করোনা-ডেঙ্গুর মধ্যে ভারতে মাঙ্কিপক্স আতঙ্ক

প্রকাশিত: ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ৯, ২০২২

ভারতে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। একই সঙ্গে চলতি বর্ষায় ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপের ঝুঁকিতেও রয়েছে দেশটি। এর মধ্যেই দেশটিতে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে মাঙ্কিপক্স।

এবার মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম এক রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউরোপ ফেরত ওই যুবককে ইতোমধ্যেই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ ওই যুবকের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। তার নমুনা সংগ্রহ করে পুনের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেই ইউরোপের একটি দেশ থেকে ফিরেছেন তিনি। গায়ে ‘র‌্যাশ’–সহ (ফুসকুড়ি) মাঙ্কিপক্সের অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ওই যুবককে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাঙ্কিপক্স হতে পারে বলে সন্দেহ হওয়ায় নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে পুনের হাসপাতালে। এখন তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভুবনচন্দ্র হাজরা বলেছেন, রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এর আগে উত্তরপ্রদেশে হাতে লাল র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল পাঁচ বছরের শিশুকন্যা। সেই সময় তাকে নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছিল। সন্দেহ করা হয়েছিল মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়েছে শিশুটি।

বিশ্বের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মাঙ্কিপক্স। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোতে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করে সরকার। বিদেশ ফেরত কাউকে অসুস্থ মনে হলে বা সংক্রমণের কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলে তাকে আইসোলেশনে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মাঙ্কিপক্সের শুরুটা হয়েছি যুক্তরাজ্যে। দু’বছর আগে আমেরিকায় একজনের শরীরে মিলেছিল ভাইরাস। তবে এর পরে আর সংক্রমণ ছড়ায়নি। মূলত আফ্রিকা, নাইজেরিয়াতে এ ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যেত এতদিন। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে। বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

গুটিবসন্ত যে গোত্রের ভাইরাস থেকে হয় মাঙ্কিপক্সও সেই গোত্রেরই। এই ভাইরাসের সংক্রমণেও জ্বর, সারা গায়ে বড় বড় ফুসকুড়ির মতো র‍্যাশ বের হবে। ত্বক শুকিয়ে খসখসে হয়ে যাবে, প্রচণ্ড চুলকানি, জ্বালা হবে র‍্যাশের জায়গায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) মাঙ্কিপক্স ভাইরাসকে কাবু করার উপায় ভাবছে। নানারকম ভ্যাকসিন ও ওষুধপত্র নিয়ে গবেষণা চলছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, একজন অন্যজনের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে, বিশেষ করে ত্বকের সংস্পর্শে এলে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বড়দের থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে শিশুদের মধ্যেও।