আটক ২

কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে কিশোরীকে গণধর্ষণ

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ , আগস্ট ২৮, ২০২০

বরগুনার আমতলী উপজেলার ১৩ বছরের এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় জিসান (১৮) ও সাগর (২১) নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের আবাসিক হোটেলে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে আমতলী থানা পুলিশ জিসান ওরফে সোহেলকে কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়ন থেকে এবং সাগরকে আমতলী পৌর এলাকার চৌরাস্তা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জিসান ও সাগরকে বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ধর্ষণের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমতলী থানায় মঙ্গলবার দুপুরে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই শিক্ষার্থী আমতলী পৌরসভার মফিজ উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
মোবাইল ফোনে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তার হওয়া জিসান ওরফে সোহেল মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের বাদশা গাজীর ছেলে এবং ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক। সাগর আমতলী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সানু হাওলাদারের ছেলে।
আমতলী থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের বাদশা গাজীর ছেলে জিসান ওরফে সোহেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর বন্ধুত্ব হয়। একপর্যায়ে জিসান ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। গেলো সোমবার শেষ বিকেলে জিসান দেখা করতে আমতলী পৌর এলাকায় ওই শিক্ষার্থীর বাসার সামনে যায়।
এরপর ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে কল করলে সে বাসা থেকে বের হয়ে জিসানের সঙ্গে দেখা করে। এ সময় জিসান তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে একটি অটোরিক্সায় তুলে আমতলী সদর ইউনিয়নের খুড়িয়ার খেয়াঘাটের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ছিল একটি ভাড়াটে মোটরসাইকেল। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলে তুলে কুয়াকাটায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই দিন রাত ৮টার সময় কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের হোটেল রাজু নামের একটি আবাসিক হোটেলে তারা ওঠে। পরে হোটেল রাজু থেকে শিক্ষার্থীকে নিয়ে ওঠানো হয় সাগর নীড় নামে অপর একটি আবাসিক হোটেলে। হোটেলটির নীচ তলার দু’টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে জিসান ওরফে সোহেল ও সাগরসহ পাঁচজনে মিলে ধর্ষণ করে ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে।
মঙ্গলবার সকালে ধর্ষণকারীরা ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে একটি পরিবহনে তুলে আমতলী পাঠিয়ে দেয়। সে বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীর মা আমতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে বাকীদের অজ্ঞাত দেখানো হয়।
আমতলী থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ধর্ষিত শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকী আসামিদেরকেও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্ষিত হওয়া শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সাগর নীড় আবাসিক হোটেলের রেজিষ্ট্রারে সঠিকভাবে নাম লিপিবদ্ধ করা হয়নি। তাছাড়া দুটি কক্ষ নিয়ে তারা ৬ জন অবস্থান করলেও রেজিস্টারে মাত্র একজনের নাম লেখা হয়। হোটেলটির রেজিস্টার খাতা জব্দ করা হয়েছে।’