মাসায়েলে কুরবানী

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ , জুলাই ৭, ২০২২

২য় হিজরী সনে ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহা বিধিবদ্ধ হয়। ঈদুল আযহার দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শারঈ তরীকায় যে পশু যবহ করা হয়, তাকে ‘কুরবানী’ বলা হয়। সকালের রক্তিম সূর্য উপরে ওঠার সময়ে ‘কুরবানী’ করা হয় বিধায় এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আযহা’ বলা হয়ে থাকে। এ সংক্রান্ত মাসায়েল সংক্ষেপে নিম্নরূপ :

১. যিলহজ্জ মাসের ১ম দশকের ফযীলত : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যিলহজ্জ মাসের ১ম দশকের নেক আমলের চেয়ে প্রিয়তর কোন আমল আল্লাহর কাছে নেই। ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়? তিনি বললেন, জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তি, যে তার নিজের জান ও মাল নিয়ে বেরিয়েছে, আর ফিরে আসেনি অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে গেছে’।[1]

২. চুল-নখ না কাটা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী দেওয়ার এরাদা রাখে, তারা যেন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর হ’তে কুরবানী সম্পন্ন করা পর্যন্ত স্ব স্ব চুল ও নখ কর্তন করা হ’তে বিরত থাকে।[2] (খ) কুরবানী দিতে অক্ষম ব্যক্তিগণ কুরবানীর খালেছ নিয়তে এটা করলে ‘আল্লাহর নিকটে তা পূর্ণাঙ্গ কুরবানী’ হিসাবে গৃহীত হবে।[3]

৩. আরাফার দিনের ছিয়াম : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আরাফার দিনের ছিয়াম (যারা আরাফাতের বাইরে থাকেন তাদের জন্য) আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তা বিগত এক বছরের ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে’।[4]

৪. ঈদায়নের তাকবীর ধ্বনি : এটি ‘ঈদের নিদর্শন’ (আল-মুগনী ২/২৫৬)। ৯ই যিলহজ্জ ফজর থেকে ১৩ই যিলহজ্জ আইয়ামে তাশরীক্ব-এর শেষ দিন আছর পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ছালাত শেষে দুই বা তিন বার করে ও অন্যান্য সময়ে উচ্চকণ্ঠে তাকবীর ধ্বনি করা সুন্নাত (নায়েল ৪/২৭৮)। ঈদুল ফিৎরের দিন সকালে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে খুৎবা শুরুর আগ পর্যন্ত তাকবীর ধ্বনি করবে। ইমাম তাকবীর দিলে তারাও তাকবীর দিবে (ইরওয়া হা/৬৪৯-৫৪, ৩/১২১-২৫)।

৫. তাকবীরের শব্দাবলী : ইমাম মালেক ও আহমাদ (রহঃ) বলেন, তাকবীরের শব্দ ও সংখ্যার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। হযরত ওমর, আলী, ইবনু মাসঊদ, ইবনু আববাস (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ তাকবীর দিতেন ‘আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু; ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, ওয়া লিল্লা-হিল হাম্দ’।[5] এছাড়া ‘আল্লা-হু আকবার কাবীরা, ওয়াল হামদু লিল্লা-হি কাছীরা, ওয়া সুবহানাল্লা-হি বুকরাতাঁও ওয়া আছীলা’। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) এটাকে ‘সুন্দর’ বলেছেন।[6]

৬.ঈদায়নের সময়কাল : ঈদুল আযহায় সূর্য এক ‘নেযা’ পরিমাণ ও ঈদুল ফিৎরে দুই ‘নেযা’ পরিমাণ অর্থাৎ সাড়ে ছয় হাত উপরে (মির‘আত ৫/৬২) উঠার পরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদের ছালাত আদায় করতেন। অতএব ঈদুল আযহার ছালাত সূর্যোদয়ের পরপরই যথাসম্ভব দ্রুত শুরু করা উচিত।

৭. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদুল ফিৎরের দিন সকালে বেজোড় সংখ্যক খেজুর বা অন্য কিছু না খেয়ে ঈদগাহে বের হ’তেন না এবং ঈদুল আযহার দিন ছালাত শেষে ফিরে না আসা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না।[7] তিনি স্বীয় কুরবানীর গোশত দ্বারা ইফতার করতেন (আহমাদ হা/২৩০৩৪)। বায়হাক্বীর বর্ণনায় নির্দিষ্টভাবে ‘কলিজা’র কথা এসেছে, তবে তা যঈফ।[8]

