চট্টগ্রামে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ , জুলাই ৯, ২০২২

চট্টগ্রামে এবার কোরবানির ঈদে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদাররা। চট্টগ্রাম মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ সব চামড়া সংগ্রহ করা হবে।
এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যাানরি মালিকারা ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছেন ৪০ থেকে ৪৪ টাকায়। আর ঢাকার জন্য নির্ধারণ করেছেন ৪৭ থেকে ৫২ টাকা। চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির ব্যবসায়ীদের দাবি-তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনবেন। যদি ট্যানারি মালিকরা তাদের লবণ দেয়া চামড়ার ন্যায্য দাম না দেন তাহলে শুধু লোকসান নয়, অনেকের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশংকা করেছেন তারা।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির নেতারা জানান, আগে প্রতিবছরই পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকতো। লবণের দাম ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে চামড়া খাতে সংকট কাটছে না। ফলে দিনদিন কমেছে লক্ষ্যমাত্রাও।
চামড়া খাতের সংকট প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের আড়তদাররা জানান, গতবছর ঢাকার এতগুলো ট্যানারির মধ্যে অধিকাংশই চট্টগ্রামের আড়তদারদের কাছ থেকে চামড়া নেয়নি। ছোটখাটো দু’চারটা ট্যানারির প্রতিনিধি এসে সামান্য কিছু চামড়া কিনেছে। ট্যানারির মালিকদের প্রতি অনুরোধ তারা যেন চামড়া কেনার সময় ন্যায্য দামটুকু আমাদের দেন।
এই ব্যাপারে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন আজাদীকে জানান, এ বছর চট্টগ্রামে ৪ লাখের মতো কোরবানি (গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলে) হবে। আমরা চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে গরু, ছাগল ও মহিষ মিলে ২ লাখের মতো কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করবো। গ্রামে ৪০ থেকে ৫০জন চামড়া ব্যবসায়ী আছেন, তারা গ্রামে-গঞ্জ থেকে আরো ২ লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ করবেন। সব মিলে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি আমরা।
সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন জানান, এ বছর লবণের দাম বেড়ে গেছে। গত বছর ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা লবণের দাম ছিল ৫শ টাকা। একই বস্তা লবণ এ বছর বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। প্রতিটি চামড়ায় সাত থেকে আট কেজি লবণ দিতে হয়। গুদাম ভাড়া, মজুরি হিসাব করলে প্রতি বর্গফুটে আমাদের ১০ থেকে ১২ টাকা খরচ পড়ে। তারপরও আমরা চট্টগ্রামের আড়তদাররা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪০ থেকে ৪৪ টাকায় ক্রয় করবো। আমাদের শুধু একটাই দাবি-বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত দামেই যেন ট্যানারি মালিকরা আমাদের কাছ থেকে চামড়া কিনেন। যদি ট্যানারি মালিকরা আমাদের চামড়ার ন্যায্য দাম না দেন তাহলে শুধু লোকসান নয়, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। একই সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের বলবো, এখন প্রচুর গরম পড়ছে। দ্রুত চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে। গ্রাম-গঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা চামড়াগুলো যেন দ্রুত লবণ দিয়ে দেয় এবং ছায়াযুক্ত স্থানে রাখে তাহলে চামড়াটা সুরক্ষিত থাকবে।
জানা গেছে, আগে এক সময় চট্টগ্রামে ২২টি ট্যানারি ছিল। লোকসানের কবলে অধিকাংশ মালিক ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে রিফ লেদার ছাড়া আর কোনো ট্যানারি চালু নেই। চট্টগ্রামের আড়তদাররা এই একটি মাত্র ট্যানারির উপর ভিত্তি করে চামড়া সংগ্রহ করেন প্রতি বছর।
গত ৫ বছর আগেও চট্টগ্রামে মদিনা ট্যানারি চালু ছিল। মদিনা এবং রিফ লেদার ট্যানারি দুটি ঢাকার ট্যানারিগুলোর সাথে তুমুল প্রতিযোগিতা দিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) না থাকায় পাঁচ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তর সব ধরণের কাজ বন্ধ করে দেয় মদিনা ট্যানারির। তবে সংকটকালীন সময়েও লড়াই করে টিকে আছে রিফ লেদার নামের ট্যানারিটি।
বর্তমানে চট্টগ্রামে সমিতিভুক্ত আড়তদারের সংখ্যা ১১২ জন। এই ১১২ জনের মধ্যে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করেন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০জন। সমিতির সদস্যের বাইরে শহরে আরো ১৫-২০জনের মতো চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। গ্রামে আছেন আরো ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো।- আজাদী