ঢাকা, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ । ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

১০২ বছরে পদার্পণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২২

জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার ১০১ পেরিয়ে ১০২ বছরে পদার্পণ করেছে আজ। শিক্ষা-গবেষণার বিস্তার, মুক্তচিন্তার উন্মেষ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে পথচলা শুরু হয় ঢাবির। এবারের প্রতিপাদ্য– গবেষণা ও উদ্ভাবন : ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা।

৩ অনুষদ, ১২ বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ শিক্ষার্থী এবং ৩ আবাসিক হল নিয়ে ১৯২১ সালের ১ জুলাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ১৩ অনুষদ, ৮৪ বিভাগ, ১৩ ইনস্টিটিউট, ১৯৮৬ জন শিক্ষক, প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১৯টি আবাসিক হল ও ৪টি হোস্টেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এসব আন্দোলনে অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের আনাচকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস, রচিত হয়েছে ইতিহাসের নানা অধ্যায়।

১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের সকল সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে গৌরবময় ইতিহাস। আমরা অবকাঠামো এবং একাডেমিক প্ল্যান এই দুইটিকে সমন্বয় করে আগামীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলতে চাই।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য– গবেষণা ও উদ্ভাবন: ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা আগামীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলব। আমরা চাচ্ছি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে র‍্যাংকিংয়ের জন্য যে প্যারামিটারগুলো আছে সেসব বিষয়ে উন্নতি সাধন করতে। মাস্টারপ্ল্যান এবং শিক্ষা প্ল্যানের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্যা উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।

ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারেনি। যার মূল কারণ রাষ্ট্রও সেভাবে সহযোগিতা করেনি। আমরা যদি দেখি ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শত্রুতা লেগে ছিল। ১৯৭১ সালে তো সেটা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেল। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একদম নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস চালিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। একাত্তরের পরও রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক সম্পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতামূলক হয়নি, এর বিভিন্ন কারণও আছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের আগ্রহ কমে যাওয়াও একটি কারণ। আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণ হলো শিক্ষার সঙ্গে জীবিকার সম্পর্ক আগের মতো নেই।

   আগের খবর সারাদেশে শিক্ষকদের লাঞ্চনার প্রতিবাদে বশেমুরবিপ্রবিতে ৯ শিক্ষকের প্রতিবাদ
সারাদেশে শিক্ষকদের লাঞ্চনার প্রতিবাদে বশেমুরবিপ্রবিতে ৯ শিক্ষকের প্রতিবাদ

এই বিভাগের সর্বশেষ

ব্রেকিং নিউজ