম। নতুন দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয় ওই সময়। তখন দাম বাড়ানোর বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের উর্ধগতির কারণে ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ তেলের দাম সমন্বয় করছে। গত ১ নবেম্বর ভারতে ডিজেলের বাজার মূল্য লিটার প্রতি ১২৪ দশমিক ৪১ টাকা বা ১০১ দশমিক ৫৬ রুপী ছিল। আর বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৬৫ টাকা অর্থাৎ ৫৯ দশমিক ৪১ টাকা কম। ক্রয় মূল্য বিবেচনা করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ডিজেলে লিটার প্রতি ১৩ দশমিক ০১ টাকা কমে বিক্রি করছে। অপরদিকে ফার্নেস অয়েল বিক্রি করছে লিটার প্রতি ৬ দশমিক ২১ টাকা কমে।

এতে করে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বিপিসি। ওই বছরের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন গ্রেডের পেট্রোলিয়াম পণ্য বর্তমান দামে সরবরাহ করায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মোট ৭২৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে দাবি করা হয়।

জানা যায়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা জারির পর তেলের দাম বাড়ে আবারও। গত সোমবার রাতে ব্রাসেলসে একটি সম্মেলনে সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল পরিবহনের ওপর সর্বসম্মত নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইইউর দেশগুলো। এ নিয়ে চুক্তিও করে ইইউর নেতারা। তাদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে রাশিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ তেল ইউরোপে রফতানির পথ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ রাশিয়ার তেলের দুই-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথেই ইউরোপে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ইইউর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির পরই বিশ্ববাজারে বাড়তে থাকে তেলের দাম।

এর আগে গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়ার তেল সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনার খবরে তেলের দাম ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে। গত ৭ মার্চ বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) দাম প্রতি বেরেলে ১৩৯ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে ১৩০ এ নামে।

এদিকে গত ৫ জুন গ্রাহক পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২২ দশমিক ৭৮ ভাগ বৃদ্ধি করে প্রতি ঘনমিটার ১১ টাকা ৯১ পয়সা করা হয়েছে। এছাড়া আবাসিকে এক চুলার বর্তমান দাম ৯৫০ থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা এবং দুই চুলায় ৯৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০ টাকা করা হয়েছে। প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বর্তমান দর ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা করা হয়। ওদিন এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানায়, এ খাতে ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঘাটতি হবে। এই টাকার মধ্যে সরকার ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে বাজেটে দেবে। অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল এবং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দেয়া হবে।

এর আগেই বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানিগুলো খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করে। কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনার বিপরীতে হয়েছে শুনানিও। এর প্রেক্ষিতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৫৭.৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এভাবে একের পর এক গ্যাস, বিদ্যুত, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন আর বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। – জনকন্ঠ