৮. মহিলাদের ঈদের ছালাত : (ক) ঈদায়নের জামা‘আতে পুরুষদের পিছনে পর্দার মধ্যে মহিলাগণ প্রত্যেকে বড় চাদরে আবৃত হয়ে যোগদান করবেন। উম্মে ‘আত্বিইয়া (রাঃ) বলেন, ‘আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হ’ল, যেন আমরা ঋতুবতী ও পর্দানশীন মহিলাদেরকে দুই ঈদের দিন বের করে নিয়ে যাই। যেন তারা মুসলমানদের জামা‘আতে ও দো‘আয় শরীক হ’তে পারে। তবে ঋতুবতী মহিলারা একদিকে সরে বসবেন। জনৈকা মহিলা বললেন, আমাদের অনেকের বড় চাদর নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তার সাথী তাকে নিজের চাদর দ্বারা আবৃত করে নিয়ে যাবে’।[9] সেখানে ঋতুবতীরা ছালাত ব্যতীত সবকিছুতে শরীক হবেন। (খ) পুরুষদের জামা‘আতে শরীক হওয়া অসম্ভব বিবেচিত হ’লে মহিলাগণ ঘরে একাকী বা নিজেদের ইমামতিতে জামা‘আত সহকারে ঈদের ছালাত আদায় করায় কোন বাধা নেই। বরং তারা এতে অধিক ছওয়াবের অধিকারী হবেন।[10]

৯. সম্মিলিত দো‘আ নয় : মিশকাতের আরবী ভাষ্যকার ছাহেবে মির‘আত বলেন, হাদীছের শেষে বর্ণিত ‘ওয়া দা‘ওয়াতাল মুসলিমীন’ অর্থাৎ মুসলমানদের দো‘আয় শরীক হওয়া কথাটি ‘আম। এর দ্বারা ইমামের খুৎবা, যিকর ও নছীহত শ্রবণে শরীক হওয়ার কথা বুঝানো হয়েছে। কেননা ঈদায়নের ছালাত শেষে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দো‘আ করার পক্ষে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন প্রমাণ নেই।[11]

১০. ঈদায়নের ছালাতে অতিরিক্ত তাকবীর : প্রথম রাক‘আতে তাকবীরে তাহরীমা ও ছানা পড়ার পর ক্বিরাআতের পূর্বে সাত ও দ্বিতীয় রাক‘আতে উঠে ছালাতের তাকবীর শেষে ক্বিরাআতের পূর্বে পাঁচ মোট বারো তাকবীর দেওয়া সুন্নাত। প্রচলিত নিয়মে ছয় তাকবীরের পক্ষে কোন বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই।

চার খলীফা ও মদীনার শ্রেষ্ঠ সাত জন তাবেঈ ফক্বীহ সহ প্রায় সকল ছাহাবী, তাবেঈ, তিন ইমাম ও অন্যান্য শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ ও মুজতাহিদ ইমামগণ এবং ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর দুই প্রধান শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রহঃ) বারো তাকবীরের উপরে আমল করতেন। ভারতের দু’জন খ্যাতনামা হানাফী বিদ্বান আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী ও আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহঃ) বারো তাকবীরকে সমর্থন করেছেন।[12]

ছয় তাকবীরের অবস্থা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ‘ছয় তাকবীরে’ ঈদের ছালাত আদায় করেছেন- মর্মে ছহীহ বা যঈফ কোন স্পষ্ট মরফূ হাদীছ নেই। ‘জানাযার তাকবীরের ন্যায় চার তাকবীর’ বলে মিশকাতে।[13] এবং ৫+৪ ‘নয় তাকবীর’ বলে মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাকে (হা/৫৬৮৫, ৫৬৮৯) ও মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাতে (হা/৫৭৪৬-৪৭) ইবনু আববাস, মুগীরা বিন শো‘বাহ ও ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে যে আছারগুলি এসেছে সবই যঈফ।[14] এ বিষয়ে ইমাম বায়হাক্বী বলেন, ‘এটি আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ)-এর ‘ব্যক্তিগত রায়’ মাত্র। অতএব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হ’তে বর্ণিত মরফূ হাদীছ, যার উপরে মুসলমানদের আমল জারী আছে (অর্থাৎ বারো তাকবীর) তার উপরে আমল করাই উত্তম’।[15]

ইবনু হাযম আন্দালুসী (রহঃ) বলেন, ‘জানাযার চার তাকবীরের ন্যায়’ মর্মের বর্ণনাটি যদি ‘ছহীহ’ বলে ধরে নেওয়া হয়[16], তথাপি এর মধ্যে ছয় তাকবীরের পক্ষে কোন দলীল নেই। কারণ সেখানে ১ম রাক‘আতে ক্বিরাআতের পূর্বে চার ও ২য় রাক‘আতে ক্বিরাআতের পরে চার তাকবীর দিতে হবে বলে কোন কথা নেই। বরং এটাই স্পষ্ট যে, দুই রাক‘আতেই জানাযার ছালাতের ন্যায় চারটি করে (আটটি অতিরিক্ত) তাকবীর দিতে হবে’।[17]

১১. ঈদায়নের ছালাত আদায়ের পদ্ধতি : ওযূ সহ ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে বাম হাতের উপরে ডান হাত বুকের উপরে বাঁধবে। অতঃপর ‘ছানা’ পড়বে। অতঃপর ‘আল্লাহু আকবর’ বলে ধীর-স্থিরভাবে দুই তাকবীরের মাঝে স্বল্প বিরতিসহ পরপর সাতটি তাকবীর দিবে। প্রতি তাকবীরে হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবে, অতঃপর পূর্বের ন্যায় বুকে বাঁধবে। তাকবীর শেষ হ’লে প্রথম রাক‘আতে আ‘ঊযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পূর্ণভাবে পড়ে ইমাম হ’লে সরবে সূরা ফাতেহা ও অন্য একটি সূরা পড়বে। মুক্তাদী হ’লে নীরবে কেবল সূরা ফাতেহা ইমামের পিছে পিছে পড়বে ও ইমামের ক্বিরাআত শুনবে। অতঃপর দ্বিতীয় রাক‘আতে দাঁড়িয়ে পূর্বের নিয়মে ধীর-স্থিরভাবে দুই তাকবীরের মাঝে স্বল্প বিরতিসহ পরপর পাঁচটি তাকবীর দিবে। তারপর ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ অন্তে সূরা ফাতেহা ও অন্য একটি সূরা পড়বে।

ঈদায়নের ছালাতে ১ম ও ২য় রাক‘আতে যথাক্রমে সূরা আ‘লা ও গাশিয়াহ অথবা সূরা ক্বাফ ও ক্বামার পড়া সুন্নাত। ঈদায়নের জন্য প্রথমে ছালাত ও পরে খুৎবা প্রদান করতে হয়। এর আগে পিছে কোন ছালাত নেই, আযান বা এক্বামত নেই। ঈদগাহে বের হবার সময় উচ্চকণ্ঠে তাকবীর এবং পৌঁছার পরেও তাকবীর ধ্বনি ব্যতীত কাউকে জলদি আসার জন্য আহবান করাও ঠিক নয়।

১২. একটি খুৎবাই সুন্নাত : ছহীহ হাদীছ সমূহের বর্ণনা মতে ঈদায়নের খুৎবা মাত্র একটি।[18] মাঝখানে বসে দু’টি খুৎবা প্রদান সম্পর্কে ইবনু মাজাহ (হা/১২৮৯) ও বাযযারে (হা/১১১৬) কয়েকটি ‘যঈফ’ হাদীছ এসেছে, যা ছহীহ হাদীছ সমূহের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য নয়। ছাহেবে সুবুলুস সালাম ও ছাহেবে মির‘আত বলেন, ‘প্রচলিত দুই খুৎবার নিয়মটি মূলতঃ জুম‘আর দুই খুৎবার উপরে ক্বিয়াস করেই চালু হয়েছে। এটি রাসূল (ছাঃ)-এর ‘আমল’ দ্বারা এবং কোন নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়’।[19]

ছালাতের পর খুৎবা শোনা সুন্নাত। যারা কারণ ছাড়াই খুৎবা না শুনে চলে যান, তারা খুৎবা শোনার ছওয়াব ও বরকত থেকে মাহরূম হন।

১৩. কুরবানী করা সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ : এটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানা হ’তে অদ্যাবধি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ‘সুন্নাতে ইব্রাহীমী’ হিসাবে প্রচলিত।[20] এটি ইসলামের অন্যতম ‘মহান নিদর্শন’ (মির‘আত ৫/৭৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজে প্রতি বছর কুরবানী করেছেন এবং ছাহাবীগণও নিয়মিতভাবে কুরবানী করেছেন (মির‘আত ৫/৭১, ৭৩ পৃ.)। তিনি বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়’।[21] এটি সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। এটি ওয়াজিব নয় যে, যেকোন মূল্যে প্রত্যেককে কুরবানী করতেই হবে। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে, সেজন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হযরত আবুবকর ছিদ্দীক, ওমর ফারূক, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস, বেলাল, আবু মাসঊদ আনছারী (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ কখনো কখনো কুরবানী করতেন না।[22]

১৪. কুরবানীর সময়কাল : ঈদুল আযহার ছালাত ও খুৎবা শেষ হওয়ার পূর্বে কুরবানী করা নিষিদ্ধ। করলে তাকে তদস্থলে আরেকটি কুরবানী দিতে হবে।[23] অতঃপর ১১, ১২, ১৩ই যিলহজ্জ আইয়ামে তাশরীক্বের তিনদিনে রাত-দিন যেকোন সময় কুরবানী করা যাবে (মির‘আত ৫/১০৬ পৃ.)।

১৫. কুরবানীর পশু : এটা তিন প্রকার- ছাগল, গরু ও উট। দুম্বা ও ভেড়া ছাগলের মধ্যে গণ্য। প্রত্যেকটির নর ও মাদি।[24] এগুলির বাইরে অন্য কোন পশু দিয়ে কুরবানী করার কোন প্রমাণ নেই। কুরবানীর পশু সুঠাম, সুন্দর ও নিখুঁৎ হ’তে হবে। চার ধরনের পশু কুরবানী করা নাজায়েয। স্পষ্ট খোঁড়া, স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট রোগী ও জীর্ণশীর্ণ এবং অর্ধেক কান কাটা বা ছিদ্র করা ও অর্ধেক শিং ভাঙ্গা।[25] তবে নিখুঁৎ পশু ক্রয়ের পর যদি নতুন করে খুঁৎ হয় বা পুরানো কোন দোষ বেরিয়ে আসে, তাহ’লে ঐ পশু দ্বারাই কুরবানী বৈধ হবে’ (মির‘আত ৫/৯৯)। উল্লেখ্য যে, খাসি করা কোন খুঁৎ নয়। বরং এতে পাঁঠা ছাগলের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং গোশত রুচিকর হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজে দু’টি মোটাতাজা খাসি দিয়ে কুরবানী করেছেন।[26]

১৬. ‘মুসিন্নাহ’ পশু দ্বারা কুরবানী : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমরা দুধে দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত ওঠা (মুসিন্নাহ) পশু ব্যতীত যবহ করো না। তবে কষ্টকর হ’লে এক বছর পূর্ণকারী ভেড়া (দুম্বা বা ছাগল) কুরবানী করতে পার’।[27] জমহূর বিদ্বানগণ অন্যান্য হাদীছের আলোকে এই হাদীছে নির্দেশিত ‘মুসিন্নাহ’ পশুকে কুরবানীর জন্য ‘উত্তম’ বলেছেন (মির‘আত ৫/৮০ পৃ.)। ‘মুসিন্নাহ’ পশু ষষ্ঠ বছরে পদার্পণকারী উট এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী গরু বা দ্বিতীয় বছরে পদার্পণকারী ছাগল-ভেড়া-দুম্বাকে বলা হয় (মির‘আত ৫/৭৮-৭৯ পৃ.)। কেননা এই বয়সে সাধারণতঃ এই সব পশুর দুধে দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত উঠে থাকে। তবে অনেক পশুর বয়স বেশী ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সময়ে দাঁত ওঠে না। এসব পশু দ্বারা কুরবানী করা ইনশাআল্লাহ কোন দোষের হবে না।

১৭. নিজের ও নিজ পরিবারের পক্ষ হ’তে একটি পশু যথেষ্ট : (ক) মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একটি শিংওয়ালা সুন্দর সাদা-কালো দুম্বা আনতে বললেন, …অতঃপর নিম্নোক্ত দো‘আ পড়লেন, -‘আল্লাহর নামে (কুরবানী করছি), হে আল্লাহ! তুমি এটি কবুল কর মুহাম্মাদের পক্ষ হ’তে, তার পরিবারের পক্ষ হ’তে ও তার উম্মতের পক্ষ হ’তে’। এরপর উক্ত দুম্বা দ্বারা কুরবানী করলেন’।[28] আলবানী বলেন, ‘এর অর্থ কুরবানীর ছওয়াবে উম্মতকে শরীক করা। কেননা সকল বিদ্বানের ঐক্যমতে একটি ছাগল একটি পরিবারের বেশী অন্যদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নয়’।[29] (খ) আবু আইয়ূব আনছারী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হ’ল, রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় কুরবানীর রীতি কি ছিল? জওয়াবে তিনি বলেন, ছাহাবীগণ নিজের ও নিজ পরিবারের পক্ষ হ’তে একটি বকরী কুরবানী দিতেন। অতঃপর নিজেরা খেতেন ও অন্যদের খাওয়াতেন। এমনকি লোকেরা বড়াই করত। সেই রীতি চলছে যেমন তুমি দেখছ।[30](গ) ধনাঢ্য ছাহাবী আবু সারীহা (রাঃ) বলেন, সুন্নাত জানার পর লোকেরা পরিবারপিছু একটি বা দু’টি করে বকরী কুরবানী দিত। অথচ এখন প্রতিবেশীরা আমাদের কৃপণ বলছে’ (ইবনু মাজাহ হা/৩১৪৮)। (ঘ) বিদায় হজ্জে আরাফার দিন সমবেত জনমন্ডলীকে উদ্দেশ্য করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘হে জনগণ! নিশ্চয়ই প্রত্যেক পরিবারের উপর প্রতি বছর একটি করে কুরবানী ও আতীরাহ’। আবুদাঊদ (রহঃ) বলেন, রজব মাসের ‘আতীরাহ’ প্রদানের হুকুম পরে রহিত করা হয়।[31] আর ‘কুরবানী’ অর্থ আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ঈদুল আযহার দিন যে পশু যবহ করা হয়।[32] অতএব একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য সংখ্যা যত বেশীই হৌক না কেন, সকলের পক্ষ থেকে একটি পশুই যথেষ্ট। এক পিতার সন্তান হ’লেও পৃথকান্ন হ’লে তারা পৃথক পরিবার হিসাবে গণ্য হবেন। তবে তারা পৃথক কুরবানীর জন্য পিতাকে অর্থ সাহায্য করতে পারেন।

১৮. কুরবানীতে শরীক হওয়া : (ক) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। এমতাবস্থায় কুরবানীর ঈদ উপস্থিত হ’ল। তখন আমরা সাত জনে একটি গরু ও দশ জনে একটি উটে শরীক হ’লাম।[33](খ) হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, আমরা (৬ষ্ঠ হিজরীতে) হোদায়বিয়ার সফরে প্রতি সাত জনে একটি উট ও গরু কুরবানী করি’।[34](গ) তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে হজ্জের সফরে ছিলাম। তখন তিনি আমাদেরকে একটি গরু ও উটে সাতজন করে শরীক হওয়ার নির্দেশ দেন’।[35]

উপরোক্ত হাদীছ সমূহে বুঝা যায় যে, সফরে সাতজনে মিলে একটি উট বা গরু কুরবানী করা যায়। যাতে এইসব বড় পশু যবহ ও কুটাবাছা এবং গোশত বিতরণ সহজ হয়। এটি উম্মতের জন্য রহমত স্বরূপ। সেকারণ লায়েছ বিন সা‘দ (রহঃ) উট বা গরুতে শরীকানা কুরবানীর বিষয়টি সফরের সাথে ‘খাছ’ বলেছেন।[36] যদিও জমহূর ওলামায়ে কেরাম হজ্জের সময় উট বা গরুতে শরীকানা কুরবানীর উপর ক্বিয়াস করে বাড়ীতে ও সফরে সর্বাবস্থায় শরীকানা কুরবানী জায়েয বলেছেন। কিন্তু ইমাম মালেক (রহঃ) একে নাজায়েয বলেছেন (মির‘আত ৫/৮৫)। কেননা জাবের (রাঃ) বর্ণিত ‘একটি গরু বা উট সাত জনের পক্ষ হ’তে’।[37] হাদীছটি মুৎলাক্ব। যেখানে বাড়ীতে বা সফরে বলে কোন ব্যাখ্যা নেই। কিন্তু একই রাবীর বর্ণিত আবুদাঊদ ২৮০৭ ও ২৮০৯ নম্বর হাদীছে এটি হজ্জ ও হোদায়বিয়ার সফরের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে ব্যাখ্যা এসেছে। অতএব দলীলের ক্ষেত্রে একই রাবীর বর্ণিত ব্যাখ্যাশূন্য হাদীছের স্থলে ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীছ গ্রহণ করাই মুহাদ্দিছগণের সর্ববাদী সম্মত রীতি।

অনেকে ৭-এর বদলে ৩, ৫, ১০ ভাগে কুরবানী করেন, যা প্রমাণহীন। অনেকে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দেন, আবার একটি গরুর ভাগা নেন। অনেকে বকরী বা খাসী না দিয়ে বড় গরুতে ভাগী হন, মূলতঃ গোশত বেশী পাবার জন্য। ‘নিয়ত’ যখন গোশত খাওয়া, তখন কুরবানীর নেকী তিনি কিভাবে পাবেন? অথচ প্রতি বছর ঈদুল আযহাতে একটি পশু কুরবানী করাই হ’ল রাসূল (ছাঃ)-এর সাধারণ নির্দেশনা।[38] অতএব মুক্বীম অবস্থায় প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি পশু কুরবানী করাই উত্তম।

১৯.কুরবানীর সাথে আক্বীক্বা : ‘দু’টিরই উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করা’ এই (ইসতিহসানের) যুক্তি দেখিয়ে কোন কোন হানাফী বিদ্বান কুরবানীর গরু বা উটে এক বা একাধিক সন্তানের আক্বীক্বা সিদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেছেন (যা এদেশে অনেকের মধ্যে চালু আছে)।[39] হানাফী মাযহাবের স্তম্ভ বলে খ্যাত ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) এই মতের বিরোধিতা করেন। ইমাম শাওকানী (রহঃ) এর ঘোর প্রতিবাদ করে বলেন, এটি শরী‘আত, এখানে সুনির্দিষ্ট দলীল ব্যতীত কিছুই প্রমাণ করা সম্ভব নয়।[40]

২০. কুরবানী করার পদ্ধতি : (ক) উট দাঁড়ানো অবস্থায় এর ‘হলক্বূম’ বা কণ্ঠনালীর গোড়ায় কুরবানীর নিয়তে ‘বিসমিল্লা-হি ওয়াল্লাহু আকবার’ বলে তীক্ষ্ণ অস্ত্রাঘাতের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে ‘নহর’ করতে হয় এবং গরু বা ছাগলের মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে বাম কাতে ফেলে ‘যবহ’ করতে হয়। তবে বাম কাতে ফেলতে ভুলে গেলে দোষের কিছু হবে না (মির‘আত ৫/৭৫)। কুরবানী দাতা ধারালো ছুরি নিয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে দো‘আ পড়ে নিজ হাতে খুব জলদি যবহের কাজ সমাধা করবেন, যেন পশুর কষ্ট কম হয়। অন্যের দ্বারাও যবহ করানো জায়েয আছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি নিজ হাতে করা অথবা যবহের সময় স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করা উত্তম (মির‘আত ৫/৭৪)।

২১.যবহকালীন দো‘আ : (১) বিসমিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু আকবার (অর্থ: আল্লাহর নামে কুরবানী করছি, আল্লাহ সবার চাইতে বড়) (২) বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা তাক্বাববাল মিন্নী ওয়া মিন আহলে বায়তী (আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! তুমি কবুল কর আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ হ’তে)। এখানে কুরবানী অন্যের হ’লে তার নাম মুখে বলবেন অথবা মনে মনে নিয়ত করে বলবেন, ‘বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা তাক্বাববাল মিন ফুলান ওয়া মিন আহলে বায়তিহী’ (…অমুকের ও তার পরিবারের পক্ষ হ’তে)। (৩) যদি দো‘আ ভুলে যান বা ভুল হবার ভয় থাকে, তবে শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ বলে মনে মনে কুরবানীর নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে (মির‘আত ৫/৭৬)।

২২. গোশত বণ্টন : কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজ পরিবারের জন্য, এক ভাগ প্রতিবেশী যারা কুরবানী করতে পারেননি তাদের জন্য ও এক ভাগ সায়েল ফক্বীর-মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করবে। প্রয়োজনে উক্ত বণ্টনে কমবেশী করায় কোন দোষ নেই (মির‘আত ৫/১২০)। কুরবানীর গোশত যত দিন খুশী রেখে খাওয়া যায়।[41] অমুসলিম দরিদ্র প্রতিবেশীকেও দেওয়া যায়।[42]

২৩. মৃত ব্যক্তির জন্য পৃথকভাবে কুরবানী দেওয়ার কোন ছহীহ দলীল নেই। যদি কেউ সেটা করেন, তবে বিখ্যাত তাবেঈ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেন, তাকে সবটুকুই ছাদাক্বা করে দিতে হবে (মির‘আত ৫/৯৩ পৃ.)।

২৪. কুরবানীর গোশত ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।[43] তবে তার চামড়া বিক্রি করে শরী‘আত নির্দেশিত ছাদাক্বার খাত সমূহে দান করবে।[44] অনেকে কুরবানীর গোশত ফ্রিজে জমা করে পরবর্তীতে সাধারণ গোশত হিসাবে বিক্রি করেন। এগুলি প্রতারণা মাত্র। বরং তা ছওয়াবের আশায় অন্যদের মধ্যে ছাদাক্বা বা হাদিয়া হিসাবে বিতরণ করে দিতে হবে। অথবা নিজে রেখে যতদিন খুশী খাবে। তবে এলাকায় অভাব থাকলে তিনদিন পর সবটুকু বিতরণ করে দিবে।[45]

অতএব সরকার, সংস্থা বা সামর্থ্যবানদের উচিত বন্যাদুর্গত বা দুর্ভিক্ষ এলাকায় বেশী বেশী কুরবানী বিতরণ করা। যাতে তারা কুরবানীর আনন্দে শরীক হ’তে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিদায় হজ্জের সময় ১০০ উট কুরবানী করে বিতরণ করেছিলেন।[46] এছাড়া অন্য সময় তিনি ছাহাবীদের মধ্যে কুরবানীর পশু বণ্টন করতেন।[47]

২৫. কুরবানীর পশু যবহ করা কিংবা কুটা-বাছা বাবদ কুরবানীর গোশত বা চামড়ার পয়সা হ’তে কোনরূপ মজুরী দেওয়া যাবে না। ছাহাবীগণ নিজ নিজ পকেট থেকে এই মজুরী দিতেন।[48] অবশ্য ঐ ব্যক্তি দরিদ্র হ’লে হাদিয়া স্বরূপ তাকে কিছু দেওয়ায় দোষ নেই।[49]

২৬. কুরবানীর বদলে তার মূল্য ছাদাক্বা করা নাজায়েয। কেননা আল্লাহর রাহে রক্ত প্রবাহিত করাই এখানে মূল ইবাদত। এটা না করলে তিনি ইসলামের একটি ‘মহান নিদর্শন’ পরিত্যাগের প্রতি ধাবিত হবেন (মির‘আত ৫/৭৩)। যদি কেউ কুরবানীর বদলে তার মূল্য ছাদাক্বা করতে চান, তবে তিনি মুহাম্মাদী শরী‘আতের প্রকাশ্য বিরোধিতা করবেন।

[বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘মাসায়েলে কুরবানী ও আক্বীক্বা’ বই, প্রকাশকাল : ১৪৪৩ হি./২০২২ খৃ.]।

 

[1]. বুখারী হা/৯৬৯; মিশকাত হা/১৪৬০।

[2]. মুসলিম হা/১৯৭৭; মিশকাত হা/১৪৫৯।

[3]. আহমাদ হা/৬৫৭৫; আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/১৪৭৯; মির‘আত হা/১৪৯৩, ৫/১১৭ পৃ.।

[4]. মুসলিম হা/১১৬২; মিশকাত হা/২০৪৪ ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ।

[5]. ইরওয়া ৩/১২৫; মির‘আত ৫/৭০।

[6]. যা-দুল মা‘আদ ২/৩৬০-৬১ পৃ.।

[7]. বুখারী হা/৯৫৩; মিশকাত হা/১৪৩৩; তিরমিযী হা/৫৪২; ইবনু মাজাহ হা/১৭৫৬; মিশকাত হা/১৪৪০।

[8]. বায়হাক্বী ৩/২৮৩; সুবুলুস সালাম হা/৪৫৪-এর আলোচনা।

[9]. বুখারী হা/৯৮১; মুসলিম হা/৮৯০; মিশকাত হা/১৪৩১।

[10]. বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ক্রমিক ১৯৯, ৩০/২৭৭ পৃ.।

[11]. বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১৪৩১; মির‘আত হা/১৪৪৫-এর আলোচনা, ৫/৩১ পৃ.।

[12]. মির‘আত শরহ মিশকাত হা/১৪৫৫-এর আলোচনা, ৫/৪৬, ৫১, ৫২ পৃ.।

[13]. আবুদাঊদ হা/১১৫৩; মিশকাত হা/১৪৪৩, এবং ঐ তাখরীজ-আলবানী, হেদায়াতুর রুওয়াত হা/১৩৮৮, ২/১২১ পৃ., হাদীছ যঈফ।

[14]. তুহফাতুল আহওয়াযী শরহ তিরমিযী ‘ঈদায়নের তাকবীর’ অনুচ্ছেদ হা/৫৩৪-এর আলোচনা, ৩/৮০-৮৮ পৃ.।

[15]. বায়হাক্বী ৩/২৯১; মির‘আত ৫/৫১।

[16]. আবু দাঊদ হা/১১৫৩; মিশকাত হা/১৪৪৩; ছহীহাহ হা/২৯৯৭।

[17]. ইবনু হায্ম, মুহাল্লা মাসআলা ক্রমিক : ৫৪৩, ৫/৮৪-৮৫ পৃ.।

[18]. বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১৪২৬, ১৪২৯।

[19]. সুবুলুস সালাম ১/১৪০; মির‘আত ৫/২৭।

[20]. ইবনু মাজাহ হা/৩১২৭; মিশকাত হা/১৪৭৬।

[21]. ইবনু মাজাহ হা/৩১২৩।

[22]. মির‘আত ৫/৭১-৭৩ ‘কুরবানী’ অনুচ্ছেদের আলোচনা দ্র.।

[23]. বুখারী হা/৫৫৬২; মুসলিম হা/১৯৬০; মিশকাত হা/১৪৭২।

[24]. আন‘আম ৬/১৪৩-৪৪; হজ্জ ২২/৩৪।

[25]. তিরমিযী হা/১৪৯৭ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১৪৬৫।

[26]. ইবনু মাজাহ হা/৩১২২; ইরওয়া হা/১১৩৮, ৪/৩৫১ পৃ.; মিশকাত হা/১৪৬১; মির‘আত হা/১৪৭৬, ৫/৯১-৯২ পৃ.।

[27]. মুসলিম হা/১৯৬৩; মিশকাত হা/১৪৫৫।

[28]. মুসলিম হা/১৯৬৭; মিশকাত হা/১৪৫৪; মির‘আত ১/৭৬।

[29]. মিশকাত হা/১৪৫৪-এর টীকা।

[30]. তিরমিযী হা/১৫০৫; ইবনু মাজাহ হা/১৩৪৭; ইরওয়া হা/১১৪২, ৪/৩৫৫ পৃ.।

[31]. তিরমিযী হা/১৫১৮; আবুদাঊদ হা/২৭৮৮ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১৪৭৮; মির‘আত ৫/১১৪-১৫।

[32]. মির‘আত ৫/৭১; হজ্জ ২২/৩৪।

[33]. তিরমিযী হা/৯০৫; নাসাঈ হা/৪৩৯২ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১৪৬৯; মির‘আত হা/১৪৮৪, ৫/১০১-২ পৃ.।

[34]. মুসলিম হা/১৩১৮ (৩৫০)।

[35]. মুসলিম হা/১৩১৮ (৩৫১)।

[36]. মুহাল্লা, মাসআলা ক্রমিক : ৯৮৪, ৬/৪৫।

[37]. আবুদাঊদ হা/২৮০৮; মিশকাত হা/১৪৫৮।

[38]. আবুদাঊদ হা/২৭৮৮ প্রভৃতি; মিশকাত হা/১৪৭৮; মির‘আত হা/১৪৯২, ৫/১১৪ পৃ.।

[39]. হেদায়া ৪/৪৩৩; বেহেশতী জেওর ‘আক্বীক্বা’ অধ্যায় ১/৩০০ পৃ.।

[40]. নায়লুল আওত্বার, ‘আক্বীক্বা’ অধ্যায় ৬/২৬৮ পৃ.।

[41]. তিরমিযী হা/১৫১০; আহমাদ হা/২৬৪৫৮।

[42]. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১২৮।

[43]. আহমাদ হা/১৬২৫৫-৫৬; মির‘আত ৫/১২১।

[44]. মির‘আত ৫/১২১; তওবা ৯/৬০।

[45]. বুখারী হা/৫৫৬৯; মুসলিম হা/১৯৭৪; মিশকাত হা/২৬৪৪ ।

[46]. মুসলিম হা/১২১৮ (১৪৭); মিশকাত হা/২৫৫৫।

[47]. বুখারী হা/২৫০০; মুসলিম হা/১৯৬৫; মিশকাত হা/১৪৫৬; মির‘আত ৫/৮২।

[48]. মুসলিম হা/১৩১৭; বুখারী হা/১৭১৭; মিশকাত হা/২৬৩৮।

[49]. বুঃ মুঃ মিশকাত হা/২৬৩৮; মির‘আত হা/২৬৬২-এর আলোচনা, ৯/২৩০ পৃ.।