বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট

প্রকাশিত: ৩:১৪ অপরাহ্ণ , জুন ২৬, ২০২২

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইড কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

রোববার নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড প্রদান, চিকিৎসা সেবা প্রদান, সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বুকলেটের মোড়ক উম্মোচন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশিত ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং আইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম আজ থেকে শুরু করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৩টি জেলার ৩৭ হাজার ৯১ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ডিজিটাল সনদ ও কার্ড প্রদান করা হবে।”

এ সময় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রঞ্জিত কুমার দাসসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, “প্রথম পর্যায়ে গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নড়াইল ও গাজীপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই কার্ড দেয়া হবে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “এই সার্টিফিকেট এবং কার্ড উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকেই বিতরণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা জীবিত আছেন তারা সার্টিফিকেট এবং আইডি কার্ড দুটিই পাবেন। কিন্তু যে সকল মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন, তাদের জন্য শুধু ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেয়া হবে।”

তিনি বলেন, “ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড যাতে কেউ জাল করতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল সার্টিফিকেটে ১৪ ধরণের এবং ডিজিটাল আইডি কার্ডে ১২ ধরণের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, “উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতাল এবং ঢাকার ২২টি বিশেষায়িত হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই হাসপাতালগুলোর রিকুইজিশন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিদেশে কোন মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে।”

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ভুল থাকলে নিজ নিজ উপজেলায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, “নিজ নিজ উপজেলায় দেওয়া অভিযোগের শুনানীর ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ভুল থাকলে তা বাতিল করা হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ১১ হাজার নাম বাতিল করা হয়েছে।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বীরঙ্গনা এবং প্রবাসীরা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের জন্য দেশে থাকা আর কেউ আবেদন করতে পারবেন না। কারণ যে অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারবর্গকে দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তালিকা সম্বলিত বুকলেট বিতরণ করা হয়।