ধর্ষণের ঘটনা বলে দিতে চাওয়ায় গার্মেন্টকর্মী শারমিনকে হত্যার পর মাটিচাপা

প্রকাশিত: ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ , এপ্রিল ১৮, ২০২২

ধর্ষণের ঘটনা বলে দিতে চাওয়ায় গার্মেন্টকর্মী শারমিন বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর রাজধানীর খিলক্ষেতের তিনশ ফিট এলাকায় মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায় রিকশাচালক সুমন কুমার।

রোববার (১৭ এপ্রিল) রাতে খিলক্ষেতের কুড়াতলী কালীবাড়ি মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এর আগে শনিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর খিলক্ষেতের তিনশ ফিট এলাকা থেকে মাটিচাপা দেওয়া শারমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেফতার সুমন কুমার পেশায় একজন রিকশাচালক। নিহত শারমিন খিলক্ষেতে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সুমন বেশ কিছুদিন ধরে শারমিনের গার্মেন্টস ও বাসায় আসা-যাওয়ার পথে তাকে অনুসরণ করতেন। ১০/১২ দিন আগে শারমিনের সঙ্গে সুমনের প্রথম পরিচয় হয়। চার-পাঁচ দিন ধরে শারমিনের সঙ্গে মোবাইলে কথা হচ্ছিল তার। গত ১৩ এপ্রিল নিহত শারমিনকে রিকশায় নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন সুমন। ১৫ এপ্রিল আবারও ঘুরতে বের হওয়ার কথা বলে শারমিনকে তার বাসা থেকে খিলক্ষেতের তিনশ ফিট এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে ধর্ষণ করেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, ধর্ষণের কথা গোপন করতে বললেও তা অস্বীকৃতি জানায় শারমিন। তিনি সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে শারমিনকে হত্যা করেন সুমন। পরে রাস্তার পাশে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যান।

এদিকে, সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যে র‌্যাব শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইলের সিম উদ্ধার করেছে। ওই সিমটি সুমনের এক বন্ধুর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে খিলক্ষেতের তিনশ ফিট এলাকায় অজ্ঞাত নারীকে (৩৮) শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

ওইদিন রাতে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। ওই নারীর নাম শারমিন বেগম (৩৮)। বাবার নাম আবদুর রহমান ও মা আয়েশা খাতুন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুরে।